ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩
বইমেলা ও বই পড়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভাবনা
রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী
প্রকাশ: Wednesday, 11 March, 2026, 8:52 PM

বইমেলা ও বই পড়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভাবনা

বইমেলা ও বই পড়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভাবনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলা একাডেমির অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে কয়েকটি পরামর্শ বা আহ্বান রেখেছেন, যা অবশ্যই দেশের জ্ঞানী-গুণী শিল্প-সাহিত্যসেবীদের ভেবে দেখার বিষয়। প্রথমত, তিনি বইমেলাকে রাজধানী ঢাকা থেকে দেশের জেলা-উপজেলা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিস্তার ঘটানোর কথা বলেছেন। দ্বিতীয়ত, বাংলাভাষাকে জাতিসংঘের অফিসিয়াল ভাষার স্বীকৃতি আদায়ের জন্য চেষ্টার কথা বলেছেন। তৃতীয়ত, বইয়ের প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বাড়ানোর উপায় বের করার কথা বলেছেন। চতুর্থত, কাগজে ছাপা বই পড়ার শারীরিক ও মানসিক উপকারিতার কথা বলেছেন এবং পঞ্চমত, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের মনিটরে বা স্ক্রিনে বই পড়ার ভয়াবহ ক্ষতিকর দিক তুলে ধরেছেন, যা প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, এক. মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ৫২'র ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে আমরা সগৌরবে প্রতিবছর একুশ পালন করে থাকি। দিবসটি এখন শুধু আর বাংলাদেশের নয় অমর একুশে এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে সারা বিশ্বেই পালিত হচ্ছে। ৫২'র ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে এই স্থানটি অর্থাৎ এই বাংলা একাডেমি। বাংলা একাডেমির সৃজনশীল কার্যক্রমের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ অমর একুশে বইমেলা। তবে সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী বছরগুলোতে অমর একুশে বইমেলা, অমর এক আন্তর্জাতিক বইমেলা হিসেবে আয়োজন করার সুযোগ রয়েছে কি না সেটি আমি আপনাদের সকলকে ভেবে দেখার অনুরোধ জানাবো। অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা অনুষ্ঠিত হলে বিশ্ব সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি বহু ভাষা এবং সংস্কৃতি শেখা- জানা এবং বোঝার দিকে আমাদের নাগরিকদের আগ্রহী করে তুলতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে বিশ্বাস করি বা মনে করি। বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজে এই সময় মাতৃভাষা ছাড়াও আরো একাধিক ভাষার সঙ্গে পরিচিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সমৃদ্ধি এবং সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে জ্ঞান এবং মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার মনে হয় বিকল্প নেই আমাদের সামনে। এজন্য জ্ঞানে বিজ্ঞানে প্রযুক্তিতে মেধায় নিজেদের সমৃদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাংলাভাষাকে জাতিসংঘের অফিশিয়াল ভাষা হিসেবে স্বীকৃত আদায়ের জন্য আমাদের মনে হয় কাজ শুরু করা প্রয়োজন।

দুই, অমর একুশে বইমেলা শুধু একটি নির্দিষ্ট মাসে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সীমাবদ্ধ না রেখে বরং সারা বছর দেশের সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় আয়োজিত করা যেতে পারে। এ ব্যাপারে বই প্রকাশকগণ উদ্যোগী হয়ে ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করি এবং সরকারের পক্ষ থেকে যদি সহযোগিতার কোনো অবকাশ থাকে অবশ্যই বর্তমান সরকার সেখানে এগিয়ে আসবে। একই সঙ্গে এ ব্যাপারে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় আপনাদেরকে নিশ্চয়ই প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে এবং তিন. বিজ্ঞানী এবং গবেষকরা বলছেন, বই শুধু বিদ্যা শিক্ষা কিংবা অবসরের সঙ্গী নয় বরং বই পড়া মস্তিষ্কের জন্য এক ধরনের ব্যায়াম। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস মস্তিষ্কের কোষগুলোর মধ্যে নতুন সংযোগ তৈরি করে যেটি মানুষের স্মৃতিশক্তি এবং জাজমেন্ট বা বিশ্লেষণী ক্ষমতা বাড়ায়। এমনকি আলজাইমার বা ডিভেনশিয়ার মতো রোগের ঝুঁকিও ক্ষেত্রবিশেষে কমিয়ে নিয়ে আসে। তবে বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি মানুষের বই পড়ার অভ্যাসে মনে হয় প্রধান বাধা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে ইন্টারনেট আসক্তি তরুণ প্রজন্মকে খুব সম্ভবত বইবিমুখ করে তুলছে। ধীরে ধীরে ইন্টারনেটে অবশ্যই বই পড়া যায় তবে গবেষকরা বলছেন বইয়ের পাতায় কালো অক্ষরে লেখা বই পড়ার মধ্যে যে জ্ঞানের গভীরতা উপভোগ করা যায় তা দিনের পর দিন কম্পিউটারের মনিটরে ডুবে থেকে অর্জন করা সম্ভব নয়। তবে শরীরে এবং মনোজগতে এর একটা সাইড ইফেক্ট বা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার প্রভাব রয়ে যায়। যুক্তরাজ্য কিংবা কানাডার মতো অনেক উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলছেন, ইন্টারনেট ব্যবহারের আসক্তি পড়াশোনার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সময়ের প্রেক্ষিতে জনজীবনে ইন্টারনেট হয়তো অনিবার্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠলেও এর নেতিবাচক দিকগুলো সম্পর্কে আমাদেরকে অবশ্যই সচেতন হতে হবে, এ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন বোধহয়। বিশেষ করে বইয়ের প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বাড়ানোর উপায় আমাদেরকে বের করতে হবে।

এখন দেশের শিক্ষিত সচেতন অগ্রসর সমাজের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে, এসব বিষয়ে তাদের চিন্তা-ভাবনা স্ব স্ব অবস্থান থেকে তুলে ধরে সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে সহযোগিতা করা। দায়িত্বশীল মহল বিষয়গুলো নিয়ে রাজধানী থেকে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আলোচনা সভা, মতবিনিময় সভা ও সেমিনার আয়োজন করতে পারে। এমনকি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসা পর্যায়ে এসব বিষয়ে বিতর্কের আয়োজন করা যায়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেমন দেশাত্মবোধ জাগ্রত হতে পারে, তেমনি অতিমাত্রায় প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তারা সচেতন হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তিসঙ্গত আলোচনা ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে তারা উপলব্ধি করতে পারে, নিজেকে দেশের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে এবং আলোকিত সমাজ ও দেশ গঠন করতে হলে জ্ঞানার্জন বা বই পড়ার বিকল্প নেই। আর সে বই অবশ্যই হতে হবে কাগজে ছাপা। অস্বীকার করা যাবে না, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বইমেলা ও বই পড়া নিয়ে এমন এক সময়ে কথাগুলো বলেছেন যখন আমাদের সমাজে বই পড়ার অভ্যাস একপ্রকার হারিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবছর বইমেলার আকার বাড়ছে, পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে পাসের হারও ক্রমাগত বাড়ছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বই পড়ার অভ্যাস দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। সমাজ-সচেতনদের মতে, যত দিন যাচ্ছে, ততই আধুনিক হওয়ার চেষ্টা আমাদের।

আধুনিকতার যুগে নিত্যনতুন প্রযুক্তি আসছে এবং সে প্রযুক্তি রপ্ত করতে গিয়ে বই পড়ার অভ্যাস হারিয়ে ফেলছি আমরা। সন্তানদের আবদার মেটাতে গিয়ে তাদের হাতে তুলে দিচ্ছি দামি স্মার্টফোন ল্যাপটপ কিংবা কম্পিউটার। এতে যখন তাদের মাঠে গিয়ে খেলার কথা তখন তারা ইন্টারনেটে গেমে আসক্ত হয়ে পড়ছে। আসক্ত হয়ে পড়ছে নিত্যনতুন প্রযুক্তিতে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষ সারিতে। অতিমাত্রায় প্রযুক্তিনির্ভরতা নতুন প্রজন্মের আচরণেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে পাঠকের অভাবে জাদুঘরে পরিণত হচ্ছে দেশের শত শত পাঠাগার। বিজ্ঞান, অর্থনীতি যত এগোচ্ছে, মানুষের মধ্যে দূরত্ব ও স্বার্থপরতা তত বাড়ছে। গবেষকদের মতে, এই ভারসাম্যহীনতা দূর করতে, মানুষকে শেষ পর্যন্ত বইয়ের কাছেই যেতে হবে। অন্যথায় প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করা যাবে না। নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে উঠবে না। সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণেই অপরাধ বাড়ছে। সভ্যতার শুরু থেকে এটা প্রমাণিত যে, বই মানুষের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চিন্তা-চেতনা ও প্রজ্ঞার মধ্যে সেতুবন্ধ রচনা করে জ্ঞান, বিজ্ঞান, সভ্যতা ও মননশীলতা বিকাশের সিঁড়ি হিসেবে কাজ করে। মানুষের জীবন বিকাশের জন্য বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। বই মানুষকে পরিশীলিত করে, মূল্যবোধের জন্ম দেয়, দৃষ্টিভঙ্গি উদার ও গণতান্ত্রিক করে— এক কথায় তাকে করে তোলে একজন আলোকিত মানুষ। আমাদের সমাজের নৈতিক ভিত্তি আর সামাজিক দর্শন আজও ভঙ্গুর ভিত্তির ওপর দন্ডায়মান। অথচ মানবিক দিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শর্তই হলো এ ভিত্তিটি শক্ত হওয়া। এই ক্ষেত্রে বই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জ্ঞান অর্জন ও মননশীলতা চর্চার বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে সর্বোপরি সহজ ও সুলভ হচ্ছে পঠন। প্রমথ চৌধুরী লিখে গেছেন, 'আমাদের মনে হয় এ দেশে লাইব্রেরির সার্থকতা হাসপাতালের চাইতে কিছু কম নয় এবং স্কুল-কলেজের চাইতে একটু বেশি।' তার এ মন্তব্য থেকেই বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করা যায়। বইয়ের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করে অর্থনৈতিক দৈন্য যেমন ঘুচানোর সম্ভাবনা থাকে তেমনি দৈনন্দিন জীবন সংগ্রামের কর্ম-কোলাহল থেকে সাময়িক মুক্তিও লাভ করা যায়। তাই দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে সবার উচিত বই পড়ার অভ্যাস বাড়ানো। সেই সঙ্গে অন্যদেরও বই পড়তে উৎসাহিত করা। তবে অবশ্যই কাগজে ছাপা বই পড়তে হবে। মোবাইল, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের স্ক্রিনে বই পড়ে অকালে দৃষ্টিশক্তি হারানো বা শারীরিক-মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া শুভবুদ্ধির পরিচয় নয়।

প্রধানমন্ত্রী দেশের জ্ঞানী-গুণী শিক্ষিত সচেতন মানুষকে যে বিষয়গুলো ভেবে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন, তা নিশ্চয়ই তাঁর বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার পরিচয়। প্রথমত, আজ বিশ্বজুড়ে যে মাতৃভাষা দিবস পালিত বা উদযাপিত হচ্ছে তা বাংলাদেশের বায়ান্নর ভাষা-আন্দোলনকে উপলক্ষ করে। সংগতকারণেই জাতিসংঘ স্বীকৃত আন্তর্জাতিক এ দিবসের সবচেয়ে বড় উৎসবটি বাংলাদেশেই হওয়া উচিত এবং সেটা হতে পারে বাংলা একাডেমির অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা। অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাভাষাকে জাতিসংঘের দাফতরিক বা অফিসিয়ালি ভাষার স্বীকৃতি আদায়ের যে চেষ্টার কথা বলেছেন সেটা অবশ্যই যৌক্তিক এবং সময়ের দাবি বলে মনে করা যায়। বর্তমানে জাতিসংঘের ছয়টি দাফতরিক ভাষা হচ্ছে যথাক্রমে আরবি, চীনা, ইংরেজি, ফরাসি, রুশ ও স্প্যানিস। এই ভাষাগুলোতে জাতিসংঘের সমস্ত দাফতরিক নথিপত্র ও সভা পরিচালিত হয়। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, মাতৃ ভাষার সংখ্যা হিসাবে বিশ্বে বাংলাভাষার অবস্থান ষষ্ঠতম। ২৮ কোটির বেশি মানুষ এ ভাষায় কথা বলে। বাংলাভাষা কেবল বাংলাদেশের সাংবিধানিক ও একমাত্র রাষ্ট্রভাষা নয়, একই সঙ্গে সুদূর পশ্চিম আফ্রিকার স্বাধীন দেশ সিয়েরালিওনেরও দ্বিতীয় প্রধান রাষ্ট্রভাষা। পাশাপাশি প্রতিবেশী ভারতের সংবিধান স্বীকৃত ভাষা। পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও আসামের বরাক উপত্যকার অন্যতম দাফতরিক ভাষা বাংলা। এছাড়া দেশটির ঝাড়খন্ড, বিহার, মেঘালয়, মিজোরাম, ওড়িশার মতো রাজ্যগুলোতে রয়েছে বিপুল সংখ্যক বাংলাভাষী। প্রতিবেশী ভারতে হিন্দির পরেই বাংলা সর্বাধিক প্রচলিত ভাষা। বাংলাদেশ ও ভারত দুটি স্বাধীন দেশের জাতীয় সংগীত রচিত বাংলাভাষায় । এমনকি বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত আন্দামান দীপপুঞ্জের প্রধান কথ্য ভাষাও বাংলা। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকা ও ইউরোপের বিপুল সংখ্যক নাগরিক বাংলাভাষী।

সবকিছু মিলিয়ে বাংলাভাষা অবশ্যই জাতিসংঘের দাফতরিক ভাষা হওয়ার দাবি রাখে। এখন দরকার হচ্ছে, এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং বিশ্বব্যাপী জনমত গঠনে বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি করা। আমাদের ভাষা- আন্দোলনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ বিশ্বজুড়ে মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হচ্ছে এটা একসময় কারো চিন্তায় বা কল্পনায়ও ছিল না। প্রজাতন্ত্রের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলী হায়দার 'সুনাগরিক' ছদ্মনামে ১৯৯৪ সালে ৬ এপ্রিল দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত একটি চিঠিতে মহান একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার দাবি জানান। তার যুক্তি ছিল, আমেরিকার শিকাগো শহরের শ্রমিক আন্দোলনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যদি বিশ্বজুড়ে মহান মে দিবস পালিত হতে পারে তাহলে কেন বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা যাবে না? পরবর্তীতে কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশি দুই তরুণ রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সালাম দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত ওই চিঠিটিকে অবলম্বন করে জাতিসংঘের কাছে লিখিত আবেদন জানান এবং জাতিসংঘ তা আমলে নিয়ে একপর্যায়ে মহান একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয়। সত্য হচ্ছে, সদিচ্ছা থাকলে অনেক সময় অনেক অসাধ্যও সাধন করা যায়। ব্যক্তিগতভাবে আমার বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলা একাডেমির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যে বিষয়গুলো সামনে এনেছেন, আন্তরিকভাবে উদ্যোগী হলে তার প্রতিটিই বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব।

লেখক: সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠক। সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, বিএনপি। সাবেক সভাপতি, জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা- জাসাস

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status