ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ১ মার্চ ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২
‘কেউ কথা রাখেনি’ এ মনঃকষ্ট আর নয়
রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী
প্রকাশ: Saturday, 28 February, 2026, 4:28 PM

‘কেউ কথা রাখেনি’ এ মনঃকষ্ট আর নয়

‘কেউ কথা রাখেনি’ এ মনঃকষ্ট আর নয়

‘কেউ কথা রাখেনি’-কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বহুলপঠিত একটি কবিতার পঙ্ক্তি। কথা দিয়ে কথা না রাখা আমাদের দেশের অনেক রাজনীতিবিদের অভ্যাস। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘কেউ কথা রাখেনি’, জনমনের এমন নেতিবাচক ধারণার অবসান ঘটাতে বদ্ধপরিকর বলেই মনে হচ্ছে। বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অনুসরণ করে সরকার গঠনের পরপরই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে হাঁটছেন তিনি। সবারই জানা, ১৭ বছরের সুদীর্ঘ নির্বাসন শেষে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসেন তিনি। বিমান থেকে নেমে দুই হাতে দেশের পবিত্র মাটি স্পর্শ করেন বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। তাঁকে দেওয়া গণসংবর্ধনায় ঘোষণা করেন ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’।  পরে পর্যায়ক্রমে দেশ ও জাতিকে নিয়ে তাঁর স্বপ্নকল্প প্রকাশ পেতে থাকে দলের নির্বাচনি ইশতেহারে এবং সারা দেশে সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস বিজয় এবং দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিয়ে দোর্দণ্ড প্রতাপে সরকার গঠনে ওই ‘প্ল্যান’ শব্দটির ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। বিশেষ করে যুবসমাজ তাঁর বক্তব্যে ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ হয়েছে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে। এখন জাতির কল্যাণে নিজের প্ল্যান বাস্তবায়নকে করণীয় কর্তব্য বলে ভাবছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। লক্ষণীয় যে দায়িত্ব গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই দেশনেতার ওয়াদা পালনের অভিযাত্রা হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দেশের প্রায় ৫ কোটি পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড। এতে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে আগের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। সর্বজনীন ভিত্তিতে বিতরণ করা হবে ফ্যামিলি কার্ড। সেখানে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা থাকবে না। স্বজনপ্রীতির কোনো ঘটনা যাতে না ঘটে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা হবে। অন্যদিকে ১৮০ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান হবে খাল খনন কর্মসূচি। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বিষয়েও আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা গেছে। আগামী বর্ষা মৌসুমেই তা বাস্তবে রূপ পাবে। প্রধানমন্ত্রীর আরও কিছু ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ জনমনে তাঁর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও নির্ভরতার মাত্রা বাড়িয়েছে। তিনি প্রথাগত সরকারি প্রটোকল ছেড়ে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করছেন; যা দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম ঘটল। গাড়ির চালক এবং জ্বালানি ব্যয়ও তাঁর নিজের-এমন সিদ্ধান্তই তিনি নিয়েছেন। এর ফলে প্রধানমন্ত্রীর  পরিবহন খাতে খরচ কমবে। এ খাতে অপচয়ও রোধ হবে। জনদুর্ভোগ এড়াতে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির বহরে গাড়ির সংখ্যা কমানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের আগে-পরে রাস্তার দুই পাশে পুলিশের দীর্ঘ অবস্থানও বন্ধ করা হয়েছে। আইনের শাসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি সরকার। গত দেড় যুগে ‘জোর যার মুল্লুক তার’-এর যে অনুশাসন অনুসৃত হয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।  আইনশৃৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করাকে সরকার চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। দুর্নীতি প্রতিরোধেও কঠোর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সব ধরনের সিন্ডিকেট ভাঙারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্তদের। পবিত্র রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে সক্রিয় থাকতে বলেছেন। নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখার। শুধু নির্দেশ দেওয়া নয়, তা যাতে বাস্তবায়িত হয় সেজন্য তীক্ষ্ণ নজরও রাখা হচ্ছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার পরিদর্শন করা হচ্ছে। ন্যায্যমূল্যে নিত্যপণ্য বিক্রি হচ্ছে কি না তারা খতিয়ে দেখছেন। ক্রেতা সেজে ম্যাজিস্ট্রেটরা বাজারে গিয়ে দেখছেন, বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করে ভোক্তাদের পকেট কাটা হচ্ছে কি না। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দুই দিনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো চিহ্নিত করে সমাধানের যে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, তা প্রশংসার দাবিদার। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি নির্দেশনা দিয়েই বসে থাকছেন না, তা ঠিকমতো বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না খোঁজখবর রাখছেন। প্রশাসনকে জনগণের পাশে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করছেন; যা একটি প্রশংসনীয় দিক বলে বিবেচিত হওয়ার দাবি রাখে।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে দেশবাসীর নিরঙ্কুশ সমর্থন নিয়ে। সংসদে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনের অধিকারী তারা। এটি তাদের শক্তিমত্তার পরিচয় সন্দেহ নেই। তবে দুর্বলতার দিক হলো, এ সরকার ক্ষমতায় এসেছে এক কঠিন সময়ে। দেশের আইনশৃঙ্খলা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ‘মাৎস্যন্যায়’ শাসনের প্রতিকৃতি হয়ে দাঁড়ায়। যার ধকল কাটিয়ে ওঠা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার গ্রহণ করেছে জিরো টলারেন্স নীতি। ঐতিহ্যগতভাবে সমাজবিরোধীরা যখন যে সরকার আসে তাদের ছত্রছায়ায় থাকার চেষ্টা করে। বর্তমান সরকারের আমলে এমন বিচ্যুতি যাতে কোনোভাবেই আশ্রয় না পায়, সে বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে অস্থিরতা চলছে দীর্ঘদিন ধরে। মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত অসম চুক্তি। যার ধকলও বইতে হবে এ সরকারকে। এ প্রেক্ষাপটে দেশবাসীর আস্থা ধরে রাখতে বহুমুখী উদ্দেশ্য নিয়ে প্রথমেই আইনশৃঙ্খলায় লাগাম পরানোর সিদ্ধান্তটি বাস্তবসম্মত ও ইতিবাচক। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতিসহ সব অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের যে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আইনশৃঙ্খলায় দৃষ্টিগ্রাহ্য উন্নয়নের বিকল্প নেই। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ। যে কারণে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মপরিকল্পনার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে  সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূল করে একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল সমাজ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি। সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজকে ভিন্ন কোনো পরিচয়ে দেখা যাবে না। তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আইনশৃঙ্খলাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ, এমন আভাস পৌঁছে দেওয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব অংশে। অতীতে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপরাধবান্ধব যে  অপসংস্কৃতি লালন করা হয়েছে, তা নির্মূল করাকে সরকার লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছে। এজন্য দলীয় পর্যায়ে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে সময়ক্ষেপণ না করেই। অপরাধ প্রমাণিত হলে দল থেকে করা হবে বহিষ্কার। প্রশাসনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।  নতুন সরকারের লক্ষ্য একটি এমন বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে সাধারণ মানুষ নিরাপদে জীবন -যাপন করতে পারবে। ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজির ভয় ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন। রাজনৈতিক পরিচয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা রোধ করা গেলে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা ভাবমূর্তির সংকট থেকে রক্ষা পাবেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁদের আস্থার সম্পর্ক গড়ে উঠবে। দেশের জনগোষ্ঠীর এক বড় অংশ কৃষক। যাঁরা আমাদের খাদ্য জোগান। তাঁদের জন্য কৃষক কার্ড বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে নবনির্বাচিত সরকার। যাতে লাভবান হবেন দেশের প্রত্যেক কৃষক। কেউ কথা রাখেনি-এ মনঃকষ্টে ভুগতে হবে না প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে।

লেখক: সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠক। সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, বিএনপি। সাবেক সভাপতি, জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা- জাসাস

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status