|
কপিলমুনিতে কোটিপতির ভবন বাঁচাতে নিচচার ব্যানারে মানববন্ধনে হতভম্ব এলাকাবাসী
শেখ সেকেন্দার আলী, পাইকগাছা
|
![]() কপিলমুনিতে কোটিপতির ভবন বাঁচাতে নিচচার ব্যানারে মানববন্ধনে হতভম্ব এলাকাবাসী মানববন্ধনের ব্যানারে নিচচার নাম ব্যাবহার করে সভাপতি শফিউল আলম বক্তব্য দেওয়ার ঘটনায় চলছে আলোচনা সমালোচনা। জনগণের স্বার্থের বাইরে গিয়ে কেন নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের নাম ব্যবহার করা হলো তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এলাকাবাসী জানান, নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের পাইকগাছা উপজেলা সভাপতি তার ইচ্ছে মত সংগঠনকে ব্যাবহার করছেন। সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর তথ্য মতে, খুলনার ৩ উপজেলা এবং সাতক্ষীরার একটি উপজেলার ওপর দিয়ে বেতগ্রাম-তালা-কপিলমুনি ও পাইকগাছা-কয়রার প্রায় ৬০ কিলোমিটার সড়কটি দুই লেনে উন্নীত করণে প্রকল্প নেয়া হয়। এ কারণে সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ ৩৪টি বাঁক সরলীকরণে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন পড়ে। ২০২০ সালে শুরু হয় কার্যক্রম। প্রায় ৫ বছরে দু’দফায় প্রকল্পের মেয়াদ ও অর্থবৃদ্ধি হলেও দৃশ্যমান হয়নি কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি। সম্প্রতি, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কপিলমুনি বাজারের অংশ। ভুল নকশায় সড়কের বাঁকসরলীকরণ নিয়ে সম্প্রতি বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে খুলনা অঞ্চলের সবচেয়ে পুরোনো এই বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা ও বিভাগীয় শহর থেকে দূর এবং উপকূলীয় অঞ্চল হওয়ায় বিভিন্ন পয়েন্টে চলে ভাগ-বাটোয়ারার হিসেব। আছে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সুবিধাভোগী মহল। এই চক্রের যোগসাজশে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ‘কাদা খাওয়া এমপি’ হিসেবে পরিচিত খুলনা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (বর্তমানে দুদকের মামলায় পলাতক) আখতারুজ্জামান বাবুই মূলত খলনায়ক। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে প্রভাবশালী এক ব্যবসায়ীর ভবনসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রক্ষা করতে কপিলমুনি বাজারের সড়ক সরলীকরণ নকশা পরিবর্তন করে দেন বলে অভিযোগ আছে। সম্প্রতি গত ৬ ডিসেম্বর শনিবার বর্তমান নকশায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে তোপের মুখে পড়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। দুদিনের অভিযানে ভেঙে দেয়া হয় কপিলমুনি সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার দোতলা ভবন। একপর্যায়ে স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। স্থানীয়দের দাবি, বর্তমান নকশায় উচ্ছেদ করে সড়ক সোজা করতে গেলে উল্টো আরো দুটি বিপদজনক বাকের সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে ডিগ্রি মাদরাসা এবং হাসপাতালের সামনে সড়ক দুর্ঘটনা এবং জীবন ঝুঁকি আরও বাড়বে। অথচ উল্টো পাশের ভবনের অংশবিশেষ অপসারণ করা গেলে প্রকৃতভাবেই সড়কটি সোজা হয়। একই সঙ্গে সরকারের বেঁচে যায় অধিগ্রহণের কোটি কোটি টাকা। কারণ এরই মধ্যে স্পষ্ট হয়েছে, নকশা পরিবর্তন করে রক্ষা করতে যাওয়া আলোচিত ভবনটি (নির্মাণ বিপণি) সরকারি পেরিফেরি সম্পত্তির ওপর গড়ে ওঠা। কিন্তু সেই ভবন অপসারণ না করে উল্টোপাশে উচ্ছেদের জোর তৎপরতা চলছে। এতে একদিকে যেমন সড়কটি সোজা হচ্ছে না। অন্যদিকে, অধিগ্রহণের জন্য সরকারকে খরচ করতে হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। পাশাশাপি অনেকে হারাচ্ছেন বসবাসের ভবন, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠন। এতে অংশ নেন খুলনা জেলা শাখার সভাপতিসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী। পরে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হলে গণশুনানি করা হয়। গণশুনানিতে বেরিয়ে আসছে কেঁচো খুঁড়তে কেউটে। স্থানীয়দের বক্তব্যে উঠে আসে ভয়ঙ্কর তথ্য। এ সময় বলা হয়, ফকিরবাসা মোড়ের বাঁক সরলিকরণের অনৈতিক সুবিধাভোগী চক্রের সঙ্গে যুক্ত কপিলমুনি সিনিয়র ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার (সাময়িক বরখাস্ত) অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
