সুস্থ থাকতে নিয়মিত চেকআপ এবং স্বাস্থ্যের পরীক্ষা করা জরুরি। প্রতিবছর অন্তত একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত। চিকিৎসকদের মতে, কিছু মরণ রোগের একেবারে শেষ পর্যায়ে গিয়েও কোনো উপসর্গ দেখা যায়। তাই নিয়মিত চেকআপ করলে অনেকটা নিশ্চিন্ত থাকা যায়। তবে এমন কিছু পরীক্ষা আছে, যা আমরা বাড়িতে করে নিজের সুস্থতা অনুমান করতে পারব।
নখের গোড়া চেপে ধরা প্রতি ৫ সেকেন্ডের জন্য নখের গোড়া চেপে ধরুন। এক্ষেত্রে নখের গোড়া সাদা হয়ে উঠবে। যদি রক্তের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে ৩ সেকেন্ডের বেশি সময় লাগে ও ব্যথা এবং অস্বস্তি হয় তা হলে বেশ কিছু সমস্যা হতে পারে। যেমন বুড়ো আঙুলের ব্যথা নিশ্বাসের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। তর্জনী আঙুলের ব্যথা কোলন অথবা হজম সংক্রান্ত সমস্যার উপসর্গ হতে পারে। মধ্যমা কার্ডিওভাসকুলার সমস্যার একটি সঙ্কেত। অনামিকায় অস্বস্তি হলে হৃৎপিণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যাও কোনো হতে পারে। কনিষ্ঠ আঙুলটি অন্ত্রের সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। এভাবেই প্রতিটি আঙুল শরীরের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে যুক্ত, তাই আঙুলের কোনো লক্ষণ দেখে শরীরের সেই নির্দিষ্ট অংশের সমস্যা চিহ্নিত করা যায়।
মুঠি বন্ধ করা এবং চেপে ধরা আঙুলগুলো মুঠ করুন। এরপর হাত চেপে ধরে ৩০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। হাত ছাড়ার পর হাতের তালু স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সাদা হয়ে যাবে। এখন হাতের তালু পর্যবেক্ষণ করুন। হাতের রঙ স্বাভাবিক রঙে ফিরতে কতক্ষণ সময় লাগে দেখুন। যদি অসার বোধ হয় বা রক্ত ফিরে আসতে বেশি সময় লাগে, তা হলে এটি আর্টারিওসেক্লরোসিসের লক্ষণ হতে পারে। আর এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে হৃৎপিণ্ড থেকে শরীরের বাকি অংশে অক্সিজেন এবং পুষ্টি বহনকারী রক্তনালিগুলো পুরু ও শক্ত হয়ে যায়।
পা ওপরে তোলা এই টেস্টের জন্য মাটিতে মুখ নিচের দিকে করে শুয়ে পড়ুন। শরীরের সঙ্গে সোজাভাবে হাত রাখুন। ধীরে ধীরে দুপা তুলতে হবে। দেখতে হবে ৩০ সেকেন্ডের জন্য পা ওপরে রাখতে পারছেন কি না। যদি একইভাবে অথবা পা দুটি একত্রে রাখতে অসুবিধা হয় তা হলে পেটে কিংবা মেরুদণ্ডের নিচের দিকে সমস্যা থাকতে পারে। তবে শুধু এই ব্যায়ামগুলো করার জন্য অতিরিক্ত কষ্ট করার প্রয়োজন নেই। ফলাফল ইতিবাচক না হলে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।