ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ৪ মে ২০২৬ ২১ বৈশাখ ১৪৩৩
ইউরিক অ্যাসিড থেকে কিডনি—কাদের জন্য মসুর ডাল বিপজ্জনক
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Monday, 4 May, 2026, 4:25 PM

ইউরিক অ্যাসিড থেকে কিডনি—কাদের জন্য মসুর ডাল বিপজ্জনক

ইউরিক অ্যাসিড থেকে কিডনি—কাদের জন্য মসুর ডাল বিপজ্জনক

বাংলার প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় মসুর ডাল এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ডাল দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের প্রোটিনের অন্যতম ভরসা। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যা শরীরকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এমনকি নিয়মিত খেলে ত্বক ও কোষের বার্ধক্য প্রক্রিয়াও ধীর হতে পারে বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা।

চোখের স্বাস্থ্যের উন্নতি থেকে শুরু করে দৈনন্দিন পুষ্টির ঘাটতি পূরণ—মসুর ডালের উপকারিতা অনেক। কিন্তু সব ভালো জিনিসের মতোই এর ক্ষেত্রেও রয়েছে কিছু সীমাবদ্ধতা। সবার শরীরের জন্য এটি সমানভাবে উপযোগী নয়। কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যায় মসুর ডাল উল্টো ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

ইউরিক অ্যাসিড ও বাতের সমস্যা
যাদের শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি, তাদের জন্য মসুর ডাল খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ এতে ‘পিউরিন’ নামের একটি উপাদান থাকে, যা ভেঙে শরীরে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি করে।এই অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড অস্থিসন্ধিতে জমে গিয়ে বাতের ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে যাঁরা আগে থেকেই এই সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য মসুর ডাল এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

কিডনি সমস্যায় সতর্কতা
যাদের কিডনিতে পাথর বা অন্যান্য জটিলতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও মসুর ডাল খাওয়া সীমিত করা উচিত। এতে থাকা অক্সালেট কিডনিতে স্টোন তৈরির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এছাড়া ক্রোনিক কিডনী ডিজিজ-এ আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ডালে থাকা পটাশিয়াম ও প্রোটিন ঠিকমতো বের হতে না পেরে রক্তে জমে যেতে পারে, যা শরীরের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

হজমের সমস্যা
মসুর ডালে ফাইবার ও কিছু জটিল শর্করা থাকে, যা সবার জন্য সহজপাচ্য নয়। যাদের গ্যাস, অ্যাসিডিটি বা পেট ফাঁপার প্রবণতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ডাল সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।অন্ত্রে দীর্ঘক্ষণ হজম না হয়ে জমে থাকলে গ্যাসের সৃষ্টি হয়, যা অস্বস্তি ও পেটব্যথার কারণ হতে পারে।

অ্যালার্জি ও সংবেদনশীলতা
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মসুর ডাল অ্যালার্জির কারণও হতে পারে। ত্বকে র্যাশ, চুলকানি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে তা গুরুত্ব সহকারে দেখা প্রয়োজন।

ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিরা
মসুর ডাল পুষ্টিকর হলেও এতে প্রোটিন ও ক্যালোরি দুটোই যথেষ্ট পরিমাণে থাকে। যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য অতিরিক্ত পরিমাণে মসুর ডাল খাওয়া সমস্যা তৈরি করতে পারে।

মসুর ডাল নিঃসন্দেহে একটি পুষ্টিকর খাবার, কিন্তু তা সবার জন্য সমানভাবে উপকারী নয়। শরীরের অবস্থা, রোগব্যাধি এবং হজমক্ষমতার উপর নির্ভর করে খাদ্য নির্বাচন করা জরুরি।

খাবার যতই স্বাস্থ্যকর হোক, তা যদি শরীরের সঙ্গে মানানসই না হয়, তবে তা উপকারের বদলে ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই সচেতনতা এবং পরিমিতিই হোক সুস্থ জীবনের মূলমন্ত্র।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status