|
আচমকা বুক ব্যথা হলে কী করবেন? গ্যাস ও হার্ট অ্যাটাক চেনার সহজ নিয়ম জানুন
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() আচমকা বুক ব্যথা হলে কী করবেন? গ্যাস ও হার্ট অ্যাটাক চেনার সহজ নিয়ম জানুন চিকিৎসকদের মতে, সবচেয়ে ঝুঁকির বিষয় হলো—অনেকে বুকে ব্যথা হলেও সেটিকে “গ্যাস” ভেবে এড়িয়ে যান। আবার কেউ আতঙ্কিত হয়ে অকারণে হাসপাতালে ছুটে যান। দুই ক্ষেত্রেই ভুল সিদ্ধান্ত হতে পারে, কিন্তু হার্ট অ্যাটাক উপেক্ষা করা সবচেয়ে বিপজ্জনক। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে প্রাণসংশয় পর্যন্ত ঘটতে পারে। হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা পরিভাষায় বলা হয় এক্যুট মাই কার্ডিয়াল ইনফ্রেকশন । এই অবস্থায় হৃদপিণ্ডে রক্তপ্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে বুকের মাঝখানে তীব্র চাপ বা ভারী কিছু চেপে বসার মতো অনুভূতি হয়। রোগীরা প্রায়ই বলেন, “মনে হচ্ছে বুকের উপর পাথর রাখা আছে।” এই ব্যথা শুধু বুকে সীমাবদ্ধ থাকে না। অনেক সময় তা বাঁ কাঁধ, বাঁ হাত, ঘাড় বা চোয়াল পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে। সঙ্গে দেখা দেয় শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঘোরা এবং চোখে অন্ধকার দেখার মতো উপসর্গ। কিছু ক্ষেত্রে রোগী অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারেন। অন্যদিকে গ্যাসজনিত ব্যথা তুলনামূলকভাবে আলাদা ধাঁচের হয়। এখানে বুকের ঠিক মাঝখানে তীব্র চাপের বদলে বুকের নিচে বা পেটের ওপরের অংশে জ্বালাভাব বা অস্বস্তি বেশি থাকে। অনেক সময় পেট ফাঁপা, ঢেকুর ওঠা, বমি বমি ভাব বা অস্বস্তিকর পূর্ণতার অনুভূতি দেখা দেয়। গ্যাসের ব্যথার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—এটি সাধারণত খাবারের পর বাড়ে এবং অ্যান্টাসিড বা গ্যাস কমানোর ওষুধ খেলে কিছুটা আরাম পাওয়া যায়। শরীর থেকে গ্যাস বেরিয়ে গেলে ব্যথা অনেকটাই কমে যায়। তবে হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা সাধারণত এমনভাবে কমে না। বিশ্রাম নিলেও বা অবস্থান বদলালেও তা স্থায়ীভাবে উপশম হয় না, বরং ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। চিকিৎসকদের মতে, কিছু “রেড ফ্ল্যাগ” লক্ষণ থাকলে দেরি করা উচিত নয়। যেমন— • বুকের মাঝখানে চাপ ধরণের তীব্র ব্যথা • বাঁ হাত বা চোয়ালে ব্যথা ছড়িয়ে যাওয়া • শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া • অতিরিক্ত ঘাম হওয়া • মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার অনুভূতি এগুলো থাকলে সেটিকে সাধারণ গ্যাস ভেবে বসে থাকা বিপজ্জনক। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগের ইতিহাস আছে, তাদের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে প্রথমেই রোগীকে শান্ত রাখা জরুরি। দ্রুত শারীরিক পরিশ্রম বন্ধ করে বিশ্রামে আনতে হবে। প্রয়োজনে জরুরি ওষুধ যেমন সরবিট্রেট (চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী) জিভের নিচে দেওয়া যেতে পারে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্দেহ হলে “গ্যাস ধরে নেওয়া” নয়, বরং “হার্ট অ্যাটাক ধরে নিয়ে সতর্ক হওয়া”—এই মানসিকতা জীবন বাঁচাতে পারে। কারণ সময়ই এখানে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর। সব মিলিয়ে, বুকের ব্যথা কখনওই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। গ্যাস আর হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ কাছাকাছি মনে হলেও শরীরের সংকেত ভালোভাবে বুঝতে পারলে অনেক বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
ভূরুঙ্গামারীতে চেয়ারম্যান প্রার্থীর বাড়িতে লুটপাট-অগ্নিসংযোগ, অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি
বাগমারায় ভবানীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির নামে চাঁদাবাজির অভিযোগে বিক্ষোভ
বাঘাইছড়িতে দমকা হাওয়ায় গাছ পালা ভেঙ্গে জনদুর্ভোগ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় যান চলাচল স্বাভাবিক
কুড়িগ্রামে জমি নিয়ে ভাই-বোনদের বিরোধ: ধান কাটতে বাধা, থানায় অভিযোগ
