ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ৪ মে ২০২৬ ২১ বৈশাখ ১৪৩৩
ঢকঢক করে পানি পান? জানুন এর লুকানো ক্ষতি
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Monday, 4 May, 2026, 4:23 PM

ঢকঢক করে পানি পান? জানুন এর লুকানো ক্ষতি

ঢকঢক করে পানি পান? জানুন এর লুকানো ক্ষতি

পানি—জীবনধারণের সবচেয়ে মৌলিক উপাদানগুলির একটি। প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণে পানি পান করা সুস্থ থাকার জন্য অপরিহার্য। কিন্তু এই সাধারণ অভ্যাসের মধ্যেও লুকিয়ে থাকতে পারে এমন কিছু ভুল, যা অজান্তেই শরীরের ক্ষতি ডেকে আনে। বিশেষ করে তাড়াহুড়ো করে বা একবারে বেশি পানি পান করার অভ্যাস অনেকের মধ্যেই দেখা যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে হজম ও শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, পানি শুধু কতটা পান করছেন, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ নয়—কীভাবে পান করছেন, সেটিও সমানভাবে জরুরি। দ্রুত বা ঢকঢক করে পানি পান করলে শরীর সেটিকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে না। বরং ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে পানি পান করলে তা শরীরে সহজে শোষিত হয় এবং স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াগুলিকে সহায়তা করে।

এই বিষয়টি সহজভাবে বোঝাতে অনেক বিশেষজ্ঞ একটি উদাহরণ দেন—গাছে পানি দেওয়ার মতো। যদি একসঙ্গে অনেক পানি ঢেলে দেওয়া হয়, তবে তা মাটিতে ঠিকমতো শোষিত হয় না। কিন্তু ধীরে ধীরে দিলে মাটি সেটিকে গ্রহণ করতে পারে। শরীরের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

দ্রুত পানি পানের ক্ষতি
দ্রুতগতিতে পানি পান করলে হজম প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে। হঠাৎ করে পেটে বেশি পানি চলে গেলে তা অস্বস্তি তৈরি করে এবং পেট ভারী লাগতে পারে। এর ফলে ক্ষুধা কমে যায় এবং খাবার খাওয়ার আগ্রহও হ্রাস পায়।এছাড়া, অতিরিক্ত দ্রুত পানি পানের ফলে পাচকরস সাময়িকভাবে পাতলা হয়ে যেতে পারে, যা খাদ্য ভাঙার প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। এর ফলে গ্যাস, পেটফাঁপা, অস্বস্তি বা বদহজমের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।অনেক ক্ষেত্রে হঠাৎ অতিরিক্ত পানি পানে শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যেও সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষ করে খুব কম সময়ে অনেক পানি পান করলে।

ধীরে পানি পানের উপকারিতা
অন্যদিকে, ধীরে ধীরে পানি পান করলে শরীর সেটিকে ধাপে ধাপে গ্রহণ করতে পারে। এতে হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে এবং পাচকরস কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে।
ধীরে পানি পান করার সময় তা লালার সঙ্গে মিশে শরীরে প্রবেশ করে, যা হজমের প্রাথমিক ধাপকে আরও সহজ করে তোলে। পাশাপাশি শরীর সারাদিন সমানভাবে হাইড্রেটেড থাকে, ফলে ক্লান্তি বা হঠাৎ ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমে।এতে পেট হঠাৎ ভরে যাওয়ার অস্বস্তিও তৈরি হয় না, এবং শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় থাকে।

কীভাবে স্বাস্থ্যকর উপায়ে পানি পান করবেন?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, সারাদিনে অল্প অল্প করে পানি পান করা সবচেয়ে ভালো অভ্যাস। তীব্র পিপাসা লাগার আগেই নির্দিষ্ট বিরতিতে পানি পান করলে শরীরের জলীয় ভারসাম্য ঠিক থাকে।খাবারের সময় খুব বেশি পানি না খেয়ে, প্রয়োজনে অল্প পরিমাণে ধীরে পান করা উচিত। এতে হজম প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয় না।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—পানি পানকে অভ্যাসে পরিণত করা। একবারে বেশি না খেয়ে, বারবার অল্প করে পান করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সুস্থ থাকতে সব সময় বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না। দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট অভ্যাস—যেমন সঠিকভাবে পানি পান করা—দীর্ঘমেয়াদে বড় পার্থক্য গড়ে তুলতে পারে। সচেতনতার এই সামান্য পরিবর্তনই আপনাকে রাখতে পারে আরও সুস্থ, স্বাভাবিক ও সতেজ।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status