|
পুরুষ হরমোনের ঘাটতি দেখা দিলে যেসব সমস্যা হতে পারে
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() পুরুষ হরমোনের ঘাটতি দেখা দিলে যেসব সমস্যা হতে পারে কিন্তু নানা কারণে যখন এই হরমোনের মাত্রা কমে যায়, তখন শরীর ও মনে ধীরে ধীরে একাধিক পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে—যা অনেক সময় প্রথমে বোঝা যায় না, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে বড় সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। শক্তি কমে যাওয়া ও ক্লান্তি টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার অন্যতম প্রথম লক্ষণ হল অস্বাভাবিক ক্লান্তি। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরও শরীর অবসন্ন লাগে, কাজের শক্তি কমে যায়। অনেকেই এটিকে সাধারণ ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যান, কিন্তু এটি হরমোনের ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ হতে পারে। পেশি ও হাড়ের পরিবর্তন এই হরমোন পেশির বৃদ্ধি ও শক্তির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। মাত্রা কমে গেলে পেশির ঘনত্ব ও শক্তি কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে হাড়ও দুর্বল হয়ে ওঠে, যা ভবিষ্যতে ভাঙার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। শরীরে মেদ জমা টেস্টোস্টেরনের অভাবে শরীরে ফ্যাট জমার প্রবণতা বাড়ে। বিশেষ করে পেটের অংশে মেদ জমতে দেখা যায়। পাশাপাশি শরীরের লোম কমে যাওয়া বা ঝরে পড়ার মতো পরিবর্তনও ঘটতে পারে। ঘুম ও মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব এই হরমোনের ঘাটতি ঘুমের উপরও প্রভাব ফেলে। অনিদ্রা, রাতে অস্থিরতা—এসব সমস্যা দেখা দিতে পারে।মানসিক ক্ষেত্রেও এর প্রভাব গভীর। বিষণ্নতার লক্ষণ দেখা দিতে পারে—যেমন আগের মতো কিছুই ভালো না লাগা, মনোযোগের অভাব, এমনকি স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া। দাম্পত্য জীবনে প্রভাব টেস্টোস্টেরন কমে গেলে যৌন আগ্রহ কমে যেতে পারে, যা দাম্পত্য জীবনে প্রভাব ফেলে। এটি অনেক সময় আত্মবিশ্বাসেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কেন কমে টেস্টোস্টেরন? বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই টেস্টোস্টেরন-এর মাত্রা কিছুটা কমে। তবে জীবনযাত্রা সঠিক হলে এই পতন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।কিছু নির্দিষ্ট কারণ এই হরমোন দ্রুত কমিয়ে দিতে পারে—যেমন স্থূলতা, Diabetes, বা শুক্রাশয়ে আঘাত।এছাড়া মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ— হাই পথেলামাস এবং পিটুটারি গ্ল্যাড —যেখানে এই হরমোন নিয়ন্ত্রিত হয়, সেখানে টিউমার, প্রদাহ বা সংক্রমণ থাকলেও এর মাত্রা কমে যেতে পারে। কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন? স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই টেস্টোস্টেরনের ভারসাম্য বজায় রাখার মূল চাবিকাঠি। নিয়মিত শরীরচর্চা—বিশেষ করে শক্তিভিত্তিক ব্যায়াম—এ ক্ষেত্রে কার্যকর। সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা জরুরি। অতিরিক্ত খাওয়া বা খুব কম খাওয়া—দুটিই ক্ষতিকর। পাশাপাশি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ক্ষতিকর রাসায়নিক—যেমন বিসফেনল-এ বা প্যারাবেন—থেকে দূরে থাকা, প্লাস্টিক ব্যবহারে সচেতন হওয়া এবং অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলাও গুরুত্বপূর্ণ। টেস্টোস্টেরন শুধু একটি হরমোন নয়, বরং পুরুষের সার্বিক সুস্থতার ভিত্তি। এর মাত্রা কমে গেলে শরীর নানা সংকেত দেয়—যা উপেক্ষা করা উচিত নয়। যদি উপসর্গগুলি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সচেতন জীবনযাপনই পারে এই ভারসাম্য ধরে রাখতে এবং সুস্থতা নিশ্চিত করতে।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
