ট্রেনের মধ্যেই এক যাত্রীর প্রসব করালেন রেলের চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাঁদের সহায়তায় অবধ-অসম এক্সপ্রেসের ভিতরে বুধবার গভীর রাতে রিনা কুমারী নামে এক যাত্রী তার সন্তান প্রসব করেন। রিনা তার এক আত্মীয়ের সঙ্গে তিনসুকিয়া থেকে মোজাফ্ফপুরে যাচ্ছিলেন। মাঝপথেই তার প্রসব বেদনা ওঠে। ট্রেনে থাকা টিটিই-র মাধ্যমে নিউ বঙ্গাইগাঁও স্টেশনে খবর যায়।
তার পরেই রেলের তরফে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের একটি দল পৌঁছয় ওই ট্রেনে। তাঁদের সাহায্যেই অস্ত্রোপচারহীন প্রসব করেন রিনা। তাঁর প্রসবের জন্য ট্রেনটি ঘণ্টাখানেক নিউ বঙ্গাইগাঁও স্টেশনে দাঁড়িয়েছিল। মা ও সন্তান দু’জনেই শারীরিক ভাবে সুস্থ ছিলেন বলে রিনারা ওই ট্রেনেই মোজাফ্ফপুরের উদ্দেশে রওনা দেন।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের জনসংযোগ আধিকারিক নীলাঞ্জন দেব জানিয়েছেন, বুধবার রাত ১২টা ১০ নাগাদ অবধ-অসম এক্সপ্রেসে থাকা এক টিটিই ফোন করে খবর দেন, ওই ট্রেনে এক মহিলা যাত্রীর প্রসব বেদনা উঠেছে। পরিস্থিতি দেখে তার মনে হয়েছে, কিছু ক্ষণের মধ্যেই ওই মহিলার সন্তান প্রসব করানো প্রয়োজন। তখনও নিউ বঙ্গাইগাঁও স্টেশনে ট্রেনটির ঢুকতে ঘণ্টাখানেক লাগার কথা। সঙ্গে সঙ্গে স্টেশন মাস্টার নিউ বঙ্গাইগাঁও ডিভিশনাল রেল হাসপাতালে খবর দেন। তড়িঘড়ি কর্তব্যরত চিকিৎসক কয়েক জন স্বাস্থ্যকর্মী, গরম জল থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সমস্ত ওষুধপত্র নিয়ে স্টেশনে গিয়ে পৌঁছন।
রাত ১টা ১০ নাগাদ নিউ বঙ্গাইগাঁও স্টেশনে ট্রেন ঢোকার পর স্বাস্থ্যকর্মীরা এস-২ কামরার ৭৯ নম্বর আসনে প্রসূতি রিনার কাছে যান। তার পরেই শুরু হয় সন্তান প্রসবের তোড়জোড়। সন্তান প্রসবের পর নাড়ি কাটার ক্ষতে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র দেন চিকিৎসক। বৃহস্পতিবার নীলাঞ্জন বলেন, ‘‘জন্মের পর সদ্যোজাত কাঁদছিল না। তাতে একটু চিন্তায় পড়ে যান চিকিৎসক। কিন্তু কিছুক্ষণ পর চিকিৎসকদের তৎপরতায় সকলকে আস্বস্ত করে সে কেঁদে ওঠে। রেলের তরফে মা ও সন্তানের চিকিৎসার জন্য রিনাদেবীকে নিউ বঙ্গাইগাঁওতে থেকে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু উনি থাকতে চাননি। ওই ট্রেনেই রওনা দেন। এমন পরিষেবা দিতে পেরে আমরা গর্বিত। এখান থেকে রওনা হওয়ার সময় মা ও সন্তান ভালই ছিলেন।’’