|
রাজধানীতে অনার-২০০ স্মার্টফোনে বিস্ফোরণ, নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্ক
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() রাজধানীতে অনার-২০০ স্মার্টফোনে বিস্ফোরণ, নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্ক ভুক্তভোগী মোহাম্মদ রতন জানান, গত ১৪ জুলাই সকালে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে তার ব্যবহৃত Honor 200 মডেলের স্মার্টফোনটি হঠাৎ পকেট থেকে রাস্তায় পড়ে যায়। ঠিক সেই সময় এক পথচারীর পায়ের নিচে চাপা পড়তেই বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় ফোনটি। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে যায় এবং আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে থাকা মানুষ দ্রুত সরে যেতে বাধ্য হন। ![]() রাজধানীতে অনার-২০০ স্মার্টফোনে বিস্ফোরণ, নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্ক মিরপুরের বাসিন্দা রতন জানান, মাত্র আট মাস আগে প্রায় ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে তিনি ফোনটি কিনেছিলেন। তার দাবি, তিনি কখনো ফোনটি অস্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করেননি কিংবা কোনো অননুমোদিত চার্জার ব্যবহার করেননি। তাই হঠাৎ এমন বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনি হতবাক। তিনি বলেন, প্রায় ২০ মিনিট চেষ্টা করে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আগুনে ফোনটির অধিকাংশ অংশ পুড়ে যায়। যে পথচারীর পায়ের নিচে ফোনটি ছিল, তার জুতারও বেশ কিছু অংশ পুড়ে যায়। আগুন নেভানোর সময় রতনের পায়েও সামান্য দগ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটে। তার ভাষায়, ফোনটি যদি আমার পকেটেই বিস্ফোরিত হতো, তাহলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার পর তিনি অনারের কাস্টমার সার্ভিসে যোগাযোগ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সন্তোষজনক সমাধান বা ব্যাখ্যা পাননি। এতে ব্র্যান্ডটির বিক্রয়োত্তর সেবা ও গ্রাহক নিরাপত্তা নিয়ে তার আস্থা নষ্ট হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এদিকে, এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। গত ২৪ জুন কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমিরুল ইসলামের পকেটে থাকা Vivo Y12 মডেলের ফোন বিস্ফোরিত হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। এর আগে ২১ জুন টঙ্গীতে Vivo Y20 মডেলের আরেকটি ফোন বিস্ফোরণের অভিযোগ ওঠে। পরিবারের দাবি, ফোনটি ঘরের ভেতরে থাকলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারত। সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে ১৪ জুন আশুলিয়ায়। মোবাইল ফোন বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান (৪৪)। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাস্থলে ভিভোর সাব-ব্র্যান্ড iQOO-এর একটি স্মার্টফোনের প্যাকেট এবং পোড়া মোবাইল ও চার্জারের অংশ পাওয়া যায়। প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্মার্টফোন বিস্ফোরণের প্রতিটি ঘটনার কারণ আলাদাভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। ব্যাটারির ত্রুটি, অতিরিক্ত তাপ, আঘাত কিংবা অন্য কোনো কারিগরি কারণ—যে কারণেই ঘটনা ঘটুক না কেন, নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। প্রতিটি অভিযোগের দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। কুড়িলের এই ঘটনার বিষয়ে অনার বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কুড়িলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া অনার ২০০ মডেলের ফোনটি অনুমোদিত বিক্রয় চ্যানেল থেকে কেনা হয়নি। তাই এটি অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি বা বিক্রয়োত্তর সেবার আওতায় পড়ে না। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, গ্রাহকের তথ্য অনুযায়ী ফোনটি আগে মাটিতে পড়ে এবং পরে চাপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে তারা ঘটনাটিতে দুঃখ প্রকাশ করে গ্রাহকদের অফিসিয়াল চ্যানেল থেকে ফোন কেনার আহ্বান জানিয়েছে।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
