|
শুধু যন্ত্রাংশ সংযোজনেই ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ অনার স্মার্টফোন
ভিভোর বিরুদ্ধে বিনিয়োগকৃত ৩ কোটি টাকা পাওনা আদায়ে ব্যবসায়ীদের সংবাদ সম্মেলন, ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মধ্যস্থতা চাইলেও ভিভোর তা প্রত্যাখ্যান করে উল্টো ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশে জিডি।
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() শুধু যন্ত্রাংশ সংযোজনেই ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ অনার স্মার্টফোন রোববার (৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর হোটেল সারিনায় সেন্টার ফর টেকনোলোজি জার্নালিজম (সিটিজে) আয়োজিত ‘এনইআইআর: বাস্তবায়ন কাঠামো, জাতীয় স্বার্থ এবং নাগরিক উদ্বেগ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন। আব্বাস উদ্দিন আরও বলেন, অনার বাংলাদেশ গত ২ ডিসেম্বর গাজীপুরের কালিয়াকৈরের হাই-টেক পার্কে কারখানা উদ্বোধনের সময় ১০টি মডেলের স্মার্টফোন স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের ঘোষণা দিলেও বাস্তবে একটি মাত্র মডেলের সীমিত অ্যাসেম্বলি কাজই চলছে। যেখানে মাত্র ২০ জন কর্মী দিয়ে বিদেশি যন্ত্রাংশ যুক্ত করে ফোন তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এটিকে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন না বলে কেবল অ্যাসেম্বলি বলা যায়। কিন্তু মার্কেটিংয়ে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগটি ব্যবহার করে ভোক্তাদের আবেগকে প্রভাবিত করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ স্মার্টফোনের বাজারদর নিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন আব্বাস উদ্দিন। তিনি জানান, একই মডেলের ভিভোর স্মার্টফোন ভারত, দুবাই, সৌদি আরব ও ইউরোপে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হলেও বাংলাদেশে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগ যুক্ত করার পর সেটির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। আব্বাস উদ্দিনের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ভিভো ফোনটির দাম ভারতীয় বাজারে প্রায় ৯০ হাজার টাকা, দুবাইতে ৭৪ হাজার, সৌদি আরবে ৭৭ হাজার এবং ইউরোপে প্রায় ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ একই ফোন দেশে এসেম্বলি করে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগ লাগানোর পর বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৪৯ হাজার টাকায়। তিনি অভিযোগ করেন, গ্লোবাল মার্কেটে কম দামের এই একই ফোন দেশে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা বেশি দামে বিক্রি করছে ভিভো। দেশের ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, চীনের স্মার্টফোন ব্র্যান্ড অনার ২০২৩ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। দেশে স্থানীয় উৎপাদনের ঘোষণা দেওয়া হলেও পূর্ণাঙ্গ ম্যানুফ্যাকচারিং সক্ষমতা নিয়ে এখনো প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ভিভোর কাছে ৩ কোটি টাকা পাওনা অন্যদিকে কুমিল্লায় স্থানীয় মোবাইল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ভিভো মোবাইল কোম্পানির বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ১৬ মে কুমিল্লা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মোবাইল ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা অভিযোগ করেন, ভিভোর সঙ্গে তাদের প্রায় ৩ কোটি টাকার ব্যবসায়িক বিনিয়োগ থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তারা জানান, ভিভোর কুমিল্লা অঞ্চলের দায়িত্বশীল জিনি, মাসুদ পারভেজ (ঝিকু) ও নাঈম শাহরিয়ার আলোচনার নামে ব্যবসায়ীদের হুমকি ও অপমান করেন। ![]() শুধু যন্ত্রাংশ সংযোজনেই ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ অনার স্মার্টফোন ব্যবসায়ীরা আরও অভিযোগ করেন, ভিভো কুমিল্লায় সেলস সেন্টারের পাশাপাশি সার্ভিস সেন্টার চালু করে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতার বাইরে ঠেলে দিতে চাইছে। বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসায় পুলিশ প্রশাসন ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মধ্যস্থতা চাইলেও ভিভোর প্রতিনিধিরা তা প্রত্যাখ্যান করে উল্টো ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশে জিডি করেন। তাদের দাবি, ভিভোর একচেটিয়া বাজার তৈরি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যবসা ধ্বংসের এই ধরণ শুধু অনৈতিকই নয়, বরং কুমিল্লার হাজারো মানুষের জীবিকার ওপর হুমকি সৃষ্টি করছে। এ বিষয়ে অনার বাংলাদেশ বলেন, অনার বাংলাদেশ জানিয়েছে, তাদের নতুন ফ্যাক্টরিতে বর্তমানে প্রায় ২৫৪ জন কর্মী কাজ করছেন এবং উৎপাদন এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় সীমিত পরিসরে অ্যাসেম্বলি দিয়ে যাত্রা শুরু করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, দ্রুতই কর্মী সংখ্যা বাড়ানো হবে প্রথম ছয় মাসের মধ্যেই তা ৫০০–তে পৌঁছাবে এবং দ্বিতীয় বছরে অন্তত এক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। তারা দাবি করে, স্থানীয়ভাবে প্রযুক্তিখাতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটি অঙ্গীকারবদ্ধ। অনারের মতে, অ্যাসেম্বলি স্থানীয় উৎপাদনের প্রথম ধাপ হলেও আগামী ছয় মাসের মধ্যেই তারা পূর্ণাঙ্গ ম্যানুফ্যাকচারিং–এ যেতে প্রস্তুত। তখন মাদারবোর্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ বাংলাদেশেই তৈরি হবে। বর্তমানে একটি লাইনে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার ডিভাইস তৈরি হচ্ছে এবং আগামী বছরে আরও তিনটি নতুন লাইন যোগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ তাদের কাছে একটি ট্যাগ নয় এটি দেশীয় সক্ষমতা ও ভবিষ্যতের প্রতি আস্থার প্রতীক। আগে সম্পূর্ণ ফোন আমদানি করা হলেও এখন দেশের তরুণদের দক্ষ হাতে যন্ত্রাংশ জোড়া লাগিয়ে ফোন তৈরি করা হচ্ছে, যা প্রযুক্তি শিল্পে বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে সামনে আনছে। তারা আরও নিশ্চিত করেছে, বাংলাদেশে তৈরি প্রতিটি অনার ফোন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পরীক্ষিত হয় এবং মান, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাস এই তিনটি ভিত্তির ওপরই তারা এগিয়ে যেতে চায়। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
