|
নাকের অ্যালার্জি সমস্যা? সমাধান দেখুন
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() নাকের অ্যালার্জি সমস্যা? সমাধান দেখুন নাকের অ্যালার্জির কারণ অ্যালার্জি প্রধানত ৪টি কারণে হয়ে থাকে- ধুলাবালি, ঠান্ডা, নির্দিষ্ট খাদ্য থেকে, নির্দিষ্ট কোনো ঘ্রাণ (কয়েলের ঘন্ধ/সুগন্ধি বডি স্প্রে)। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়, খাদ্যের অ্যালার্জি। যদিও অতিসংবেদনশীলতা অ্যালার্জির মূল কারণ কিন্তু অ্যালার্জি ব্যক্তিবিশেষে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন রূপে হয়ে থাকে। মূলত; শ্বাসের সঙ্গে নাসারন্ধ্রে ঢুকে যাওয়া অ্যালার্জি উদ্রেককারী বস্তুকেই অ্যালার্জির প্রধান কারণ বলে মনে করা হয়। তবে অ্যালার্জি উদ্রেককারী খাবার গ্রহণের কারণে, নাকের অ্যালার্জি হওয়ার ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না। শ্বাসের সঙ্গে নাকের মধ্যে ঢুকে পড়া অ্যালার্জি উদ্রেককারী এ বস্তুকে বলা হয় অ্যালার্জেন। মাইট (এক ধরনের কীট) যা পুরোনো বইপত্র বা পত্রিকায় থাকে, বাসার পুরোনো ধুলা (ঘুণে ধরা); কসমেটিকস, ফুলের রেণু ও পশুপাখির লোমে অ্যালার্জেন (যা অ্যালার্জি সৃষ্টি করে) থাকে। এ ছাড়া গাড়ি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া, সিগারেটের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার বিভিন্ন উপাদানও অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। কিছু খাবার যেমন-ইলিশ মাছ, বোয়াল, চিংড়ি, বেগুন, হাঁসের ডিম কারও কারও ক্ষেত্রে অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। শীতকালে শুষ্ক আবহাওয়ায়, বাতাসে ধুলাবালি বেশি থাকে তাই এ সময় এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। অনেকের মৌসুমি অ্যালার্জি থাকতে পারে, যা বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময় ছাড়া বাকি সময় থাকে না। বাসস্থান পরিবর্তন করে নতুন পরিবেশে গেলেও, অ্যালার্জিক রাইনাইটিস হানা দিতে পারে। কীভাবে হয় যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে তারা অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে এলে রক্তে আইজি-ই-এর মাত্রা অনেক বেড়ে যায় এবং এ আইজি-ই নাকের ভেতরে থাকা মাস্ট সেল নামক কোষকে ভেঙে দেয়। ফলে এ কোষ থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ বের হয়ে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে নাকে প্রদাহ ঘটায়। ঠান্ডা থেকে নাসারন্ধ্রের স্নায়ুকোষের রিসেপ্টরকে উদ্দীপ্ত করার ফলে হাঁচির উদ্রেক করে। লক্ষণ নাক চুলকানো, একনাগাড়ে কয়েকটি হাঁচি, নাক দিয়ে পানি ঝরে যাওয়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, মাঝে মাঝে এর সঙ্গে মাথাব্যথা। অনেক সময় এসবের সঙ্গে কারও কারও চোখ দিয়ে পানি পড়ে এবং চোখ লাল হয়ে যায়। অনেকদিন ধরে এ ধরনের অ্যালার্জিতে আক্রান্ত রোগীদের নাসারন্ধ্রের পার্শ্ববর্তী মাংসপিণ্ড (ইনফিরিয়র টারবিনেট) ফুলে থলির মতো বড় এবং বিবর্ণ হয়ে যায়। প্রতিরোধ অ্যালার্জি প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হলো, কারণ শনাক্ত করে তা এড়িয়ে চলা। এজন্য রোগীকে সতর্কতার সঙ্গে খুঁজে বের করতে হবে তার শরীরে কী কী কারণে অ্যালার্জি হয়। যাদের এ সমস্যা আছে তারা শীতের ধুলাবালি এড়িয়ে চলতে অথবা রাস্তায় গাড়ির কালো ধোঁয়া থেকে রক্ষা পেতে মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। যদি কারও কুকুর বা বেড়ালের সংস্পর্শে গেলে অ্যালার্জি হয়, তাহলে পশমযুক্ত প্রাণী ও পাখি থেকে দূরে থাকা উচিত। চিকিৎসা এরকম সমস্যা দেখা দিলে তা বিনা চিকিৎসায় রেখে দেওয়া ঠিক হবে না। কারণ পরে শ্বাসকষ্ট, বয়স্কদের নাকের পলিপাসসহ অন্য জটিল সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদিও অ্যালার্জেন বা অ্যালার্জির কারণ এড়িয়ে চলা এ রোগের প্রধান চিকিৎসা। তবে এর সঙ্গে ওষুধ প্রয়োগ করে অনেকটাই উপশম বা মুক্তি পাওয়া যায়। এ রোগের চিকিৎসায় প্রধান ওষুধ হলো অ্যান্টি-হিস্টামিন, স্টেরয়েড জাতীয় নাকের স্প্রে। এ ছাড়া বয়সভেদে মন্টেলুকাস্ট জাতীয় ট্যাবলেট বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে। স্টেরয়েড জাতীয় নাকের স্প্রে এক্ষেত্রে একনাগাড়ে অনেকদিন (৩ মাস বা এর অধিক) ব্যবহার করলে, নাকের বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই অবশ্যই নাকের স্প্রে একজন নাক-কান-গলা রোগে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মতে ব্যবহার করবেন। দীর্ঘমেয়াদি অ্যালার্জি ওষুধ দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে যারা অনেকদিন ধরে অ্যালার্জিক রাইনাইটিসে ভুগছেন এবং ওষুধ দিয়েও কোনো ফল পান না, তাদের ক্ষেত্রে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ সার্জনরা নাকের ভেতরে ফুলে যাওয়া মাংসপিণ্ড (ইনফিরিয়র টারবিনেট) পুড়িয়ে দিয়ে (Electrocauterization) চিকিৎসা করে থাকেন, তবে তা খুব কম। এ ছাড়া Allergic rhinitis-এর রোগীরা নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে বছরে একবার বাজারে প্রচলিত ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাক্সিন নিতে পারেন, এতে অ্যালার্জির অ্যাটাক তুলনামূলক কম ও হালকা হয়। নাকের অ্যালার্জিজনিত হাঁচি-সর্দির সুচিকিৎসা না হলে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। অ্যালার্জিক রাইনাইটিস থেকে শতকরা ২৫ ভাগ রোগীর হাঁপানি হতে পারে। এ ছাড়া নাকের অ্যালার্জিজনিত সর্দি থেকে সাইনোসাইটিস, নাকের পলিপাসও হতে পারে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
