রোহিঙ্গাদের ভাষা শুনে চেহারা দেখে কাপড়-চোপড় দেখে তো মনে হয়Ñ তারা যতো না মিয়ানমারের লোক, তার চেয়ে বেশি বাংলাদেশের লোক। এগারো লাখ অশিক্ষিত লোক, তার মধ্যে অনেকেই বর্বর, চোর, ডাকাত, চোরাকারবারি, খুনি, ধর্ষক, ধর্মান্ধ, সন্ত্রাসী। বাংলাদেশে এমন লোকের কি আদৌ অভাব? বাংলাদেশের লোকদের চরিত্র কি রোহিঙ্গাদের চরিত্র থেকে খুব আলাদা? বাংলাদেশে যদি বাস করতে চায় তারা, করুক। মূল¯্রােতে মিশে যাক। পনেরো কোটি মানুষের দেশে এগারো লাখ এমন কোনো বড় সংখ্যা নয়। পৃথিবীতে সবারই অধিকার আছে যেখানে খুশি যাওয়ার, যেখানে খুশি বাস করার। জার্মানি যখন এগারো লাখ অশিক্ষিত আরব মুসলমানদের আশ্রয় দিয়েছে, বাংলাদেশের লোকেরা খুশিতে হাততালি দেয়নি? দিয়েছে। এখন রোহিঙ্গাদের প্রশ্নে জার্মানির মতো হতে পারছে না কেন? অন্যে উদার হলে ঠিক আছে, নিজের উদার হওয়ার দরকার নেই? রোহিঙ্গাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছো কেন, বাপু। তোমরা যখন ইউরোপ-আমেরিকায় গিয়ে আশ্রয় ভিক্ষা চাও, তোমরাও তখন এক একটা রোহিঙ্গা। তোমরা যখন আরব দেশে শ্রমিকের কাজ করতে যাও, তোমাদেরও রোহিঙ্গাদের মতো দেখায়। তোমরা যখন রোহিঙ্গাদের গালি দাও, তোমরা আসলে নিজেদেরই গালি দাও।
নির্বাচিত মন্তব্য : অ.ক. মিয়াজী- সা¤্রাজ্যবাদী শক্তি এবং মৌলবাদী শক্তির মিশ্রণ হচ্ছে রোহিঙ্গাদের ভাগ্য চক্র। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী দীর্ঘ সময় ধরে অবহেলিত নিস্পেষিত জনগোষ্ঠী, যারা অশিক্ষা কুশিক্ষায় রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদের প্রভাব সইতে সইতে আজকের এই অবস্থানে এসেছে। একটি জাতিকে দীর্ঘ সময় সঠিক শিক্ষা এবং সাধারণ নাগরিক অধিকার থেকে দূরে রেখে সভ্যতা আশা করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বাংলাদেশের দুর্বল পররাষ্ট্রনীতি এবং রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়নের ফলে এখানে সিস্টেমেটিক রোহিঙ্গাদের মাইগ্রেট হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার বাধ্য হয়েছে আশ্রয় দিতে। ৯০ শতাংশ মুসলিম বাংলাদেশিদের আগ্রহ অনেকটা ভূমিকা রেখেছে। এখন তাদের দেশে পাঠানো সহজ বিষয় নয়। মিয়ানমার সরকার তাদের নির্মম অত্যাচার গণহত্যা ধর্ষণসহ যে আতঙ্ক দিয়ে তাদের দেশ থেকে বের করেছে, ফিরিয়ে নেয়ার জন্য নয়। ফেসবুক থেকে