|
গুপ্তদের কবলে বাংলা একাডেমি : শুদ্ধিঅভিযান জরুরি
নতুন সময় প্রতিবেদন
|
![]() গুপ্তদের কবলে বাংলা একাডেমি : শুদ্ধিঅভিযান জরুরি নির্বাচনের পর বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলেও ‘গুপ্ত’ সেজে থাকা জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের আগ্রাসনী ভূমিকা পালন করছে বাংলা একাডেমিতে। সেই সাথে দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গন দখলে মরিয়া ওই গুপ্তের লোকজন। সেই লক্ষ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের ‘গুপ্ত’ সেজে থাকা জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা নানা কৌশল অবলম্বন করছে। গুপ্তের লোকজনের কবলে দেশের প্রধান সাহিত্যিক প্রতিষ্ঠান জাতির মননের প্রতীক বাংলা একাডেমি। এদিকে প্রতিষ্ঠানের প্রকল্পের টাকা হরিলুটসহ ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। শেখ মুজিবুর নিয়ে গবেষণা করা পরিচালক ড. হারুন এখন জিয়াউর রহমানের জীবনীগ্রন্থের দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও বাংলা একাডেমিতে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি শেষ হওয়া অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও ওঠেছে। বাংলা একাডেমির মতো একটি প্রতিষ্ঠানের ড. মুহাম্মদ ইউনুস সরকার জামায়াতের নির্দেশে ও পরামর্শে ‘গুপ্ত’ হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক মোঃ গোলাম আজমকে মহাপরিচালক হিসেবে বসিয়েছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের শত শত বই উধাও করে দিয়েছেন। যার বাস্তব উদাহরণ শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মুক্তিযুদ্ধে নিয়ে লেখা বই। তার একাধিক বই কোন প্রকার অনুমতি ছাড়াই কেজি দরে বিক্রি করে দিয়েছে যা পরবর্তীতে ফেসবুকে বিক্রি হতে দেখা যায়। যার একটি বই লক্ষাধিক টাকা হিসেবে বিক্রি হয়েছে। এদিকে গুপ্তদের সহযোগী হিসেবে সরকারি অথ অপচয় করে মহাপরিচালক ডাকসু ও জাকসুতে নিবাচিতদের প্রকাশনা বিষয়ক প্রশিক্ষণের আয়োজন করে বলে জানা যায়। অন্যদিকে ইন্টেরিম সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত গুপ্ত জামায়াত এবং তার সুবিধাভোগী পল্টিবাজ এবং দুর্নীতিপরায়ণ সিন্ডিকেট বর্তমানে সবকিছু বিবর্জিত করে কিভাবে তাকে একাডেমিতে বহাল রাখার নীলনকশা প্রণয়নে সদা ব্যস্ত। এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় দেখেও না দেখার ভান করছে। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, মহাপরিচালক হিসেবে মোহাম্মদ আজম নিয়োগ পাওয়ার পর বাংলা একাডেমিতে দুটি পুরস্কার দেওয়া হয়। এই দুটি পুরস্কার এর বিষয়ে অনেক নয় ছয় করার অভিযোগ রয়েছে। প্রথমে ২০২৫ সালের বাংলা একাডেমির পুরস্কারটি দুজনের নাম বাতিল ও পরে স্থগিত এবং শেষে প্রত্যাহার করা হয়। যা বিগত বাংলা একাডেমির ইতিহাসে হয়নি। ২০২৬ সালের বাংলা একাডেমির পুরস্কারের বিষয়ে বিএনপির সরকারকে ফাঁদে ফেলার জন্য প্রথমে কবি মোহন রায়হানের নাম পুরস্কার হিসেবে ঘোষণা করা হয় কিন্তু পরবর্তী করা হয় যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য ওইদিন একুশে বইমেলা উদ্বোধনের দিন পুরস্কারটি দেওয়া হয় না। এতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এবং দলীয় বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন এই জামাত ঘেষা মহাপরিচালক। আসলে সে জামাতের মিশন বাস্তবায়নের জন্য বাংলায় একাডেমিতে এসেছেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের আকার আকৃতি ছোট হলেও রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিকভাবে এর সম্মান ও ভূমিকা অন্য যে কোন মন্ত্রণালয়ের চেয়ে অনেক বেশি। গত ইন্টেরিয়র সরকারের সময় এই মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ছিলেন মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী। যার অপকর্ম সম্পর্কে নতুন করে বলার প্রয়োজন পড়ে না। আর সচিবের দায়িত্বে ছিলেন ফ্যাসিস্ট সরকারের মো. মফিদুর রহমান। এরা বিভিন্ন অধিদপ্তর, দপ্তর, সংস্থায় যাদের প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল তাদের অপকর্ম, ব্যর্থতা আর অনভিজ্ঞতা এতটাই প্রবল যে ইতোপূর্বে কোন কাজে বা উন্নয়নতো হয়নিই; বরঞ্চ এখন তারা দ্বিগুণ উৎসাহে নতুন উদ্যেমে আবার তাদের সরব হয়ে উঠেছে। লেখকরা মনে করেন, দ্রুত মহাপরিচালক, সচিব পদে পরিবর্তন এনে একজন একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া। যেহেতু এমনিতেই বিএনপির বুদ্ধিজীবী, লেখক, সাহিত্যিক কম; তার উপরে দীর্ঘ ১৭ বছরের খরায় এই পদে লোক পাওয়া কষ্টকর তবুও বয়স বিবেচনায় এনে দ্রুতই পদে মহাপরিচালক নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। লক্ষ রাখতে হবে বিএনপিতে ঘাপটি মেরে বসে থাকা জামায়াত বুদ্ধিজীবীরা যেন এই সুযোগে আবার পুনরায় পুনঃস্থাপিত না হয়। অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ: গত ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া অমর একুশে বইমেলা গত ১৫ই মার্চ শেষ হয়েছে। এবারের বইমেলা অনেকটাই ছিল নিয়ম রক্ষার তাগিদ থেকে আয়োজিত। প্রকাশকদের একটা বড় অংশ ফেব্রুয়ারির শেষে শুরু হওয়া এ মেলায় অংশ নিতে চাননি। পবিত্র রমজান মাসের মধ্যেই শুরু হয় বইমেলা। এ কারণে মেলায় লোকসমাগম কম হওয়ার আশঙ্কা ছিল তাঁদের। বাস্তবেও তা–ই হয়েছে। অন্যদিকে বাংলা একাডেমির আয়োজনেরও ঘাপলা ছিলো। এবারের বইমেলায় ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট দায়সারা কাজ করছে বলে জানা যায়। বাংলা একাডেমির সাথে চুক্তির নিয়মানুসারে ডেকোরেটর, সাউন্ড সিস্টেমসহ বিভিন্ন খাতে কোটি টাকার বিল তারা পরিশোধ করেনি। উল্টো একাডেমির কাছে কোটি টাকা চাচ্ছে এবং এ টাকা দেওয়ার জন্য সচিব ড. মো: সেলিম রেজা জোর চেষ্টা করছেন। প্রকল্পের টাকা হরিলুট : বাংলা একাডেমির আধুনিকায়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. হাসান কবিরের চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে অবসর গ্রহণ করার পর ওই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক যখন নেই তখন এই মহাপরিচালক স্বয়ং নিজে ওই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হন। প্রকল্পটি আগে থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ ছিল বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দুর্নীতিতে এটা দুইবার প্রকল্পটি স্থগিত থাকার পর পুনরায় চালু হয়। বর্তমান মহাপরিচালক কাজ শেষ না করেই প্রকল্পের টাকা ভাগ বাটোয়ার করে নিয়েছেন। প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ টাকা মহাপরিচালক দুর্নীতি করেছে বলে বিশ্বস্থসূত্রে জানা যায়। খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, বাংলা একাডেমি ডিজিটালাইজেশন অর্থাৎ সার্ভার ও অন্যান্য কাজ হাতে নেওয়া হয়। কিন্তু দুর্নীতির কারনে কাজগুলো যথাযথভাবে হয়নি। তাই বাংলা একাডেমি ডিজিটালেশনের জন্য মন্ত্রণালয়ের পত্র প্রেরণ করেন মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম। প্রায় দুই কোটি টাকার বাজেট অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয় প্রেরণ করার পর মন্ত্রণালয় বিভিন্ন দিক বিচার বিশ্লেষণ করে পত্রটি ফেরত প্রদান করেন। ডিজিটালেশন প্রকল্পটি আগেই ছিল বলে ফেরত দেওয়া হয়। কিন্তু দুর্নীতিগ্রস্ত মহাপরিচালক কাজটি করবে মানে এই কাজটি করার জন্য আগে থেকেই একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে অলিখিত চুক্তি করেছিল, যারা আনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা। তাই ৬০ লক্ষ টাকা লুটপাটের জন্য বাংলা একাডেমির নিজস্ব অর্থায়নে কোন প্রকার বিশেষজ্ঞ সদস্য ছাড়াই দ্বিতীয় শ্রেণীর একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে টেন্ডার করে নাম সর্বস্ব একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ করে কাজটি সম্পন্ন করেছেন। প্রশ্ন হলো দুই কোটি টাকা বাংলা একাডেমি কোন খাত থেকে পেয়েছে এবং তার সঠিক তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত বলে মনে করেন বাংলা একাডেমির সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা। ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ : বাংলা একাডেমির বিভিন্ন বিভাগ ও উপবিভাগের অব্যবহৃত মালামাল কোন প্রকার কোন ইনভেন্টরি না করেই নিলামে বিক্রি করে দিয়েছেন। এতে বাংলা একাডেমীর আর্থিক ক্ষতির ক্ষতি ক্ষতি হয়েছে এই ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ২০ লক্ষ টাকা। যার নিজেদের মধ্যে তারা পরবর্তীতে হাত বাটোয়ারা করে নিয়েছে। জানা যায়, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বাংলা একাডেমির ক্রনিস শাখার দায়িত্বে থাকা উপপরিচালক ওলিদুর রহমান খান সোপান ও মিলনায়তন উপবিভাগের এস এম জাহাঙ্গীর কবীর, সচিব ড. মো. সেলিম রেজা এবং আওয়ামী লীগপন্থী পরিচালক সমীর কুমার সরকার। বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গনে ক্যান্টিন চালু করার বিষয়ে কোন প্রকার টেন্ডার ছাড়াই এর কাছের লোক বলে আলতাব শাহনেওয়াজের স্ত্রীর প্রতিষ্ঠান এন কিচেন কে বরাদ্দ দেন। বর্তমানে আবারও একাডেমির ক্যান্টিন সচিব মো. সেলিম রেজার এলাকার লোককে বরাদ্দ নিয়েছেন বলে জানা যায়। অপরদিকে বিভিন্ন টেন্ডার এসি ক্রয়, টেন্ডার বহিবৃত সর্বনিম্নদাতা প্রতিষ্ঠান হওয়ার পরও উক্ত প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ না দিয়ে পছন্দের লোককে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সিডিউলের বাহিরে অনেক কাজ থাকার কারণে পরবর্তীতে আরো প্রায় ছয় লক্ষ টাকার অধিক বিল উক্ত প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করা হয়। এখানে প্রশ্ন থাকে যে, কোন টেন্ডার সিডিউল করলে সবকিছু দেখে করতে হয় তাহলে কি বাংলা একাডেমিতে সিডিউল করার মত কোন যোগ্য ব্যক্তি নেই এই ক্ষেত্রে বাংলায় একাডেমির প্রায় ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বাংলা একাডেমির স্টাফ কোয়াটার্স ও বাংলা একাডেমির ভিতর ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ নির্বিচারে কেটে ফেলে লুটপাট কটা হয়।পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই প্রায় একশো পঞ্চাশের অধিক গাছ কর্তন করে বিক্রি করা হয়েছে। গাছগুলোর এই বিক্রিত টাকা বাংলা একাডেমির কোন ফান্ডে যথাযথ ভাবে জমা হয়নি। চ্যানেল আইয়ের একটি বিশেষ টিম গাছগুলো কাটার ভিডিও ধারণ করে একটি সচিত্র দেখানোর উদ্যোগ গ্রহণ করলে মহাপরিচালক উক্ত টিমকে ম্যানেজ করে পরিস্থিতি ধামাচাপা দেয়। শেখ মুজিবুরকে নিয়ে গবেষণা করা ড. হারুন এখন জিয়াউর রহমানের জীবনীগ্রন্থের দায়িত্বে: ড. হারুন রশিদ বর্তমানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের জীবনীগ্রন্থের প্রণয়ন ও প্রকাশনা কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ড. হারুনের দায়িত্ব থাকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিশিষ্টজনদের মধ্যে বিস্ময় ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তারা আশ্চর্য হচ্ছেন যে, একজন আত্মস্বীকৃত আওয়ামী সমর্থক ও সুবিধাভোগী গবেষককে কীভাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবনীগ্রন্থের সম্পাদনা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা হলো। ড. হারুন রশিদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, পতিত স্বৈরশাসকের আমলে তিনি নিজেকে শাসক দলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। এছাড়া সরকারি একটি চিঠিতে নিজেকে “আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী” হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়াও 'বঙ্গবন্ধু' শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকাশনায় তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ রয়েছে। ড. হারুনের জিয়াউর রহমানের জীবনীগ্রন্থে সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ এবং পূর্বে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কিত গবেষণা ও প্রকাশনায় সম্পৃক্ততার এই দ্বৈত ভূমিকা নিয়ে বিশিষ্টজনরা উদ্বিগ্ন। বাংলা একাডেমি, যা একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান, কেন এমন বিতর্কিত ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়েছে—এটি নিয়ে এখনো নানা প্রশ্ন এবং সমালোচনা হচ্ছে। শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও গবেষক মহলের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে যথেষ্ট আলোচনাও চলছে। ক্ষমতার অপব্যবহার ও পক্ষপাতমূলক প্রশাসন: দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অযৌক্তিক সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে—মর্মে অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও নেতাকর্মীকে সুযোগ-সুবিধা ও গুরুত্বপূর্ণ আসনে অধিস্থিত করা হচ্ছে। বাংলা একাডেমির প্রশাসন ও সংস্কৃতি উপবিভাগে আওয়ামী লীগের লোকজন হিসেবে পরিচিত পরিচালক সমীর কুমার সরকার, পরিচালক ড. সরকার আমিন, উপপরিচালক ইমরুল ইউসুফ, উপপরিচালক জাহাঙ্গীর কবীরকে দিয়ে অফিসের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা আওয়ামী লীগ পন্থী সচিব ড. মো. সেলিম রেজার সঙ্গে আতাঁত করে অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতি করে যাচ্ছে। তাদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ, বৈষম্য ও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে একটি অস্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। যে সব কর্মকর্তা সচিব ড. মো. সেলিম রেজাকে চাটুকরিতা করতে পারে তারাই সুযোগ-সুবিধা পায়। ফলে বাংলা একাডেমিতে চাটুকারিতা নির্ভর প্রশাসনিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। বাংলা একাডেমিতে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম : আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে বাঙালীর প্রাণের প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমিতে পুরস্কৃত হচ্ছেন ফ্যাসিবাদী তোষামদকারীরা। মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম তাদের প্রভাব মুক্ত হতে পারেননি। অন্যদিকে বিএনপিপন্থী ও সাধারণ কর্মকর্তা নানাভাবে হয়রানি ও কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। বর্তমানে প্রশাসনের সর্বত্র ফ্যাসিস্ট সরকারের চাটুকারদের দৌরাত্ম। এর অংশ বিশেষ হিসাবে অমর একুশে বইমেলা-২০২৬ এর পরিচালনা কমিটিতে 'সদস্য-সচিব' হিসেবে বাংলা একাডেমির সচিব ড. মো. সেলিম রেজাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে-যা নীতিমালার পরিপন্থি। বাংলা একাডেমি কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তা সব সরকারের সময়ই প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে সুবিধাভোগ করছে। এই সরকারের সময়েও তারাই সক্রিয়। জানা যায়, বাংলা একাডেমি সচিব ড. মো. সেলিম রেজা ফ্যাসিস্ট সরকারের একজন প্রতিনিধি। সার্বিক বিবেচনায় বাংলা একাডেমি এখন অগস্ত্য যাত্রায় আছে। বাংলাদেশের স্বার্থে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমিতে চলমান অনিয়ম ও দুর্নীতি বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক বাংলা একাডেমিকে অধিক সক্রিয় ও দুর্নীতিমুক্ত করে ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানকে বাচাঁতে সংস্কৃতি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
