|
কক্সবাজারে ১৪৪ ধারা ভেঙে দখলচেষ্টা, গভীর রাতে দুই দফা সশস্ত্র হামলায় গৃহবধূসহ গুরুতর আহত ৪
রোমানা আক্তার, কক্সবাজার
|
![]() কক্সবাজারে ১৪৪ ধারা ভেঙে দখলচেষ্টা, গভীর রাতে দুই দফা সশস্ত্র হামলায় গৃহবধূসহ গুরুতর আহত ৪ ভুক্তভোগী ইয়াসমিন (ছদ্মনাম) একই এলাকার মহিমের স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ৪ মার্চ রাত আনুমানিক ১টার দিকে স্বামী ঘরে না থাকার সুযোগে ছৈয়দ আহমদ প্রকাশ বার্মাইয়ার ছেলে আব্দুর রহমান বিশ্বাস ও তার ভগ্নিপতি ওমর জোরপূর্বক তার বসতঘরে প্রবেশ করে। তারা তাকে ঝাঁপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। বাধা দিলে শ্লীলতাহানি, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাকে ঘরছাড়া করার ভয় দেখানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি। স্থানীয়রা জানান, ঘটনার সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা সরে যায়। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হলে রাত আনুমানিক ২টার দিকে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন। এসময় খরত আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে আব্দুল খালেক, মান্নান, হান্নান, নুরুল আলম প্রকাশ লেড়াইয়া মো. আলম, তার ছেলে রেজাউল করিম, তার ভাই সাজ্জাদ, সৈয়দ আহমদ প্রকাশ বার্মাইয়ার ছেলে মো. হোসেন এবং বার্মাইয়ার মেয়ের জামাই হোয়ানকের মোশাররফসহ একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রসহ মহিমের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় নেছার আলম, কফিল উদ্দিন, সবুর খান ও বাবুল গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এদিকে স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বিরোধীয় জমি নিয়ে ছৈয়দ আহমদ প্রকাশ বার্মাইয়ার সঙ্গে বিরোধ চলছিল। চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এমআর মামলা (নং-১৫৯/২৬) দায়ের করা হয়। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধীয় জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয় এবং ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। আদালত সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। অভিযোগ উঠেছে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই পরিকল্পিতভাবে রাতের অন্ধকারে দখলচেষ্টা ও সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকা সত্ত্বেও এমন হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, প্রশাসনের সক্রিয় নজরদারি থাকলে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো যেত। দ্রুত গ্রেপ্তার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে মুঠোফোনে অভিযুক্তদের সাথে যোগযোগের চেষ্টা করা হলে তারা কল রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)মোহাম্মদ মজিবুর রহমান জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। বর্তমানে ঘোনা পাড়া এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
