|
প্রধানমন্ত্রীর সকল কার্যক্রম প্রশংসনীয়, আলোচিত
ইসহাক আসিফ
|
![]() প্রধানমন্ত্রীর সকল কার্যক্রম প্রশংসনীয়, আলোচিত তারেক রহমান কথায় বড়ো হতে চান না, চান কাজে বড়ো হতে। তাঁর রয়েছে বিশেষ গুণাবলি ও মন-মানসিকতা। সরকার হিসেবে বিএনপির মাত্র পাচ মাস পার হয়েছে। যদি উদাহরণ টানি, তাহলে এভাবে বলতে পারি যে একটি প্রতিষ্ঠানের নতুন ‘প্রধান’ যখন যোগদান করেন, তখন তার অফিসের টেবিল-চেয়ার পরিষ্কার করতেই দুই মাসের অধিক সময় লেগে যায়। ক্ষমতায় এসে বিএনপি সেদিক থেকে মাত্র পাচ মাসে প্রধানমন্ত্রী ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে। দেশ ও জাতির কল্যাণে আগামীতে এই পদক্ষেপ আরও বাস্তবায়ন হবে বলেও আমরা বিশ্বাস করছি। তারেক রহমান রাষ্ট্রের উন্নত কল্যাণ সাধনে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। শুধু কথার বুলি না উড়িয়ে, একজন রাষ্ট্রপ্রধান হয়েও তিনি শারীরিক পরিশ্রম করতেও কোন কার্পন্য দেখাচ্ছেন না। যুগের প্রতীক তারেক রহমানের মধ্যে সেই ‘ছেলে’ আর ‘কাজ’ মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। রাত নেই, দিন নেই-সমতালে তারেক রহমান বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে বিরামহীন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। অযথা, অপ্রয়োজনীয় কথা এবং শুধুই প্রতিশ্রুতির বুলি নয়-এমন বিষয় পরিহার করে তিনি প্রকৃতপক্ষেই সর্বজনীন কাজ করছেন। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর শুধু দলের লোকজনদের কাছেই নয়, তার কর্ম, মেধা ও ত্যাগ বিনিময়ে অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সমর্থকসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। বিএনপি গঠিত সরকারের দুই মাস অতিবাহিত সময়ের মধ্যে তারেক রহমান নিজ উদ্যোগে নেওয়া অনেক কার্যক্রম সর্বজনীন প্রশংসা পেয়েছেন। যেমন, সচিবালয়ে অফিস কার্যক্রমে সকাল ৯টার আগেই উপস্থিত হয়েছেন। এর কার্যক্রম গভীর রাত পর্যন্ত অব্যাহত রেখেছেন। সামাজিক সুরক্ষা বাড়াতে ফ্যামিলি কার্ডসহ অন্যান্য কার্ড চালু করেছেন। নদী খনন, খাল খনন কর্মসূচি চালু রেখেছেন। বিরোধী দলীয় নেতাদের সাথে রাজনৈতিক সৌহার্দ্য রেখেছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আহত ও নিহত শহীদ পরিবারের পাশে রয়েছেন। এইসবের বাইরেও পথচারীসহ বিভিন্ন প্রোগ্রামে সাধারণদের কাছে ডেকে সেলফি ও ছবি তুলে প্রশংসিত হয়েছেন। ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। এরআগে তিনি লন্ডনে দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছেন। তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর স্বরণকালের ঐতিহাসিক বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক আলোড়ন সৃষ্টি করে। আর এই বক্তব্যে তিনি জাতীয় নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। তারেক রহমান রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে বেশি কথা প্রাধান্য না দিয়ে কাজকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। অর্থাৎ আমরা এভাবে বলতে পারি ‘কম কথা, বেশি কাজ’। তারেক রহমান দেখাচ্ছেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসাটা ভোগের নয়। সেটি ত্যাগের। আর এই ত্যাগ করতে হলে কাজের মাধ্যমে করতে হয়। ক্ষমতায় আসার পর অনেক চ্যালেঞ্জিং কার্যক্রম তারেক রহমানের হাতে বাস্তবায়ন হয়েছে। তিনি ব্যাপক প্রশংসা ও জনসমর্থন পাচ্ছেন। রাজনীতিতে পজিটিভ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। অকল্পনীয় বেশ ঘটনা ও দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং সংবাদমাধ্যমে তারেক রহমান আলোচিত হচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২৭ এপ্রিল খুলনা উলশী-যদুনাথপুর খাল পুন:খনন উদ্বোধন করেছেন। এরআগে ১৬ মার্চ দিনাজপুরের সাহাপাড়ায় খাল-খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এই দুটি কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনায় দেখেছি তিনি নিজ হাতে কোদাল দিয়ে প্রকৃত দক্ষ কৃষকের মতো মাটি কেটেছেন। শুধু কী কোদাল দিয়ে মাটি কেটেই শেষ করেছেন, তা, নয়; মাটিগুলো একটা টুকরির মধ্যে ভরে কৃষকের মাথায় নিজ হাতে তুলে দিয়েছেন। একজন সাধারণ মানুষ যেভাবে গাছ লাগিয়ে থাকেন, ঠিক সেভাবেই খালের পাড়ে গাছও লাগিয়েছেন। তারেক রহমান যে একজন দক্ষ ও মানবিক নেতৃত্ব-এটি রাষ্ট্রপরিচালনায় তার কাজের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। তার পিতা স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মাতা আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তারেক রহমানের ভাষায়, বিএনপির রাজনীতি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি। আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তিলে তিলে রক্ত দিয়ে হলেও তা পালন করা হবে। তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে দিচ্ছে বিএনপি তথা তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে শুধু ভোগ করতে আসেন-নি। রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছেন ত্যাগ ও মানুষের জন্য সেবা করতে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হচ্ছে, আগামী ৫ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার ‘জিয়া খাল’ খনন করবে বিএনপি। আর এটির উদ্দেশ্য হলো, গ্রামীণ অর্থনীতি সচল করা। করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর এই নতুন স্লোগান দেশে সাড়া ফেলেছে। তিনি সকল মহলের প্রশংসা পাচ্ছেন। তারেক রহমান বলেছেন, সিঙ্গাপুর যদি ৫০ বছরে বদলে যেতে পারে, তবে বাংলাদেশ কেন পারবে না? ১৯৭১ ও ২০২৪-এ এদেশের মানুষ অসাধ্য সাধন করেছে, এবারও দেশ গড়তে তারা সফল হবে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে তারেক রহমান যত উদ্যোগ ও কাজ করেছেন সবই প্রশংসিত হয়েছে। যশোরে বাস থেকে নেমে দাঁড়িয়ে থাকা নিলিমা ও তার শিশু সন্তানকে ডেকে নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তাদের সাথে তুলেছিলেন সেলফিও। এমন এক অভাবনীয় দৃশ্য, যা ছিল কল্পনাতীত। তবুও হৃদয় জুরানো দৃশ্য দেখেছিল সারা বাংলাদেশ। এরপর সেই নিলিমা ও শিশু সন্তানের জন্য তারেক রহমান উপহার পাঠিয়েছেন তাঁর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনের মাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের অভিভাবক। জনগণের ভালোমন্দ দেখা সবার আগে তার দায়িত্ব। বাংলাদেশ স্বাধীনের পর বেশ কয়েকজন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি। যদি দেশপ্রেম প্রধানমন্ত্রীর কথা বলি-তাহলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া এবং তাদের যোগ্য পুত্র বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবার উপরে থাকছেন। সেই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও মানবিক কার্যাক্রমের স্বাক্ষী থেকে যাচ্ছেন তারেক রহমান। লেখক: ইসহাক আসিফ বিশেষ প্রতিনিধি, দেশবার্তা, অর্থ সম্পাদক, বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি, ঢাকা।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
