ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ২৮ জুন ২০২৬ ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
শিক্ষা-সংস্কৃতি বান্ধব বাজেট: মানবসম্পদভিত্তিক বাংলাদেশের নতুন দিগন্ত
রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী
প্রকাশ: Sunday, 28 June, 2026, 12:33 PM

শিক্ষা-সংস্কৃতি বান্ধব বাজেট: মানবসম্পদভিত্তিক বাংলাদেশের নতুন দিগন্ত

শিক্ষা-সংস্কৃতি বান্ধব বাজেট: মানবসম্পদভিত্তিক বাংলাদেশের নতুন দিগন্ত

বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের একটি আর্থিক দলিল নয়; এটি একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন দর্শন, অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যৎ অভিযাত্রার রূপরেখা। উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে অবকাঠামো, শিল্পায়ন কিংবা কৃ ষির গুরুত্ব যেমন অপরিসীম, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়নের সবচেয়ে কার্যকর ভিত্তি হলো শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে বিনিয়োগ। কারণ সড়ক, সেতু কিংবা বিদ্যুৎ একটি দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় করতে পারে, কিন্তু শিক্ষা ও সংস্কৃ তিই গড়ে তোলে দক্ষ, মানবিক, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে শিক্ষা ও সংস্কৃতি খাতকে যে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক এবং ভবিষ্যতমুখী পদক্ষেপ।

বর্তমান বিশ্ব চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI). অটোমেশন, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির যুগে প্রবেশ করেছে। এই বাস্তবতায় একটি দেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা নির্ভর করছে তার মানবসম্পদের দক্ষতা, গবেষণা, উদ্ভাবনী শক্তি এবং প্রযুক্তিগত অভিযোজনের ওপর। ফলে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ এখন আর কেবল সামাজিক ব্যয় নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার সবচেয়ে লাভজনক বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এটি দেশের মোট জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ এবং গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বেশি। আরও আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয়ের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থনীতিবিদ সহিদুল ইসলাম সুমনের দৃষ্টিতে ‘দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে এটি একটি উচ্চাভিলাষী হলেও সময়োপযোগী নীতিগত অঙ্গীকার। এই বরাদ্দ কেবল অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, দক্ষতানির্ভর এবং কর্মসংস্থানমুখী করার একটি সুস্পষ্ট নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। প্রস্তাবিত বাজেটের অন্যতম ইতিবাচক দিক হলো মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং বাস্তবমুখী শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ। Learning with Happiness' বা আনন্দময় শিক্ষার ধারণা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এমন একটি শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা কেবল পরীক্ষায় ভালো ফল করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সমস্যা সমাধান. উদ্ভাবনী চিন্তা, নেতৃত্ব, দলগত কাজ এবং সমালোচনামূলক বিশ্লেষণের মতো একবিংশ শতাব্দীর অপরিহার্য দক্ষতা অর্জন করবে। বর্তমান বিশ্বে কেবল সনদ নয়, দক্ষতাই কর্মসংস্থানের প্রধান শর্ত। বাজেটের এই দৃষ্টিভঙ্গি তাই সময়ের চাহিদার সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

দেশে শিক্ষিত বেকারত্ব দীর্ঘদিনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। উচ্চশিক্ষা অর্জনের পরও অনেক তরুণের উপযুক্ত কর্মসংস্থান হচ্ছে না। এর অন্যতম কারণ শিক্ষা ও শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি। এই বাস্তবতায় ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই ধাপে ধাপে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা সময়োপযোগী। তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গ্রাফিক ডিজাইন, কৃষি প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্স, রোবোটিক্স, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আধুনিক শিল্পখাতের উপযোগী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হলে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। এর ফলে শুধু বেকারত্ব হ্রাস নয়, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং উচ্চ আয়ের অর্থনীতিতে উত্তরণের পথও সুগম হবে। বাজেটে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি ও ফরাসি ভাষা শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা ঋণের ব্যবস্থা একটি দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক ভাষাজ্ঞান দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের অন্যতম পূর্বশর্ত। ফলে এই উদ্যোগ দেশের তরুণদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ বহুগুণ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবে।

একটি দেশের মানব উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন শিক্ষা সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করা যায়। এবারের বাজেটে অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম, ব্যাগ ও জুতা প্রদান এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ শিক্ষা উপকরণের ব্যবস্থা সামাজিক অন্তর্ভুক্তিকে আরও শক্তিশালী করবে। এসব উদ্যোগ কেবল শিক্ষার প্রসার নয়; দারিদ্র্য হ্রাস, নারী ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্পখাতের সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো আন্তর্জাতিক গবেষণা সূচকে কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। গবেষণাভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে এই খাতে ধারাবাহিক বিনিয়োগ অপরিহার্য। উন্নত বিশ্বের অভিজ্ঞতা বলছে, যে দেশ গবেষণায় বিনিয়োগ করে, সেই দেশই প্রযুক্তি উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দেয়। 
বাংলাদেশের জন্যও সেই পথ অনুসরণ করার এখনই উপযুক্ত সময়। 

প্রস্তাবিত বাজেটের আরেকটি মানবিক ও যুগান্তকারী উদ্যোগ হলো বিদ্যালয় পর্যায়ে এক বছরের মধ্যে শিশুদের জন্য 'মিড-ডে মিল' চালুর ঘোষণা। আন্তর্জাতিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, বিদ্যালয়ে পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পায়, ঝরে পড়ার হার কমে, শিক্ষার মান উন্নত হয় এবং শিশুদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষিত হয়। ফলে এটি কেবল একটি সামাজিক কর্মসূচি নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি মানবসম্পদ উন্নয়নের একটি কার্যকর বিনিয়োগ।

শিক্ষার পাশাপাশি সংস্কৃতি খাতেও সরকার ইতিবাচক কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সংস্কৃ তি খাতে প্রায় ৮২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে সীমিত হলেও এর ভেতরে যে নতুন চিন্তার প্রতিফলন ঘটেছে, তা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পূর্বাচলে একটি আধুনিক Creative Hub এবং জেলা-উপজেলায় আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে সাংস্কৃতিক মঞ্চ, গ্রন্থাগার, বইয়ের দোকান, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী কেন্দ্র, হস্তশিল্প বিপণন কেন্দ্র এবং শিল্পচর্চার আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্বব্যাপী Creative Economy বর্তমানে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক খাতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র, সংগীত, প্রকাশনা, অ্যানিমেশন, ডিজাইন, গেমিং এবং হস্তশিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের যথেষ্ট সম্ভাবনা রাখে। সৃজনশীল অর্থনীতিতে এই বিনিয়োগ ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা বিকাশ এবং রফতানি আয়ের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করতে পারে।

দীর্ঘদিন পর দেশব্যাপী 'নতুন কুঁড়ি' প্রতিযোগিতা পুনরায় চালুর উদ্যোগও প্রশংসার দাবিদার। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে এই প্ল্যাটফর্ম থেকেই এক সময় দেশের বহু খ্যাতিমান শিল্পী, সংগীতশিল্পী, অভিনেতা ও সাংস্কৃ তিক ব্যক্তিত্ব আত্মপ্রকাশ করেন। ফলে এর পুনর্জাগরণ শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং ইতিবাচক সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আজকের বিশ্বে অর্থনৈতিক শক্তির মূল ভিত্তি আর শুধু প্রাকৃ তিক সম্পদ নয়; বরং দক্ষ মানবসম্পদ। বাংলাদেশ যদি আগামী দুই দশকে উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হতে চায়, তবে শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতিতে ধারাবাহিক বিনিয়োগের বিকল্প নেই। ২০২৬- ২৭ অর্থবছরের বাজেট সেই দীর্ঘমেয়াদি যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি রচনা করেছে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন— বাজেটের প্রকৃত সাফল্য বরাদ্দের পরিমাণে নয়, বরং তার কার্যকর বাস্তবায়নে। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বরাদ্দের অর্থ সময়মতো বায় না হওয়া, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব, ব্যয়ের গুণগত মানের ঘাটতি এবং জবাবদিহিতার দুর্বলতা অনেক সময় প্রত্যাশিত সুফল অর্জনে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সুশাসন, স্বচ্ছতা, ফলাফলভিত্তিক ব্যয়, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। সব মিলিয়ে বলা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা ও সংস্কৃতি খাতকে যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক, প্রগতিশীল এবং ভবিষ্যতমুখী। শিক্ষা খাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বরাদ্দ, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর জোর, কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ, গবেষণা ও উদ্ভাবনের প্রণোদনা, আন্তর্জাতিক ভাষা শিক্ষা, নারী শিক্ষা, শিশুদের মিড-ডে মিল এবং সংস্কৃতিতে সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশের উদ্যোগ— সব মিলিয়ে এই বাজেট মানবসম্পদ উন্নয়নকেন্দ্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা উপস্থাপন করেছে। ঘোষিত কর্মসূচিগুলো দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে বাস্তবায়িত হলে এই বাজেট শুধু শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তনই আনবে না; বরং একটি জ্ঞানভিত্তিক, উদ্ভাবনী, সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক বাংলাদেশ গঠনের শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করবে। সে কারণেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বাজেটকে কেবল একটি আর্থিক বরাদ্দ হিসেবে নয়, বরং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের মানবসম্পদ বিপ্লবের সূচনা হিসেবেও বিবেচনা করা যায়।

লেখক: রাজনীতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠক। সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, বিএনপি। সাবেক সভাপতি, জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status