|
সাতক্ষীরার খোলপেটুয়া নদীর বাঁধ ভয়াবহ ভাঙন, আতঙ্কিত এলাকাবাসী
জি,এম,আমিনুর রহমান, সাতক্ষীরা
|
![]() সাতক্ষীরার খোলপেটুয়া নদীর বাঁধ ভয়াবহ ভাঙন, আতঙ্কিত এলাকাবাসী মুহূর্তের মধ্যে প্রায় ১০০ ফুট বেড়িবাঁধের সামনের জায়গা নদীতে চলে যায়। খোলপেটুয়া নদীটি সরাসরি বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেছে। কয়েক বছর আগে এই নদীটির বাঁধ ভয়াবহ ভাঙনের শিকার হয়। স্থানীয়রা জানায়, বিছট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশ থেকে প্রায় দুটি ফোল্ডারে ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বেড়িবাঁধের সংস্কারের কাজ চলছে। এই অবস্থায় হঠাৎ করে প্রায় ১০০ ফুট বেড়িবাঁধের সামনের অংশ নদীতে চলে যায়। এ ঘটনার পর এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিছট গ্রামের নদীপাড়ের বাসিন্দা মাহমুদ হোসেন ও খলিল গাজী জানায়, দীর্ঘদিন একটু একটু করে ভাঙতে ভাঙতে বিছট গ্রাম খোলপেটুয়া নদীর গর্ভে চলে গেছে। এ গ্রামের অধিকাংশ মানুষ বসতভিটা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তাদের আর জায়গা নাই। এরই মধ্যে খোলপেটুয়া নদীর প্রবাল স্রোতের কারণে নদীপাড়ের কিছু অংশ নদীর মধ্যে ভেঙে যায়। ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এ জনপদের মানুষ। তাদের দাবি ত্রাণ নয়, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ। বিছট গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক গাজী, খোকন সরদার ও মালেক সরদার জানায়, ভাঙন আতঙ্কে আমাদের রাত জেগে পাহারা দিতে হচ্ছে। আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি কখন বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। আর এই স্থান থেকে ভেঙে গেলে আনুলিয়া খাজরা ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম প্লাবিত হবে। পাশাপাশি ভাঙন কূলে একটি প্রাইমারি স্কুল রয়েছে। কোমলমতি শিশুদের স্কুলে পাঠিয়ে আতঙ্কিত থাকে অভিভাবকরা। তারা দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানান। আনুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শওকত হোসেন বলেন, কয়েক বছর ধরে বিছট প্রাইমারি স্কুল সংলগ্ন খোলপেটুয়া নদী রক্ষা বেড়িবাঁধে ভাঙন লেগে আছে। একাধিকবার এ স্থানটি সংস্কার করা হলেও প্রবল স্রোতের কারণে ভেঙে যায়। সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুটি ফোল্ডারের মাধ্যমে ৪৩০ মিটার রাস্তা পেলেসিং এর কাজ চলমান রয়েছে। কাজও প্রায় শেষের পথে। কিন্তু শুক্রবার সকালে নির্মাণধীন কাজের মধ্যে ১০০ ফুট বেড়িবাঁধের সামনের অংশে ফাটল ও ভাঙনে নদীর গর্ভে যায়। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস বলেন, বিছট খোলপেটুয়া নদী সংলগ্ন ভাঙনের সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। এলাকাবাসী একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি করে আসছে। হঠাৎ করে দুপুরের জোয়ারে ১০০ থেকে ১৫০ ফুট ভেঙে যায়। বিষয়টি তাৎক্ষণিক পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে দুই এক জোয়ারের মধ্যে ভেঙে আনুলিয়া খাজরাসহ কয়েকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা এসো সুমন হোসেন বলেন, ভাঙনের খবর পাওয়ার পরে ঘটনাস্থান পরিদর্শন করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি। দ্রুত এই ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে মরিচাপ নদীর গোয়ালডাঙ্গা বাজার সংলগ্ন বেড়িবাঁধ ও চাপড়া হাই স্কুল সংলগ্ন বেড়িবাঁধে ব্যাপক আকারে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বাড়ি নদীর গর্ভে চলে গেছে। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
