ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ৩০ মে ২০২৬ ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নারায়ণগঞ্জে ‘অ'পহরণের’ ১৪ বছর পর ফিরেছে রুবেল!
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Friday, 21 May, 2021, 2:12 PM

নারায়ণগঞ্জে ‘অ'পহরণের’ ১৪ বছর পর ফিরেছে রুবেল!

নারায়ণগঞ্জে ‘অ'পহরণের’ ১৪ বছর পর ফিরেছে রুবেল!

ছেলে রুবেলকে অপহরণ করা হয়েছিল বলে মামলা করেন তার মা রাহিমা বেগম। সেই মামলায় দুই বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ ১৯ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান, কেউ পালিয়ে বেড়ান অনেকদিন। এরই মধ্যে ঘটনার সত্যতা না পেয়ে একাধিক তদন্তকারী সংস্থা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। অপরদিকে বার বার নারাজি দেন মামলার বাদী। এদিকে ১৪ বছর ২ মাসেরও বেশি সময় পর কথিত অপহরণের শিকার সেই রুবেল বৃহস্পতিবার (২০ মে) ফিরে এসেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে আলীরটেক ইউনিয়নের কুঁড়েরপাড় এলাকায় এ ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী রুবেলকে ধরে রাত ১০টায় সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

গতকাল সদর থানায় রুবেল জানায়, তার মা তাকে অনেক মারধর করতো। মায়ের মারধরের ভয়ে সে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। গত ১৪ বছর সে ঢাকায় বিভিন্ন দোকানে কাজ করতো।

২০০৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের একটি আদালতে ৭ বছর বয়সী মো. রুবেলকে অপহরন করা হয়েছে এমন অভিযোগে তার মা রহিমা বেগম অপহরণ মামলা করেন।

মামলার এহাজারে বলা হয়, ২০০৭ সালের ২০ জানুয়ারি আনুমানিক বিকেলে ৩টার সময় মামলার বাদী রহিমা বেগমের দুই ছেলে হাবিুর রহমান ও মো. রুবেল বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিল। ওই দিন তাদের মা রহিমা তার বোনের বাড়িতে বেড়াতে যায়। সেই সুযোগে মো. কালাই, নুরুল ইসলাম বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে উঠায়। তারা হাবিুর রহমান ও রুবেলকে বলে ‘তোমাদের জমি থেকে মাটি কাটবো তোমার মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। কত নৌকা মাটি হয়েছে তার হিসাব রাখবে তোমরা। তোমাদের কাছে টাকা দেয়া হবে। তাদের কথা বিশ্বাস করে রুবেল তাদের সঙ্গে চলে যায়। পরে সে ফিরে না আসায় বড় ছেলে হাবিবুর রহমান জমির কাছে তাকে খুঁজতে যায়। সেখানে রুবেল ও মো. কালাই, নুরুল ইসলাম কাউকে পায়নি। পর দিন রহিমা বাড়িতে ফিরে এলে তাকে ঘটনা জানায়। তারা নানা জায়গায় খোঁজ করে রুবেলকে না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে ২৩ ফ্রেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ আদালতে অপহরণ মামলা করেন রহিমা বেগম। মামলায় আসামি করা হয় ১৯ জনকে। তাদের মধ্যে দুইজন বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম ও জুলহাস উদ্দিন রয়েছেন। অন্যরা হলেন- কালাই চান, মনা, আমান, মুসলিম, মানিক, আজিজ, জিন্নাত আলী, সিরি মিয়া, ছালা উদ্দিন, শহর আলী, বাদশা মিয়া, সিরাজুল হক, শুক্কুর মেম্বার, ইয়ানুছ, আউয়াল, রাজু, হোসেন মিস্ত্রি।

সূত্র জানায়, মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে সদর মডেল থানার এসআই মোখলেসুর রহমান। তিনি ২০০৮ সালের ৩০ জুলাই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (এফআরটি) দাখিল করেন। তবে মামলার বাদী আদালতে পুলিশের তদন্তে নারাজি দেন। পরে মামলার তদন্ত পায় সিআইডি। এ সংস্থাও কয়েক মাস তদন্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন আদালতে। এবারও মামলার বাদী রহিমা নারাজী দেন। পরে দায়িত্ব পায় র্যা ব। এ সংস্থা মামলায় অভিযুক্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের রিমান্ডে নেয়। অন্যরা ছিল পলাতক। তবে তারা তদন্ত শেষ করতে না পারায় পরবর্তীতে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় গোয়েন্দা পুলিশ। নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই আসাদুজ্জামান ফরাজী তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (এফআরটি) দাখিল করেন। ওইদিন মামলাটি নিষ্পতি করেন বিজ্ঞ আদালত।

এ ঘটনার প্রায় ১৪ বছর ২ মাস পর গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের গ্রামে হাজির হয়েছে ২২ বছর বয়সী সেই যুবক। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে আলোচনা। তাকে দেখতে ভিড় জমিয়েছে আশপাশের মানুষ। খবর পেয়ে ছুটে যান মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও। পরে তারা রুবেলকে নিয়ে আসেন সদর মডেল থানায়।

পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে আড়াই মাস কারাগারে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা জুলহাস উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, রুবেল নামের এই যুবককে আমি কখনও দেখিনি। তাকে আজ প্রথম দেখলাম। কিন্তু তাকে অপহরণের অভিযোগে আমি আড়াই মাস কারাগারে ছিলাম। আমার মতো আরও ৫ জন ২ থেকে ৪ মাস পর্যন্ত জেল খেটেছে। এরপর আদালত থেকে জামিনে বের হয়েছি আমরা। পরে তো মামলাই শেষ হলো। আজ শুনলাম রুবেল ফিরে এসেছে গ্রামে। পরে গ্রামবাসী ও আমরা তাকে থানায় নিয়ে এসেছি।

আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর ইসলাম বলেন, মামলার পর থানা থেকে আমাদের ধরার চেষ্টা করছে। পরে র্যা ব মামলার তদন্ত পাওয়ার পর আজিজ মাদবর, মনা সিরি মাদবর, রাজু, জুলহাস উদ্দিন ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদেরকে ১০ থেকে ১৫ দিন রিমান্ডে নিয়েছে র্যা ব। আমি সাড়ে ৪ বছর বান্দরবান পালিয়ে ছিলাম। মামলা শেষ হওয়ার পর ফিরে এসেছি। আজ ওই ছেলে গ্রামে ফিরে আসছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক শাহ জামান বলেন, ফিরে আসা যুবক রুবেলকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status