রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান মারা যাওয়ার দু’মাস আগেই আগাম তথ্য জানিয়েছিলাম দু’শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের !
আজাহার আলী সরকার
প্রকাশ: Sunday, 21 March, 2021, 2:29 PM
রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান মারা যাওয়ার দু’মাস আগেই আগাম তথ্য জানিয়েছিলাম দু’শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের !
রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান মারা যাওয়ার আগেই ভয় এবং কষ্ট পাচ্ছিলাম যে, তিনি ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যেই মারা যেতে পারেন। শুধু তাই নয়, ২০১৩ সালের ১৭ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার আমি তা আগাম খবর হিসেবে প্রকাশ করেছি, আমার গ্রামের দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সম্মুখে। একই দিনেই আলাদা আলাদা ভাবে দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমি আগাম এ তথ্য জানিয়েছিলাম।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুটো হলে দিনাজপুর জেলার কোতয়ালী থানার ৭ নং উথরাইল ইউনিয়নে আমার গ্রামে অবস্থিত মালীগ্রাম দাখিলী মাদ্রাসা এবং মালীগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুটি আমার গ্রামের বাড়ীর পার্শ্বেই। ১৯ জানুয়ারী আমার মা’র মৃত্যূ বার্ষিকী। আমার ১৯৯৬ সালের ১৯ জানুয়ারী দিনাজপুর শহরের বাসায় ইন্তেকাল করেছেন। তাঁকে শহরের ফরিদপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। কিন্তু মায়ের মৃত্যূ বার্ষিকী অনুষ্ঠানের মূল আয়োজন আমরা গ্রামেই করে আসছি।
আমার মায়ের অনুষ্ঠানের জন্য দুই দিন আগে অর্থাৎ ১৭ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার গ্রামের বাডীতে ঢুকার আগেই উল্লেখিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুটিতে প্রবেশ করি। কারণ দুটি , প্রথমতব শিক্ষক- শিক্ষিকা এবং ছাএ-ছাএীদের আমার মায়ের অনুষ্ঠানের দাওয়াত দেয়া এবং প্রায় ৩ যুগ পরে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করার সুযোগ পাওয়া।স্বাধীনতার পর ওই প্রাথমিক স্কুলে পড়লেও ৭৫/৭৬ সালের পর আর ওই স্কুল / মাদ্রাসায় প্রবেশ করা হয়নি।
২০১৩ সালের ১৭ জানুয়ারী আমি মাদ্রাসার মাঠে পৌঁছানোর সাথে সাথে ছাএ-শিক্ষকরা আমাকে প্রথমে অধ্যক্ষ সাহেবের রুমে নিয়ে যান। তারপর আমরা হল রুমে বসি। সেখানে অধ্যক্ষসহ ২৮/২৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং আমার ছোট চাচা রফিউদ্দিন সরকার ও চাচা তো ভাই আনিস সরকারের উপস্থিতিতে সাংবাদিকতার বিভিন্ন কলা কৌশলসহ আগাম রিপোর্টিং-এর অভিজ্ঞতার জের হিসেবে তাদের সাথে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা করি ।
এ সময় তাদেরকে বলি আমি পেশায় সাংবাদিক। আমি যে কোন বিষয়ে আগাম সংবাদ করে থাকি। আপনারা ইচ্ছা করলে আমার কাছে সরকার ও রাষ্ট্র, এমন কি যা খুশী আগাম জানতে চান? আমি আপনাদের যে কোন প্রশ্নের আগাম সব উত্তর বলে দিতে পারবো ।
এক পর্যায়ে উপস্থিত সকলকেই জানাই, আপনারা আগাম একটি খবর লিখে রাখেন, আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যেই আমাদের দেশের রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান অসুস্থ হয়ে মারা যাবেন। তখন উপস্থিত সকলেই অবাক হয়েছিলেন ।
এরপর প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার সাথে সৌজন্য সাক্ষাতের পরে ৫ম শ্রেনীর ক্লাশে যাই। সেখানে ছোট ছোট ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে কিছুক্ষণ তাদের লেখাপড়া এবং পারিবারিক পরিচয় জানার চেষ্টা করি। হতদরিদ্র ওইসব ছেলে-মেয়েদের সাথে কথা বলার ফাঁকেই একজন ক্ষুদে ছাএ জিজ্ঞাসা করলেন, স্যার তুমি কি কর? তুমি কি আমাদের নুতন স্যার আইচছ !
তখন আমি উত্তর দিলাম না বাবা। আমার বাড়ী এখানে আমি তোমাদের সাথে দেখা করতে এসেছি। কথা বল, মাঠে খেলবো ।
তখন আর একজন ছাত্রী আমাকে জিজ্ঞাসা করলো? আমার নাম কি? বললাম আজাহার আলী সরকার। আবার প্রশ্ন, আপনি কি করেন? বললাম আমি সাংবাদিকতা করি। সাংবাদিকতা কি? তখন তাদেরকে বুঝলাম বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর সংগ্রহ করি।
আবারও তাদের প্রশ্ন, খবর সংগ্রহ করে কোথায় কিভাবে রাখো? তোমার ফোটক তুলার মেশিন কই, ইত্যাদি? তাদেরকে খুব মজা করে গল্পের ছলে বুঝিয়ে বলতে সক্ষম হলাম । কিভাবে খবর সংগ্রহ করে পরে ওইসব খবর আবার পএিকায় ছাপা হয়। টিভি-রেডিও-তে প্রচার করা হয়। কিছুটা হলেও তারা বুঝলো এবং আনন্দ পেলো।
সবশেষে প্রধান শিক্ষিকাসহ ৩/৪ শিক্ষক, আমার ছোট চাচা-চাচা তো ভাই আনিসুর রহমান এবং ৫ম শ্রেনীর ছাএ-ছাএীদেরকেও আগাম বলে দিলাম আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যেই আমাদের রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান অসুস্থ হয়ে মারা যাবেন ।
এরপর ২০১৩ সালের ২০ মার্চ রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান মারা যাওয়ার পর বিভিন্ন পএিকায় খবরটি বের হয়। পরে আমি রাষ্ট্রপতির শোক সংবাদটি প্রকাশিত কালেরকন্ঠ এবং বাংলাদেশ প্রতিদিনসহ কয়েকটি পএিকা ঢাকা থেকে আমার চাচা/ চাচা তো-ভাইয়ের মাধ্যমে ওই দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ এবং প্রধানসহ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছে পাঠালে তারা সকলেই অবাক হয়েছেন। কিভাবে আমি রাষ্ট্রপতির মৃত্যুর খবরটি জানুয়ারীতেই জানতে পারলাম !
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি থাকাকালে ২০১৩ সালের ২০ মার্চ সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আজ রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী ।
ঘোষণা; আমার এই অবিশ্বাস খবরের আগাম তথ্য জানানোর ঘটনায় সততা যাচাইয়ের জন্য যে কেউ আমার গ্রামের ওই দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকার কাছে যেতে পারেন ।