ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ১৩ মে ২০২৬ ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩
১১ বছর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন নিচ্ছেন প্রাথমিক শিক্ষিকা
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Tuesday, 10 March, 2020, 8:19 PM

১১ বছর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন নিচ্ছেন প্রাথমিক শিক্ষিকা

১১ বছর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন নিচ্ছেন প্রাথমিক শিক্ষিকা

পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করে বছরের পর বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও শিক্ষকতা পেশা চালিয়ে যাচ্ছেন ঝিনাইদহের শৈলকুপার ২৩ নং কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সুমাইয়া খানম।

সুমাইয়া খানমের নথি থেকে দেখা যায় তিনি ২০০১ সালের ২৯ মার্চ চাকরিতে যোগদান করেন এবং ২০০৩ সাল থেকে তিনি কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত।


শিক্ষিকা সুমাইয়া খানম উপজেলার রতিডাঙ্গা গ্রামের আবুল কালাম আজাদের কন্যা। তার স্বামী ঢাকাতে মার্কেন্টাইল ব্যাংকে কর্মরত আছেন বলে জানা যায়।

জানা যায়, বিদ্যালয়ে পাঠদান না করেও অবসরের এককালীন টাকা পেতে ওই শিক্ষিকা দীর্ঘদিন যাবত মেডিকেল সার্টিফিকেট ব্যবহার করে আসছেন। কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কৈফিয়ত তলব এবং বিভাগীয় মামলা কোন কিছুই আটকিয়ে রাখতে পারেনি শিক্ষিকা সুমাইয়া খানমকে। মেডিকেল সার্টিফিকেট দিয়ে উপর মহলের সুপারিশের মাধ্যমে তিনি বার বার তার ছুটি বহাল রাখেন। সর্বশেষ গত বছরের ঈদুল আযহার আগে মেডিকেল ছুটি শেষ হলে যোগদান করে ঈদের বোনাস নিয়ে আবার লাপাত্তা। চাকরি জীবনের বেশীরভাগ সময়ই তিনি কোন না কোন বেসরকারি হাসপাতালের মেডিকেল সার্টিফিকেট জোগাড় করে সারা বছর ছুটি কাটিয়ে অভিনব কায়দায় তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের পেশা ধরে রেখেছেন।

কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিরিন আক্তার জানান, তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে ২০০৯ সালে এই স্কুলে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই দেখে আসছেন শিক্ষিকা সুমাইয়া খানমের মেডিকেল সার্টিফিকেটের কেরামতি। শিক্ষকের পদ ৮টি থাকলেও ২ জন শিক্ষক ট্রেনিংয়ে, একজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে এবং সুমাইয়া খাতুন দীর্ঘদিন অনুপস্থিত। তিনি স্কুলে না আসলেও শিক্ষক হিসাবে তার পদ থাকায় সেখানে আর কেউ যোগদান করতে না পারায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। বছরের পর বছর কর্মস্থলে না এসে মেডিকেল সাটিফিকেট দিয়ে চাকরি বহাল রেখে অবসরের এককালীন টাকা তুলতে হয়তো তিনি এ পন্থা ব্যবহার করছেন বলে তিনি জানান। এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৪০৪ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসরাইল হোসেন জানান, শিক্ষিকা সুমাইয়া খাতুন দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় তাকে বরখাস্তের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরো জানান, নথি থেকে দেখা যায় এই শিক্ষিকা দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে কখনো মেডিকেল সার্টিফিকেট আবার কখনো বিনা বেতনে মেডিকেল সার্টিফিকেট দিয়ে ছুটির আবেদন করে গেছেন। তিনি সর্বশেষ ২০১৮ সালে চাকরিবিধির একটি নিয়মের মধ্যে সিভিল সার্জনের সার্টিফিকেট নিয়ে শারীরিক অক্ষমতা দেখিয়ে অবসরে যাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। তবে শিক্ষা অফিস এ ব্যাপারে সতর্ক বলে তিনি জানান।

কর্মস্থলে অনুপস্থিতি নিয়ে শিক্ষিকা সুমাইয়া খানমের সাথে মোবাইলে কথা হলে তিনি বলেন, সে কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তবে তিনি তার কর্মস্থলে অনুপস্থিতির ব্যাপারে কারো কাছে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নন।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status