|
ভারতে শিশু ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড
নতুন সময় ডেস্ক
|
|
ভারতে শিশু ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বুধবার (১০ জুলাই) রাতে নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে মন্ত্রীপরিষদের বৈঠক থেকে এ বিষয়ে ক্লিয়ারেন্স দেয়া হয়। এ বিষয়ে অবহিত করে দেশটির তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক মন্ত্রী প্রকাশ জাভাদেকার জানান, আইনে মোট ১৪টি সংশোধনী আনা হয়েছে। সংশোধনীতে বলা হয়েছে, যদি শিশুদের ধর্ষণ করা হয় তাহলে তার শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। কারো কাছে শিশু পর্নোগ্রাফি বিষয়ক কোনো উপাদান থাকলে তাকে তিন বছর পর্যন্ত জেল দেয়া যাবে। এছাড়া শিশুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের শাস্তির কথা উল্লেখ করে কয়েকটি নতুন সেকশন যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল অপরাধ। সংশোধনীতে আরো বলা হয়েছে, সেকশন ৪, ৫ ও ৬-এ কোনো কোনো ক্ষেত্রে শাস্তি ৭ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর, ১০ বছর থেকে বাড়িয়ে ২০ বছর এবং ২০ বছর থেকে বাড়িয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সেকশন ১৪ ও ১৫ এর অধীনে শিশু পর্নোগ্রাফি বিষয় কাহিনী তৈরি, এসব বিষয়ক উপাদান মুছে না ফেলা এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে শিশু পর্নোগ্রাফি তৈরি করার বিষয়ে শাস্তি ১০০০ রুপি জরিমানা থেকে শুরু করে সাত বছর পর্যন্ত জেলের বিধান রাখা হয়েছে। এই সংশোধনীতে শিশু পর্নোগ্রাফি বিষয়ক ম্যাটেরিয়াল শিশুদের কাছে পৌঁছে দেয়াকেও শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। একে তথ্য প্রযুক্তি আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, অধ্যাদেশের মাধ্যমে ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার এই সিদ্ধান্ত ঐতিহাসিক। এর মাধ্যমে, ধর্ষকদের উচিৎ শিক্ষা হবে। জঘণ্য কর্মকাণ্ডের জন্য মৃত্যুদণ্ডই হওয়া প্রয়োজন। অবশ্য অনেকেই বলছেন, বয়সভেদে শাস্তি নিরূপণ করা ঠিক হয়নি। কারণ, ধর্ষণ একটি মেয়ের জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঘটনা। আজীবন সে ভুলতে পারে না। তাই, যেকোনো ধর্ষকের শাস্তিই মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিৎ। ধর্ষকের সাজা নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর বিধানও রাখা হয়েছে নতুন এই আইনে। সবশেষ, ২০১২ সালে নয়াদিল্লিতে চলন্ত বাসে ধর্ষণের পর এ অপরাধের আইন সংশোধন করেছিল ভারত। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
