লটারির নামে জুয়া এবং মাদকের রমরমা ব্যবসাকে সামনে রেখে সস্তা বিনোদনের নাম করে কুড়িগ্রাম চেম্বার এন্ড কমার্স - এর আয়োজনে কুড়িগ্রামের ধরলা ব্রিজ সংলগ্ন প্রস্তাবিত ডিসি পার্কে আমামী ২০ জুন থেকে মাসব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলা(অনুমোদিত) স্থগিত বা বাতিল করার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কুড়িগ্রাম জেলার সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং একই সঙ্গে কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ।
আজ ৪ জুন বুধবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাইয়েদ আহমেদ বাবুর স্বাক্ষরিত আবেদনপত্রে উক্ত মেলা স্থগিত বা বাতিলের কারণ উল্লেখ করে বলেন, ৬০ লক্ষ টাকার অনৈতিক রফাদফায় এই মেলা সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশ্যে আয়োজনের প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করা হয়েছে।
মেলাটি স্থগিত বা বাতিলের সঙ্গতঃ কারণ উল্লেখ করে আবেদনকারী বলেন, কুড়িগ্রাম দেশের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ ও পিছিয়ে থাকা জেলা। প্রতিবছর বন্যা, নদীভাঙন, দারিদ্র্য ও বেকারত্বের সঙ্গে লড়াই করে জেলার মানুষ জীবনযাপন করে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারী বর্ষণ ও নদীভাঙনে অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকদের ফসলের ক্ষতি হয়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ বর্তমান চরম দুর্ভোগে পড়েছে। এ অবস্থায় বাণিজ্য মেলার আয়োজনকে সময়োপযোগী নয় বলে উল্লেখ করা হয় এবং একই সঙ্গে কুড়িগ্রামে এধরণের মেলার অতীত অভিজ্ঞতায় তুলে ধরে বলা হয়, এ ধরনের মেলায় স্থানীয় অর্থনীতি বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রত্যাশিত সুবিধা পান না। বরং কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ পায়। পাশাপাশি মেলার সময় মাদক, জুয়া, লটারি, কিশোর অপরাধ, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো সামাজিক সমস্যার বিস্তার ঘটতে পারে এধরণের আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়। আবেদনে কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ সংগঠনের পক্ষে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—প্রস্তাবিত বাণিজ্য মেলার অনুমোদন পুনর্বিবেচনা, অনুমোদন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত, অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ, আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন এবং জেলার প্রকৃত সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন, “কুড়িগ্রামের মানুষ বর্তমানে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা মনে করি, এই সময়ে মেলার চেয়ে মানুষের মৌলিক সমস্যা সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। তাই জনস্বার্থ বিবেচনায় আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।” তিনি কুড়িগ্রামে এ ধরণের মেলা আয়োজনের অতীত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আরও বলেন, মেলায় মূলতঃ শিল্প ও বানিজ্য সম্পর্কিত কোন কিছুই থাকে না, শিশুদের বিনোদনের জন্য নাগরদোলা আর চরকা বসিয়ে অভিভাবকদের কাছ থেকে লুটে নেয়া হয় লক্ষ লক্ষ টাকা। এধরণের মেলায় জুয়া এবং মাদক ব্যবসাই মূখ্য হয়ে দাঁড়ায়। এধরণের কোন অবৈধ কাজ কুড়িগ্রামে আর হতে দেয়া হবে না। এজন্য মেলা স্থগিত বা বাতিলের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দপ্তর আবেদন রিসিভ করেছে বলে জানান তিনি।
মেলা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও কুড়িগ্রাম জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ বলেন, গত ৩ জুন মেলার অবকাঠামো কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে, কুড়িগ্রামের মানুষের জন্য একটি সুস্থ, নিরাপদ ও পরিবারবান্ধব বিনোদনের পরিবেশ সৃষ্টি করাই এই মেলার মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ এবং জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করাও আমাদের লক্ষ্য। আগামী ২০ জুনের মধ্যে মেলার আয়োজন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে। মেলা পরিচালনাকারীর কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকা নেওয়া বা কোনো ধরনের আর্থিক ভাগাভাগির যে অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মেলার সব কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও বিধিবিধান অনুসরণ করেই পরিচালিত হবে বলে তিনি জানান।