বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন শুল্কের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Wednesday, 3 June, 2026, 11:52 AM
বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন শুল্কের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জোরপূর্বক শ্রম (ফোর্সড লেবার) ইস্যুতে ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর এ প্রস্তাব প্রকাশ করে। সংস্থাটি বলছে, এসব দেশের ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের জন্য অযৌক্তিক বাধা সৃষ্টি করছে এবং মার্কিন শ্রমিকদের জন্য অসম প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করছে।
এটি ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্ক কৌশলের অংশ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জরুরি ক্ষমতার আওতায় আরোপিত ট্রাম্পের বেশ কয়েকটি শুল্ক বাতিল করে দেওয়ার পর প্রশাসন নতুন আইনি ভিত্তিতে শুল্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।
কোন দেশ কত শুল্কের মুখে?
ইউএসটিআর জানিয়েছে, জোরপূর্বক শ্রম তদন্তের ভিত্তিতে কানাডা, ইকুয়েডর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান এবং যুক্তরাজ্যের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
অন্যদিকে তদন্তের আওতায় থাকা বাকি ৪৫টি দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিয়েসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারদের জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি রোধে ব্যর্থ হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, এর ফলে মার্কিন শ্রমিকরা বৈশ্বিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হয়।
ইউএসটিআর আরও জানিয়েছে, তারা একটি বিশেষ টেক্সটাইল ব্যবস্থা প্রস্তাব করেছে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ পোশাক ও বস্ত্রপণ্য কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাবে।
তবে কত পরিমাণ পণ্য এবং কত হারে কম শুল্ক সুবিধা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
এই ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ১০ শতাংশ সাময়িক শুল্কের মেয়াদ আগামী ২৪ জুলাই শেষ হতে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্ট গত ২০ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন-এর আওতায় আরোপিত ট্রাম্পের একাধিক শুল্ক বাতিল করে দেয়। এরপর থেকেই প্রশাসন বিকল্প আইনি পথ খুঁজছে।