ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ আশ্বিন ১৪৩৩
১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঢালাই, তাও রাতের বেলায়
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Monday, 21 September, 2026, 7:12 PM

১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঢালাই, তাও রাতের বেলায়

১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঢালাই, তাও রাতের বেলায়

টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুতে রাতের আঁধারে ফুটপাত স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই দিয়েছেন ঠিকাদার। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। এরপর সকালে বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয় লোকজন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন ও উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ৬ মিটার দৈর্ঘ্য পিএসসি গার্ডার সেতু নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপাইজ (জেবি) নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটির কাজ শুরু হয় ২০২২ সালে সেপ্টেম্বর মাসে ও শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে। পরে সেতুটির কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। এই সেতুর ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও ২০ শতাংশ কাজ বাকি আছে। 

রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ফুটপাত স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ শুরু করেন। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে বাধা দেয়। একপর্যায়ে কাজটি বন্ধ করা হয়। স্থানীয়রা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। স্থানীয়রা চলে যাওয়ার পর রাতে আবার শুরু করে রাতেই মধ্যেই তারা কাজটি শেষ করে। স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে কর্তৃপক্ষ পরিদর্শনে আসে।

স্থানীয় লোকজন জানান, বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীতে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই স্থানীয়রা নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে আসছিল। সর্বশেষ রবিবার রাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ব্রিজের ফুটপাত স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ করছিল। বিষয়টি স্থানীয়রা টের পেয়ে কাজটি বন্ধ করে দেয়। সেসময় সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ করলেও রাতে আবার ঢালাইয়ের কাজ শেষ করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা ব্রিজটি পরিদর্শন করেন। স্ল্যাবগুলো ভেঙে পুনরায় রড দিয়ে ঢালাইয়ের দাবি জানায় স্থানীয়রা। সেইসঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির জন্য শাস্তিও দাবি করেন।

ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘রেলিংয়ের পাশে ফুটপাত স্ল্যাবে ৪ ইঞ্চি ঢালাই রয়েছে। স্লাবের নিচে একটা শাটারিং করতে হয়। ওই শাটারিংটি আর সেখান থেকে সরানো যাবে না। শাটারিংটি এমনিতেই নষ্ট হয়ে যাবে। এই শাটারিংটি করতে হয় বাঁশ অথবা কাঠ দিয়ে। রডের খাঁচা ও পলিথিন দিয়ে এটার ওপর ঢালাই করা হয়। আমরা যখন বাঁশ দিয়ে শাটারিং করেছি, তখন এলাকার কিছু লোকজন ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে দিয়েছে।’

উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমাদের না জানিয়ে রাতে ঢালাইয়ের কাজ করেছে। তারা ফুটপাতে স্ল্যাবের ঢালাই করেছে। এটার নিয়ম হচ্ছে- একটি জায়গায় সুন্দরভাবে ঢালাই করে তারপর ফুটপাতের জায়গায় স্ল্যাব বসিয়ে দিতে হয়। তারা তা না করে সরাসরি বাঁশ ও কাঠ দিয়ে শাটারিং করে তারপর সামান্য কিছু রড দিয়ে ঢালাই করেছে। এটা নিয়মের মধ্যে হয়নি। অনিয়ম হয়েছে। যেসব জায়গায় নিম্নমানের কাজ হয়েছে, সেগুলো ভেঙে ফেলা হচ্ছে। দ্রুতই কাজগুলো আবার করা হবে। এ ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি জানতে পেরে সরেজমিনে সেতুটি পরিদর্শন করা হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুতই তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট দফতরের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status