ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ৫ জুন ২০২৬ ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
এক পায়ে লিখে জিপিএ-৫ পেল সেই তামান্না
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Tuesday, 7 May, 2019, 7:30 AM

এক পায়ে লিখে জিপিএ-৫ পেল সেই তামান্না

এক পায়ে লিখে জিপিএ-৫ পেল সেই তামান্না

তামান্না আক্তার নূরা। প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেয়া এই কিশোরী জয় করেছে সব বাধা। এক পায়ে লিখে এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। তার অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মানল শারীরিক প্রতিবন্ধিতা।

তামান্না যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের রওশন আলী ও খাদিজা পারভীন শিল্পী দম্পতির মেয়ে। জন্মগতভাবেই তার দুই হাত ও এক পা নেই। শরীরে শুধু একটি মাত্র পা-ই তার চালিকাশক্তি।



যশোরের ঝিকরগাছার বাঁকড়া জে কে মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষার হলে সে এক পায়ে লিখে। তার এক পায়ে পরীক্ষা দেয়া নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে কৌতূহল সৃষ্টি হয়। সবাই অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকে।

সোমবার এসএসসি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলে দেখা গেছে, তামান্না জিপিএ-৫ পেয়েছে। বাংলা বাদে প্রত্যেকটি বিষয়ে 'এ' প্লাস পেয়েছে সে। অদম্য ইচ্ছাশক্তির বলেই এমনটি সম্ভব হয়েছে। তামান্নার সাফল্য এবারই প্রথম নয়; আগের দুটি পরীক্ষায় সে জিপিএ-৫ পায়।

অদম্য এই মেধাবী প্রথম শ্রেণি থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা পর্যন্ত মেধা তালিকায় শীর্ষে ছিল। ২০১৩ সালে প্রাথমিক সমাপনী (পিইসি) ও ২০১৬ সালে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পায়।

তামান্নার পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০০৩ সালের ১২ ডিসেম্বর যশোরের ফাতেমা হাসপাতালে খাদিজা পারভিন শিল্পী একটি কন্যা শিশুর জন্ম দেন। যার দুটি হাত ও একটি পা নেই। সেই সন্তান তামান্না নূরাকে বুকে চেপে বাড়ি ফেরেন বাবা-মা। সামাজিক অনেক প্রতিকূলতাও মোকাবিলা করতে হয় তাদের।

অভাবের সংসার। তারপরও বেড়ে উঠা শিশুটির চাহনি, মেধা মা শিল্পীর মনে সাহস জোগান দিয়েছিল। মায়ের কাছে প্রথমে অক্ষর জ্ঞান নিতে থাকে তামান্না। বাসা থেকে দূরবর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা সহজ ছিল না। বাসা সংলগ্ন শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আজমাইন এডাস স্কুলে তাকে নার্সারিতে ভর্তি করা হয়। মা স্কুলের ক্লাসে বাচ্চাকে বসিয়ে দিয়ে ক্লাসের বাইরে অবস্থান করতেন। তার শ্রবণশক্তি ও মুখস্থ শক্তি এত ভালছিল যে একবার শুনলে বিষয় আয়ত্ব ও মুখস্থ বলতে পারত।

এরপর অক্ষর লেখা শুরু করে পায়ের আঙ্গুলের ফাঁকে চক ধরে। তারপর কলম দিয়ে লেখার আয়ত্ব করে সে। বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টানো, আঙ্গুলের ফাকে চিরুনি, চামচ দিয়ে খাওয়া, চুল আঁচড়ানো সহজেই আয়ত্ব করে তামান্না।

ধীরে ধীরে নিজের ব্যবহারিত হুইল চেয়ারটি এক পা দিয়ে চালানোর দক্ষতা অর্জন করে সে। নিজ বিদ্যালয়ে কেজি, প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণির ফলাফলে মেধা তালিকার পাশাপাশি এডাস বৃত্তি পরীক্ষায় প্রতিবার সে বৃত্তি পেয়েছে। লেখাপড়ার ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে আজমাইন এডাস স্কুল থেকে পি ই সি ও ২০১৬ সালে বাঁকড়া জে কে মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে জে এস সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে জিপিএ-৫ পেয়েছিল। চলতি বছর সে বাঁকড়া ডিগ্রি কলেজে কেন্দ্রে এস এস সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে জিপিএ-৫ পেয়েছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status