পরিবার ভেঙ্গে গেলে কার না খারাপ লাগে, তবু কেন উপভোগ করছি?
খালেদ সাইফুল্লাহ
প্রকাশ: Wednesday, 17 April, 2019, 11:41 AM সর্বশেষ আপডেট: Wednesday, 17 April, 2019, 5:53 PM
পরিবার ভেঙ্গে গেলে কার না খারাপ লাগে, তবু কেন উপভোগ করছি?
১) সিন্ডিকেট নেতারা বছরের পর বছর সংগঠনকে জিম্মি করে নিজেদের পকেট ভারী করলেও সংগঠনের বেসিক কাজগুলোও তারা ঠিকমতো করেনি। ফলে অনিয়ম দুর্নীতির পাহাড় জমে। ভেতরে ভেতরে অনেকে অনেক কথা বললেও সাহস করে কেউ সামনে আসতো না। আমরা ১/২ জন গ্রুপের মাধ্যমে সেগুলোর কমবেশি প্রতিবাদ করতাম। এজন্য অনেকের অনেক কটু কথা শুনতে হলেও আমরা বলতাম অসঙ্গতির কথা। কিন্তু তাতে কাজ হচ্ছিল না দেখে এক পর্যায়ে এসে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিই। সিন্ডিকেট এর সদস্যরা আমাদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে এবং বিভিন্নভাবে আক্রমন করতে থাকে। কিন্তু আমরা সেগুলো দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করতে থাকি। অনেক সময়ক্ষেপন এবং গড়িমসি করেও কোন কাজ হয়নি যখন নিবন্ধন সংস্থা সমাজসেবার তদন্তে আমাদের অভিযোগগুলো সত্য প্রমানিত হয়। সিন্ডিকেট এর ভীত নড়বড় হতে শুরু করে এখান থেকেই।
২) অনেক চেষ্টা তদ্বীর করেও যখন ভোট ব্যাংক বাড়াতে সক্ষম হলো না তখন নিজেদের প্যানেল ঠিক করেও নির্বাচন থেকে গুটিয়ে নেয় নিজেদের। কিন্তু তাদের গঠিত কমিশন নির্বাচন সম্পন্ন করে। যদিও নির্বাচন বাধাগ্রস্থ করার অনেক চেষ্টাই হয়েছে। নির্বাচনে না থাকায় বিপরীত মেরুর সদস্যরা সংগঠনে তাদের নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করে। এবার শুরু হলো দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে নানান নাটক। কিন্তু নির্বাচিতদের অভিষেক অনুষ্ঠান তাদের ঘুম হারাম করে দেয়। কোন চেষ্টা তদ্বীরই যখন কাজে আসলো না দল বেঁধে বের হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কারণ সংগঠনে থাকলে তাদের অনিয়ম দুর্নীতির বিচারের মুখোমুখী হতে হতো।
৩) সংগঠন থেকে বের হওয়ার হুমকী আজ নতুন নয়। যে নির্বাচনে রুয়েল সভাপতি প্রার্থী হয়েছিলো সে নির্বাচন থেকেই এ হুমকী দেয়া হয়েছিলো রুয়েল নির্বাচিত হলে তারা সংগঠন থেকে পদত্যাগ করবে। এ ধরনের হুমকী ধামকী অব্যাহত ছিলো সর্বশেষ ২০১৭ এর নির্বাচন পর্যন্ত। ফলে তাদের বেরিয়ে যাওয়াটা হঠাৎ কোন ঘটনা নয় কয়েক বছর আগের চিন্তা ভাবনার প্রতিফলন মাত্র।
৪) সমাজ সেবার তদন্তে নিজেদের অনিয়ম দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ায় যে পদত্যাগ নাটক মঞ্চস্থ করে আমাদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ চক্রের আক্রমন হয়েছিলো এবং যারা করেছিলো সে তারাই কিন্তু আজকের পদত্যাগী সদস্য।
৫) সংগঠনে এখন আর কোন মধু খাওয়ার সুযোগ নেই বিধায় রাস্তা মাপবেন এটা অপ্রত্যাশিত কিছু নয় বরং পুরোটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু ষড়যন্ত্র করেছেন সর্বশেষ এজিএম ডাকার ঘটনা পর্যন্ত। যারা ১২ মাসের শেষে এজিএম করার মুরুদ হয়নি তারা নতুন কমিটির দায়িত্ব নেয়ার পর কি করে এজিএম করার চিন্তা করে এবং কোন আইনে সেটি সম্ভব? বর্তমান কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক তাদের প্রতি শেষ মূহুর্ত্ব পর্যন্তও যে ভদ্রাচিত সহনশীল আচরণ দেখিয়েছেন তা কোনভাবেই তারা প্রাপ্য ছিলো না এতগুলো ঘটনা ঘটানোর পর।
৬) পিঠ বাঁচাতে বেরিয়ে যাবেন যান কিন্তু যে অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে সংগঠনকে ধ্বংসের পায়তারা করেছেন তার জন্য আপনাদের বিচার হবে, বিচার হওয়া উচিত, বিচার চাই। বাকীটুকু নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তের বিষয়।
কপি পেস্ট সাংবাদিকতার কথা শুনেছি কিন্তু কপি পেস্ট ফেসবুক পোস্ট হতে পারে সেটি আপনারা দেখালেন বৈকি! আপনাদের যে নিজস্ব কোন জ্ঞান এবং মেরুদন্ড নেই এবং শিখিয়ে দেয়া ভুলি ছাড়েন তা সবাই দেখলো আরকি! পদত্যাগ পত্রের ফরমেটটা পর্যন্ত ভুলে ভরা আবার তারই কপি পেস্ট করলেন সবাই। ইহ ও পরজগতে সৃষ্টিকর্তা আপনাদের মঙ্গল করুক।