বর্তমানে দেশে হৃদরোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে কম বয়সীদের মধ্যেও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, মানসিক চাপ এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন বিশেষজ্ঞরা। হৃদরোগের ঝুঁকি, লক্ষণ, প্রতিরোধ ও আধুনিক চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সায়েফ উদ্দীন সোহাগ।
নতুন সময়: বর্তমানে আমাদের দেশে হৃদরোগের প্রবণতা কেমন? বিশেষ করে চট্টগ্রামে এর হার কেমন?
ডা. সায়েফ উদ্দীন সোহাগ: বর্তমানে হৃদরোগের প্রবণতা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। চট্টগ্রামে ২০১১ সালের তুলনায় ২০২১ সালে প্রায় ২০% বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। বাস্তবে আমরা দেখছি, আগের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে নিকটবর্তী হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ অনেক বেড়েছে। দেশের অন্যান্য স্থানে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় অনেক হৃদরোগী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও সরকারি হাসপাতালগুলোর ওপর নির্ভরশীল। নতুন সময়: হৃদরোগ হওয়ার প্রধান কারণগুলো কী? তরুণদের মধ্যে কেন এর প্রভাব বাড়ছে? ডা. সায়েফ উদ্দীন সোহাগ: বর্তমানে তরুণদের মধ্যেও হৃদরোগ বেশি দেখা যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। ফাস্টফুড ও জাঙ্কফুড বেশি খাওয়ার প্রবণতা একটি বড় কারণ। এছাড়া শারীরিক পরিশ্রমের অভাবও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নতুন সময়: হার্ট অ্যাটাকের সাধারণ লক্ষণগুলো কী কী? ডা. সায়েফ উদ্দীন সোহাগ : হার্ট অ্যাটাকের প্রধান লক্ষণ হলো বুকে তীব্র চাপ বা অস্বস্তি অনুভব করা। ব্যথাটি বুকের মাঝখান থেকে গলা, বাম হাত বা পিঠে ছড়িয়ে যেতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত ঘাম, হাঁটলে বা শোয়ার সময় শ্বাসকষ্ট—এসবও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। অনেক সময় মানুষ এসব লক্ষণকে গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা ভেবে অবহেলা করে, যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন সময়: বয়স ও অন্যান্য ঝুঁকির বিষয়গুলো কী?
ডা. সায়েফ উদ্দীন সোহাগ : সাধারণত ৪০ বছরের পর ঝুঁকি বাড়ে। তবে বর্তমানে কম বয়সীদের মধ্যেও এই রোগ দেখা যাচ্ছে। প্রধান ঝুঁকিগুলো হলো— অলস জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান ও অ্যালকোহল সেবন, এবং বংশগত কারণ। নতুন সময়: স্টেন্টের ভেতরে যখন ব্লক হয়, সে ক্ষেত্রে করণীয় কী?
ডা. সায়েফ উদ্দীন সোহাগ: স্টেন্টের ভেতরে ব্লক হলে সেটিকে আমরা ইন-স্টেন্ট রিস্টেনোসিস (ISR) বলি। এ ক্ষেত্রে দ্রুত ব্লকটি খুলে দিতে হয়। চিকিৎসার সময় আমাদের প্রথম লক্ষ্য থাকে যেন পুনরায় ব্লক না হয়। স্টেন্ট বসানোর সময় লক্ষ্য রাখতে হয় যাতে ব্লক হওয়া অংশটি সম্পূর্ণভাবে কভার হয় এবং কোনো গ্যাপ না থাকে। পাশাপাশি রোগীর রক্তে অতিরিক্ত চর্বি বা অন্য কোনো ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান যেন না থাকে, সেটিও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। তারপরও কিছু ক্ষেত্রে পুনরায় ব্লক হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অনেক সময় বেলুনিং (Balloon Angioplasty) করা হয়। যদি দেখা যায় ব্লকটি স্টেন্টের ভেতরে বা বাইরে ছড়িয়ে গেছে, তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী আবার স্টেন্ট বসাতে হতে পারে। । নতুন সময়: খাদ্যাভ্যাসে কী পরিবর্তন আনা উচিত? ডা. সায়েফ উদ্দীন সোহাগ : খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন খুব জরুরি। চিনি, অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট ও চর্বিযুক্ত খাবার কমাতে হবে। পাশাপাশি সুষম খাদ্য গ্রহণ ও ডায়েট মেনে চলা উচিত। নতুন সময়: সাধারণ মানুষের মধ্যে হৃদরোগ নিয়ে কী ধরনের ভুল ধারণা রয়েছে?
ডা. সায়েফ উদ্দীন সোহাগ : সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা হলো—অনেকে মনে করেন এটি গ্যাস্ট্রিক বা সাধারণ ব্যথা। অনেকেই প্রথমে ওষুধ খেয়ে দেখেন, পরে গুরুতর হলে চিকিৎসকের কাছে যান। এই দেরি জীবনঝুঁকি বাড়ায়।
নতুন সময়: একজন সুস্থ মানুষ কীভাবে তার হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে পারে—এক লাইনে বলবেন? ডা. সায়েফ উদ্দীন সোহাগ : সুস্থ হৃদয়ের জন্য সুস্থ জীবনযাপন জরুরি—নিয়মিত ব্যায়াম, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং পরিশ্রমী জীবনধারা বজায় রাখতে হবে। নতুন সময়: আপনাকে ধন্যবাদ ।