|
ফারাক্কার ছোবলে অস্তিত্ব সংকটে দেশের নদ-নদী
#কাগজে ১,৪১৫টি থাকলেও বাস্তবে অর্ধেকও নেই #ফারাক্কার প্রভাবে মৃতপ্রায় নদী, অস্তিত্ব সংকটে বাংলাদেশের জলপ্রবাহ
সায়ীদ আবদুল মালিক
|
![]() ফারাক্কার ছোবলে অস্তিত্ব সংকটে দেশের নদ-নদী বিশেষজ্ঞদের দাবি, গঙ্গা ও পদ্মা নদীতে শুষ্ক মৌসুমে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ না থাকায় বড়াল, গড়াই, কুমার, মাথাভাঙ্গা, ভৈরব ও চিত্রাসহ বহু শাখা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। নদীগুলোর তলদেশ ভরাট হয়ে চর জেগে উঠছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে এবং দণিাঞ্চলে লবণাক্ততা বাড়ছে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। কাগজে-কলমে দেশে ১ হাজার ৪১৫টি নদীর হিসাব থাকলেও বাস্তবে এর প্রায় অর্ধেকই অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবে তিস্তা-ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও পদ্মাসহ দেশের প্রধান নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। পদ্মার বুকে বিস্তীর্ণ বালুচর জেগে উঠেছে, কমেছে মাছের উৎপাদন। বিশেষ করে ইলিশের প্রজনন ও বিচরণে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। উত্তর ও দণি-পশ্চিমাঞ্চলের ৫০টিরও বেশি নদী শুষ্ক মৌসুমে প্রায় পানিশূন্য হয়ে পড়ে। আবার বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেওয়ায় বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। গঙ্গার শাখা নদী বড়াল, গড়াই, কুমার, মাথাভাঙ্গা, ভৈরব ও চিত্রাসহ অসংখ্য নদী পর্যাপ্ত পানির অভাবে নাব্যতা হারিয়েছে। নদীতে স্বাভাবিক প্রবাহ না থাকায় দণিাঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা কৃষি উৎপাদন, জীববৈচিত্র্য এবং সুন্দরবনের পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও নিচে নেমে যাচ্ছে। এতে জেলে, কৃষক ও নদীনির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা সংকটের মুখে পড়েছে। ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের প্রথম বড় প্রতিবাদ হয়েছিল ১৯৭৬ সালের ১৬ মে, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ঐতিহাসিক ‘ফারাক্কা লং মার্চ’-এর মাধ্যমে। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি স্বারিত হলেও বিশেষজ্ঞদের দাবি, শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ এখনো ন্যায্য হিস্যার পানি পাচ্ছে না। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে নদীপথের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২৪ হাজার কিলোমিটার হলেও শুষ্ক মৌসুমে নৌচলাচল উপযোগী পথ কমে প্রায় ৩ হাজার ৮৬৫ কিলোমিটারে নেমে আসে। অন্যদিকে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতল্যা নদী মারাত্মক দূষণের শিকার। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি ও খরার মতো দুর্যোগও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহকে আরও ব্যাহত করছে। বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ও পানি বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত বলেন, ফারাক্কা বাঁধ বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করার পাশাপাশি মৃতপ্রায় নদীগুলো পুনরুদ্ধারে পরিকল্পিত ড্রেজিং ও খনন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী মনে করেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে নদীতে পানি সংরণ করা গেলে শুষ্ক মৌসুমেও বিভিন্ন নদীপথে প্রবাহ বজায় রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নদী পুনরুদ্ধার ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, নদীমাতৃক বাংলাদেশের পরিবেশ, কৃষি ও অর্থনীতি রায় নদীকে বাঁচানোর বিকল্প নেই। অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনে ন্যায্যতা নিশ্চিত এবং নদী পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদপে না নিলে ভবিষ্যতে সংকট আরও গভীর হতে পারে।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
