|
রাঙ্গাবালীতে শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ, শিক্ষক আটক
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() রাঙ্গাবালীতে শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ, শিক্ষক আটক অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষক হাফেজ সফিকুল ইসলাম জিসান (২০) ওই শিক্ষার্থীকে নিজের কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে তার সঙ্গে গুরুতর অনৈতিক আচরণ (যৌন নির্যাতন বা বলৎকার) করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। ঘটনার পর শিশুটি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বর্তমানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। ভুক্তভোগী শিশুটি মাদ্রাসার হিফজ বিভাগে অধ্যয়নরত। তার গ্রামের বাড়ি রাঙ্গাবালীর সদর ইউনিয়নের জুগিরহাওলা গ্রামে। অভিযুক্ত শিক্ষক বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কাজলাকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম দুলাল ফকির। জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল তিনি হিফজ বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। হয়রানির শিকার শিশুর পরিবার সূত্রে জানা যায়, সকালে শিশুটি মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাড়িতে এসে ঘটনাটি জানায়। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শিশুটির স্বজন ও স্থানীয়রা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে অবরুদ্ধ করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে শিশুর মা তাকে জুতাপেটা করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। শিশুটির মা বলেন, 'নিরাপদ জায়গা ভেবে ছেলেকে মাদ্রাসায় দিয়েছিলাম। অথচ আমার ছেলের সঙ্গে এই খারাপ কাজ করা হয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।' শিশুটির বাবা বলেন, 'রাতে এই ঘটনা ঘটানোর পর আমার ছেলে যাতে বাড়িতে যেতে না পারে, এজন্য ভয় দেখানো হয়েছিল। বস্তাভরে ফেলে দেয়ার কথাও বলেছিল।' এদিকে, শিক্ষক আটকের পর এ ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের কঠোর শাস্তি দাবি করেন। মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, 'আমরা এর দায় নিবো না। অভিযুক্ত শিক্ষকে পুলিশে দেয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে। শিশুটির যাবতীয় চিকিৎসা খরচ আমরা বহন করবো।' এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) ইলিয়াছ হোসেন মুন্সি বলেন, 'আমরা খবর পাই একটি শিশুকে বলৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করে রাখা হয়েছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে অফিসার-ফোর্স পাঠিয়ে অভিযুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষককে আটক করা হয়। ভিকটিম ও তার পরিবারকেও থানায় নিয়ে আসা হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
