ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ৩ মে ২০২৬ ২০ বৈশাখ ১৪৩৩
নাটোরে ঝুপড়ি ঘরে ৪ শিশু কন্যা নিয়ে বন্যার মানবেতর জীবন
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Sunday, 3 May, 2026, 5:07 PM

নাটোরে ঝুপড়ি ঘরে ৪ শিশু কন্যা নিয়ে বন্যার মানবেতর জীবন

নাটোরে ঝুপড়ি ঘরে ৪ শিশু কন্যা নিয়ে বন্যার মানবেতর জীবন

ঝুপড়ি এক টিনের ঘর। জরাজীর্ণ বাঁশের খুঁটি আর ফুটো হওয়া চালের নিচে ৪ অবুঝ কন্যা সন্তানকে বুকে আগলে কোনো রকমে দিন কাটে বন্যা খাতুনের। রোদ, বর্ষা, গরমের সঙ্গে এক প্রকার লড়াই করে বাঁচতে হয় তাদের। আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামলে বিছানা ভেজার ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটে তাদের। আর অন্ধকারে ঝোপঝাড় থেকে আসা সাপ-বিচ্ছুর আতঙ্ক তো নিত্যদিনের সঙ্গী।

নাটোরের লালপুর উপজেলার ঈশ্বরদী ইউনিয়নের নবীনগর পশ্চিমপাড়া গ্রামে চার সন্তান নিয়ে এমন মানবেতর জীবন যাপন করছেন অসহায় বন্যা খাতুন। বন্যার স্বামী রেজাউল করিমের একমাত্র আয়ে চলে তাদের ৬ সদস্যের পরিবারের। সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে বন্যার স্বামী রিকশা চালিয়ে যা নিয়ে ফেরেন, তাতে চার শিশুর মুখে হাসি ফোটানো তো বিলাসিতা, কেবল ক্ষুধার জ্বালা মেটানোই দায় হয়ে পড়ে। ডাল-ভাত জুটলে মনে হয় উৎসব, আর না জুটলে পান্তা খেয়েই দিন পার করতে হয় তাদের। তাদের জীবনের অন্তহীন লড়াইয়ে কেউ পাশে নেই। এই পরিবারটি আজ কেবল বেঁচে থাকার জন্য একটু নিরাপদ আশ্রয় আর এক চিলতে মানবিকতার প্রত্যাশায় দিন গুনছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৩ বছর আগে বিয়ে হয় বন্যা খাতুনের সঙ্গে। বিয়ের পর জন্ম হয় আয়তাল কুরসি (৭) নামের এক কন্যা সন্তানের। তিন বছর পরে যমজ ৩ কন্যা সন্তান আমেনা, ফাতেমা, সুরাইয়া জন্মগ্রহণ করে। তাদের বয়স এখন তিন বছর। এরপর থেকে শুরু হয় বন্যা দম্পতির জীবনের কঠিন অধ্যায়। বাবা সন্তানদের চাহিদা মতো খাবার জোগাড় দিতে পারেন না। ঈদে সন্তানদের নতুন পোশাক কিনতে পারেননি। বৃষ্টিতে পানি আর রাতে সাপ-বিচ্ছুর আতঙ্ক, কাঠফাঁটা গরসে চরম অসস্তি নিয়েই কয়েক টুকরো পলিথিন ও বাঁশের খুঁটির নিচে রাত কাটে অসহায় পরিবারটি। স্বামী সারাদিন রিকশার চালিয়ে যা উপার্জন করে তা দিয়ে চলে পুরো সংসার। কোনদিন শুধু ভাত ডাল জুটলেও কখনো কখনো পান্তায় পার হয় দিন। চার মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছেন তাদের বাবা-মা।

প্রতিবেশীরা জানান, বর্তমান সময়েও একটি পরিবার এমন মানবেতর অবস্থায় থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। বৃষ্টির রাতে তার ঘর টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে তারাও দুশ্চিন্তায় থাকেন। দ্রুত তাকে সরকারি সহায়তায় একটি স্থায়ী ঘর দেওয়ার দাবি জানান এলাকাবাসী। বন্যা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, এই বয়সে কাজ করার শক্তি থাকলেও চার মেয়েকে নিয়ে সারাদিন ব্যস্ত থাকতে হয়। সরকারের প্রতি আমার আকুল আবেদন সরেজমিনে তদন্ত করে আমাদের একটা ঘর দেওয়া হোক। আমাদেরকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status