ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
প্রতিদিন ১০০ মানুষের হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে যে শহরে!
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Sunday, 26 April, 2026, 3:55 PM

প্রতিদিন ১০০ মানুষের হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে যে শহরে!

প্রতিদিন ১০০ মানুষের হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে যে শহরে!

করাচি, পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় বন্দরনগরী। শহরটিতে প্রতিদিন অন্তত একশ’ মানুষের হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা সামনে আসছে। আর এটি নগরটির বাসিন্দাদের জন্য বড় জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত সতর্কতা সংকেত হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস এবং রোগ প্রতিরোধে ঘাটতির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে হৃদরোগ প্রতিরোধে নতুন কর্মপরিকল্পনা ও উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, ঝুঁকির কারণ বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার অভাবের কারণে শহরটি ক্রমেই গুরুতর কার্ডিওভাসকুলার সংকটে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে পাকিস্তান কার্ডিয়াক সোসাইটির (পিসিএস) করাচি শাখা একটি নতুন ক্লিনিক্যাল প্ল্যাটফর্ম এবং ২০২৬ সালের জন্য প্রতিরোধভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

টাব্বা হার্ট ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত ‘ক্লিনিক্যাল ইনোভেশন অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক কন্টিনিউটি’ শীর্ষক এক বৈঠকে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। সেখানে শীর্ষস্থানীয় কার্ডিওলজিস্টরা চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

পিসিএস করাচির সমন্বয়ক ডা. আকরাম সুলতান বলেন, রোগের বোঝা কমাতে ক্লিনিক্যাল মানোন্নয়ন, প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং প্রতিরোধমূলক হৃদরোগ চিকিৎসায় জোর দিতে হবে। তিনি বলেন, “প্রতিরোধ, আগাম শনাক্তকরণ এবং ঝুঁকি কমানোর দিকে মনোযোগ না দিলে হৃদরোগের ঘটনা বাড়তেই থাকবে।”

এই অনুষ্ঠানে ‘হার্ট বিট’ নামে একটি ডিজিটাল ক্লিনিক্যাল বুলেটিন চালু করা হয়। এটি গবেষণা, নির্দেশনা ও ক্লিনিক্যাল আপডেট বিনিময়ে সহায়তা করবে। ডা. আলিয়া কামাল আহসান এটি উদ্বোধন করেন এবং সেশনটি পরিচালনা করেন।

পিসিএস করাচির সাধারণ সম্পাদক ডা. রিফাত সুলতানা ২০২৬ সালের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। ওই কর্মপরিকল্পনায় সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং প্রতিরোধকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

টাব্বা হার্ট ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ডা. বশীর হানিফ স্থানীয় তথ্যভিত্তিক কৌশলের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘পাক সেহাত স্টাডি’ পাকিস্তানের নির্দিষ্ট ঝুঁকির ধরন বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শুধু আন্তর্জাতিক তথ্যের ওপর নির্ভর করলে কার্যকর নীতি নির্ধারণ সম্ভব নয়।

বিশিষ্ট ইলেক্ট্রোফিজিওলজিস্ট ডা. ফারিহা সাদিক বলেন, হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা বা অ্যারিথমিয়া এখন হৃদরোগের একটি বড় কারণ হয়ে উঠছে। এ বিষয়ে সচেতনতা ও বিশেষায়িত সেবা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে, যাতে জটিলতা ও আকস্মিক মৃত্যুর ঝুঁকি কমানো যায়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, করাচিতে হৃদরোগের বাড়তি ঝুঁকির পেছনে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ট্রান্স ফ্যাটের ব্যবহার, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, ধূমপান, মানসিক চাপ এবং ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের বিস্তার বড় ভূমিকা রাখছে।

অধ্যাপক ডা. ফাওয়াদ ফারুক বলেন, প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা ও উদ্ভাবনের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিরোধমূলক কৌশলকে আলাদা বিষয় হিসেবে নয় বরং নিয়মিত চিকিৎসার অংশ করতে হবে।

এছাড়া পেশাজীবী সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীরা জানান, চিকিৎসা ব্যবস্থায় অগ্রগতি হলেও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবায় পাকিস্তান এখনও পিছিয়ে রয়েছে। সচেতনতার অভাব এবং ঝুঁকি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়নের দুর্বলতা রয়েছে।

তারা সতর্ক করেন, জীবনযাত্রার পরিবর্তন, আগাম স্ক্রিনিং এবং খাদ্য ও তামাকজাত পণ্যের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ না আনলে করাচিতে হার্ট অ্যাটাকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। 

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status