ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
৮ ঘন্টা ঘুমানোর পরও ক্লান্ত লাগে? জানুন ৬ কারণ
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Sunday, 26 April, 2026, 12:39 PM
সর্বশেষ আপডেট: Sunday, 26 April, 2026, 1:32 PM

৮ ঘন্টা ঘুমানোর পরও ক্লান্ত লাগে? জানুন ৬ কারণ

৮ ঘন্টা ঘুমানোর পরও ক্লান্ত লাগে? জানুন ৬ কারণ

ঘুম মানবদেহের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, যা আপনাকে সুস্থ, মনোযোগী এবং উদ্যমী রাখতে সাহায্য করে। খাবার ও ব্যায়ামের মতোই ভালো ঘুমও স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি মস্তিষ্ককে পরিষ্কারভাবে চিন্তা করতে সাহায্য করে, মেজাজ স্থিতিশীল রাখে এবং সারাদিনের ক্লান্তির পর শরীরকে পুনরুদ্ধার করে।

গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম হলে আপনি সকালে সতেজ অনুভব করেন এবং দৈনন্দিন কাজ সহজে করতে পারেন। কিন্তু ঘুম ভালো না হলে, কয়েক ঘণ্টা ঘুমিয়েও শরীর ক্লান্ত থাকতে পারে।

অনেক সময় মানুষ পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরেও সবসময় ক্লান্ত অনুভব করে। এই অবিরাম ক্লান্তিকে বলা হয় ‘স্লিপ ফ্যাটিগ’ বা ঘুমজনিত ক্লান্তি। এটি ধীরে ধীরে কাজ, মেজাজ এবং ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। শারীরিক সমস্যা, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বা জীবনযাপনের কিছু অভ্যাস এর কারণ হতে পারে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক ঘুমজনিত ক্লান্তির কিছু কারণ-

১. স্লিপ অ্যাপনিয়া

স্লিপ অ্যাপনিয়া একটি শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা, যা ঘুমের সময় ঘটে। এতে গলার শ্বাসনালী সংকুচিত হয়ে যায় বা কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়, ফলে শ্বাস বন্ধ হয়ে আবার শুরু হয়। প্রতিবার এমন হলে মস্তিষ্ক ক্ষণিকের জন্য জেগে ওঠার সংকেত দেয় যাতে শ্বাস নিতে পারেন। এগুলো আপনি টের না পেলেও আপনার ঘুম বারবার ভেঙে যায়। ফলে গভীর ঘুম পাওয়া যায় না। স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত মানুষ ঘুম থেকে উঠে ক্লান্ত অনুভব করেন, যেন তারা আদৌ বিশ্রাম পাননি।

২. ইনসমনিয়া (অনিদ্রা)

ইনসমনিয়া শুধু ঘুম না আসাকেই বোঝায় না, বরং অপ্রশান্ত ঘুমকেও বোঝায়। এতে মানুষ ঘুমাতে দেরি করে, রাতে বারবার জেগে ওঠে বা খুব সকালে ঘুম ভেঙে যায়। মোট ঘুমের সময় স্বাভাবিক মনে হলেও ঘুম ভাঙা ও হালকা হওয়ার কারণে শরীর পুরোপুরি বিশ্রাম পায় না। ফলে দিনের বেলায় ক্লান্তি, মাথা ভারী লাগা এবং বিরক্তি দেখা দেয়।

৩. ডিপ্রেশন ও অ্যাংজাইটি

মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন ডিপ্রেশন ও অ্যাংজাইটি ঘুমের ক্লান্তির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। ডিপ্রেশনে শক্তি কমে যায় এবং ছোট কাজও ক্লান্তিকর মনে হয়। কেউ বেশি ঘুমালেও ক্লান্ত থাকে, আবার কেউ চিন্তা ও দুশ্চিন্তার কারণে ঘুমাতে পারে না। অ্যাংজাইটি মস্তিষ্ককে সবসময় সতর্ক অবস্থায় রাখে, ফলে গভীর ঘুম হয় না।

৪. দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক রোগ

হৃদরোগ, ফুসফুসের রোগ, ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা বা দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণের মতো রোগ শরীরকে অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য করে। এতে শক্তি দ্রুত কমে যায়। পাশাপাশি ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা রাতে বারবার প্রস্রাবের কারণে ঘুম ভেঙে যায়। ফাইব্রোমায়ালজিয়া বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাও ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়।

৫. হাইপারসমনিয়া

হাইপারসমনিয়া এমন একটি অবস্থা যেখানে পর্যাপ্ত বা দীর্ঘ সময় ঘুমানোর পরেও সারাদিন অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব থাকে। মানুষ সকালে ঘুম থেকে উঠে ভারী ও ঝিমানো অনুভব করে। এটি প্রাথমিক হতে পারে বা অন্য রোগ, ওষুধ বা মস্তিষ্কের সমস্যার কারণে হতে পারে। এতে ঘুম ও জাগরণের স্বাভাবিক চক্র ঠিকভাবে কাজ করে না।

৬. জীবনযাপন ও ঘুমের অভ্যাস

কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস ঘুমের মান খারাপ করে দিতে পারে। রাতে ভারী বা ঝাল খাবার খাওয়া, ঘুমানোর আগে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার, অ্যালকোহল গ্রহণ বা অনিয়মিত ঘুমের সময়সূচি ঘুমকে ব্যাহত করে। পাশাপাশি কম শারীরিক কার্যকলাপ, পানি কম পান করা বা অপুষ্টিকর খাবারও দিনের বেলায় ক্লান্তি বাড়াতে পারে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status