|
গরমে আইসক্রিম খাওয়া কতটা নিরাপদ?
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() গরমে আইসক্রিম খাওয়া কতটা নিরাপদ? চিকিৎসকদের মতে, আইসক্রিম গরমে তাৎক্ষণিক আরাম দিতে পারে ঠিকই, তবে এই আরাম বেশিক্ষণ স্থায়ী নয়। ঠান্ডা অনুভূতি মুখে লাগলেও শরীরের ভেতরে এর প্রভাব ভিন্ন। বিশেষ করে যেসব আইসক্রিম দুধ, চিনি ও চকলেটের মতো ভারী উপাদানে তৈরি, সেগুলো হজম করতে শরীরকে বাড়তি পরিশ্রম করতে হয়। এই হজম প্রক্রিয়ায় শরীরের ভেতরে তাপ উৎপন্ন হয়। ফলে আইসক্রিম খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই আবার গরম লাগতে শুরু করতে পারে। অর্থাৎ যে স্বস্তি শুরুতে পাওয়া যায়, তা দ্রুতই উল্টো অনুভূতিতে বদলে যেতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ক্যালরি। বাজারের অধিকাংশ আইসক্রিমে উচ্চমাত্রার চিনি ও ফ্যাট থাকে। নিয়মিত বা অতিরিক্ত খেলে ওজন বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। গরমে আরেকটি সাধারণ সমস্যা হলো হঠাৎ ঠান্ডা লেগে যাওয়া। প্রচণ্ড তাপ থেকে সরাসরি খুব ঠান্ডা আইসক্রিম খেলে শরীর তাপমাত্রার আকস্মিক পরিবর্তনের মুখে পড়ে। এতে গলা ব্যথা, সর্দি বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। তবে সব আইসক্রিমই সমান নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তুলনামূলকভাবে ফলের রস দিয়ে তৈরি আইসক্রিম বেশি নিরাপদ ও উপকারী হতে পারে। কারণ এতে পানির পরিমাণ বেশি থাকে, চিনি কম থাকে এবং শরীর সহজে তা হজম করতে পারে। ফলে বিপাকের সময় অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন হয় না। লেবু, পুদিনা বা তরমুজের মতো ফল দিয়ে তৈরি ঠান্ডা ডেজার্ট শুধু স্বাদই নয়, শরীরকেও কিছুটা হাইড্রেট রাখে। ঘরে তৈরি পপসিকল হলে নিয়ন্ত্রণ থাকে উপাদানের ওপর, যা স্বাস্থ্যের জন্য আরও ভালো বিকল্প। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পরিবেশ ও সময়। প্রচণ্ড রোদে বাইরে দাঁড়িয়ে আইসক্রিম খাওয়া শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বরং ছায়াযুক্ত বা ঠান্ডা পরিবেশে কিছুটা বিশ্রামের পর আইসক্রিম খেলে হঠাৎ ঠান্ডা লাগার ঝুঁকি কমে যায়। অর্থাৎ আইসক্রিম গরমে শত্রু নয়, তবে সঠিকভাবে না খেলে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অস্বস্তির কারণ। সবশেষে, গরমে স্বস্তির পথ একটাই নয়। আইসক্রিম সেই তালিকার একটি ছোট অংশ মাত্র। শরীরের প্রকৃত স্বস্তি আসে হাইড্রেশন, বিশ্রাম এবং সচেতন খাদ্যাভ্যাস থেকে—না যে শুধু ঠান্ডা এক স্কুপের মুহূর্তিক আনন্দ থেকে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
