|
আল্লামা লুৎফর রহমান: একটি নাম-একটি ইতিহাস
রায়হানুর রহমান
|
![]() আল্লামা লুৎফর রহমান: একটি নাম-একটি ইতিহাস ■ শৈশব: একটি দরিদ্র পরিবারের পারিবারিক পরিবেশে অতিবাহিত হয় মাওলানার শৈশব কাল । বাবা মায়ের সাথে অভাবী সংসারের টানাপোড়নের মাঝে বাবাকে পারিবারিক বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করতেন। কখনো রান্নার ব্যবস্থা না থাকলে পুকুর থেকে জাল অথবা মাছ ধরার বড়শি মাছ ধরে এনে চমকে দিতেন মা বাবাকে। বাবাকে পারিবারিক কাজে সহযোগিতা করতে গিয়ে একবার টিনের ঘরের চাল পরিস্কার করতে উঠে পিছলে পড়ে হাত ভেঙ্গে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে শৈশব জীবনে । ■ শিক্ষাজীবন : অভাবের সংসারে যেখানে "নুন আনতে পান্তা ফুরায়" সেখানেই মাওলানার পড়া লেখার সূচনা হয় । বাবা মৌলভী আব্দুস সামাদ (রহ:) বরিশালের পটুয়াখালীর কালাইয়াতে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসায় নিয়ে নিজের কাছে রেখেই দাখিল পর্যন্ত পড়া লেখা করান । দাখিলে ১ম বিভাগ পেয়ে কালাইয়া মাদ্রাসার ইতিহাসে সেটাই ছিল ১ম বিভাগ পাওয়ার ১ম রেকর্ড। কামিল পর্যন্ত সব ক্লাসে পেয়েছেন স্কলারশিপ এবং ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েছেন। নওয়াব ফয়েজুন্নেসা কলেজ থেকে বাংলায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ■ টাকার অভাবে ভর্তি করেনি টুমচর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ: মৌলভী আব্দুস সামাদ ছেলের প্রতিভা দেখেই বুঝতে পেরেছিলেন, এই ছোট্ট শিশু একদিন জগৎ বিখ্যাত দ্বীনের দা’য়ী হবে । সে-জন্য সকল মায়া ত্যাগ করে আদরের সন্তানকে আরো ভাল শিক্ষা লাভের জন্য তৎকালীন সাড়া জাগানো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টুমচর মাদরাসায় ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। বরিশালের কালাইয়া মাদ্রাসা থেকে পুত্রের বেডিংপত্রসহ লঞ্চে চড়ে চাঁদপুরে এসে নামলেন । বেডিংপত্র পুত্রের হাতে আর ব্যাগ নিজের হাতে নিয়ে বাড়ীর উদ্দেশ্যে হাঁটতে শুরু করলেন। সারাদিন ৩৫ কিলোমিটার হেঁটে বাড়ীতে আসতে বিকাল হয়ে গেল। মাদ্রাসায় পৌঁছাতে বহু রাত হয়ে যাওয়ার কারনে পরের দিন সকালে টুমচরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন । একটি রাত মায়ের কাছে থেকে পরেরদিন সকাল বেলা ফজর নামাজ পড়েই বেডিংপত্র মাথায় করে পায়ে হেঁটে বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান টুমচরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন । হেঁটে যাওয়ার কারন কোন বাহনে চড়ে যাওয়ার মতো সামর্থ্য তার পরিবারের ছিলো না। প্রায় ২০ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে শেষ দুপুরে টুমচর মাদ্রাসায় গিয়ে পৌঁছালেন বাবা-ছেলে । বাবা শিক্ষকগণের সাথে বিস্তারিত আলাপ করলেন । বিভিন্ন ইন্টারভিউ নেয়া হলো মাওলানার । শিক্ষকগণও খুব খুশি । অনেক ভাল একজন শিক্ষার্থী পেলেন । কিন্তু সমস্যা এসে দাঁড়ালো অন্য জায়গায় । মাওলানার বাবার হোস্টেল চার্জ দিয়ে পড়ানোর সক্ষমতা ছিল না। প্রতিষ্ঠানও চার্জ মওকুফ করতে পারবে না । শেষে অধ্যক্ষ মহোদয়ের শরণাপন্ন হলেন তার বাবা। কিন্তু অধ্যক্ষ মহোদয় বললেন, আসলে আমরা হোস্টেল ফি ছাড়া তাকে নিতে পারবো না ! সহতাশার চাদরে আঁটকে যেতে থাকলো অনেক বড় আলেম হওয়ার স্বপ্ন । ছেলেকে কষ্ট বুঝতে না দিয়ে বললেন, চলো বাবা, আমরা বিকল্প কোথাও যাবো ইনশা আল্লাহ। ■ রায়পুর আলীয়া মাদ্রাসার এক শিক্ষকের সহায়তায় পেল শিক্ষা লাভের সুযোগ: বুকভরা কষ্ট নিয়ে টুমচর মাদ্রাসা থেকে বেডিংপত্র মাথায় নিয়ে বাড়ীর পথে রওয়ানা দিলেন মৌলভী আব্দুস সামাদ। পথে তার এক বন্ধুর সাথে দেখা হলো । বন্ধুর কাছে সব বললেন। বন্ধু সব শুনে বললেন, ভাই আপনি এক কাজ করতে পারেন; রায়পুর আলীয়া মাদ্রাসায় আমার এক পরিচিত শিক্ষক আছেন । আপনি ছেলেকে কাল সকালে সেখানে নিয়ে যান । আমার কথা বলবেন । আশা করি একটা পথ বের হবে ইনশা আল্লাহ । আবার আশার প্রদীপ পেয়ে ছেলেকে নিয়ে বাড়ীতে এসে পৌঁছালেন । গভীর রাত হয়ে গেল । খাবার আর খাওয়া হলো না ! পরদিন সকাল বেলা মৌলভী আব্দুস সামাদ আবার সেই বেডিংপত্র মাথায় নিয়ে তৎকালীন সময়ের আরেকটি সেরা প্রতিষ্ঠান রায়পুর আলীয়া মাদরাসার উদ্দেশ্যে বের হলেন আদরের সন্তানকে নিয়ে । সেখানে পৌঁছে শিক্ষকদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করলেন । সেখানেও খরচের বিষয়টা নিয়ে পড়তে হয়েছে বিপাকে। হোস্টেল ফি পরিশোধ করার সামর্থ্য নেই মাওলানার পরিবারের। পরে মাওলানার ইন্টারভিউ নেয়া এক উস্তাজ বললেন, আমি একটা পরামর্শ দিতে পারি; আমি এক সপ্তাহ হোস্টেলে তার থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারবো । এর ভিতরে যেভাবেই হোক লজিং এর ব্যবস্থা করতে পারবেন কিনা? ![]() আল্লামা লুৎফর রহমান: একটি নাম-একটি ইতিহাস ■ রায়পুর আলীয়া মাদ্রাসার ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত: দেখতে দেখতে কয়েক বছরের মধ্যে রায়পুরের মাটি মানুষের প্রিয় পুরুষে পরিণত হয়ে গেল মাওলানা। ফাজিলে অধ্যয়নরত অবস্থায় মাদরাসার ছাত্র সংসদের জি এস ছিলেন । কামিলে এসে ভিপি নির্বাচিত হয়ে শিক্ষকদের সবচেয়ে আস্থাভাজন দায়িত্বশীলে পরিণত হলো । ছাত্রদের বিভিন্ন দাবী আদায়ের পাশাপাশি এলাকার লোকজন এমনকি স্থানীয়দের বিভিন্ন সহযোগিতায় নিজেকে ব্যস্ত রাখতো পরিপূর্ণভাবে। এভাবে রায়পুরের জনগণের দায়িত্বশীল হয়ে গেল মাওলানা । সে সময় থেকেই ইসলামী ছাত্র সংঘের সাথে মাওলানা ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত হন । ■ ওসি ডেকে পাঠালো রায়পুর আলীয়ার ভিপিকে: মাওলানার দূরন্তপনাও কম ছিলো না । বিভিন্ন যুক্তি তর্কে মাওলানা ছিল অনন্য। এভাবে মাওলানার দূরন্তপনা থানার ওসি অফিস পর্যন্ত গড়িয়েছে। ইতোমধ্যেই ওসির কাছ থেকে বিভিন্ন পুরস্কার গ্রহণসহ বহু মহল থেকে মাওলানার ব্যাপারে ওসির কাছে চমকপ্রদ তথ্য জমা হয়েছে । কৌতুহলবশত একদিন ওসি সাহেব মাওলানাকে নিজের অফিসে ডেকে পাঠালেন। শিক্ষকগণ একটু ভয় পেয়ে গেলেন ! কিন্তু মাওলানা ছিলেন অনেকটাই ড্যাম কেয়ার প্রকৃতির ! সরাসরি চলে গেলেন ওসির কার্যালয়ে । ওসি সাহেব সেদিন মাওলানার সাথে একান্তে কথা বলে বুঝতে পেরেছিলেন মাওলানার মেধা, যোগ্যতা আর জ্ঞান সম্পর্কে । সেই থেকে ওসির সাথে এমন এক হৃদ্যতা আর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে ওসি সাহেব যে কোন বড় প্রোগ্রাে রায়পুর আলীয়ার ভিপিকে দাওয়াত করতেন । এভাবে ওসির সাথে মাওলানার ধারাবাহিক যোগাযোগ তৈরি হয় । অনেক শিক্ষক নিজের বিষয়ে কোন সুপারিশের প্রয়োজন হলেও মাওলানার কাছে চলে আসতেন । মাদ্রাসার যেকোন দাবী আদায়ের জন্য অধ্যক্ষ মাওলানা কামাল উদ্দিন সাহেব বলতেন, লুতু (আদর করে মাওলানাকে শিক্ষকগণ লুতু ডাকতেন) তুই একটু ওসি সাহেবকে বুঝিয়ে বল । তোর কথা ফেলবে না ! ■ ইসলামী ছাত্র সংঘের নোয়াখালী জেলা দায়িত্বশীল : ছাত্র সংঘের কাজে নিজেকে পরিপূর্ণভাবে সম্পৃক্ত করে মাওলানা সারাদিন সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। শিক্ষকগণ কেউ কেউ পড়ার তাগিদও দিতেন । কিন্তু সারাদিন সাংগঠনিক কাজ করলেও যখনই পরীক্ষার রেজাল্ট আসতো দেখা যেতো মাওলানার কাছাকাছি মার্কসও কেউ পায়নি । তাই শেষে শিক্ষকগণ আর কখনও মাওলানাকে সাংগঠনিক কাজে বাধা দিয়ে পড়ার তাগিদ দেয়ার আর প্রয়োজন হতো না । এভাবে শিক্ষাজীবন থেকেই সাংগঠনিক বিভিন্ন দাবী আদায়সহ মাওলানা সারাদিন ইকামতে দ্বীনের কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন । এক পর্যায়ে মাওলানাকে ইসলামী ছাত্র সংঘের নোয়াখালী জেলা দায়িত্বশীল হিসাবে পদায়ন করা হয়। ■ শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী (রহ.) এর সাথে দেশের বিভিন্ন জায়গার প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ : ইতোমধ্যেই মাওলানা সাংগঠনিক সফরে বেশ কয়েকবার ঢাকা যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলদের নজর পড়ে মাওলানার প্রতি। এভাবেই শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী (রহ.) এর সাথে ভাল ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় মাওলানার। পরবর্তিতে নোয়াখালীর গন্ডি পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক আলোচনা ও দারস প্রদান করার সুযোগ তৈরি হয় মাওলানার। সে সময় বেশ কয়েকবার মাওলানা উপমহাদেশের ইসলামী আন্দোলনের রূপকার সাইয়্যেদ আবুল আ'লা মওদুদী (রহ.) এর সান্নিধ্য লাভ করেন এবং তার খেদমত করার সুযোগ পান। ■ যেভাবে শুরু হয় তাফসীরুল কুরআন মাহফিলের সূচনা: মাওলানার হাত ধরেই পাকিস্তান আমলে তাফসীরুল কুরআন মাহফিলের আনুষ্ঠানিক আয়োজন শুরু হয়েছিল। বিশেষ করে মাওলানার বক্তব্যের ধরন, ভাষার মাধূর্য ও অলংকরণ, যুক্তি তর্কের নিরেট সংযোজন, বিভিন্ন ধর্ম গ্রন্থের অনন্য সংমিশ্রণ, কুরআন হাদিসের যৌক্তিক বিশ্লেষণ, বহু ভাষার অগাধ পান্ডিত্ব- সব মিলিয়ে ছাত্র জীবন থেকেই রায়পুর আলীয়ার শিক্ষকগণ উপলব্ধির করেছেন মাওলানা ভবিষ্যতে জগৎ বিখ্যাত একজন আলেম হবেন। কামিলে অধ্যয়নরত অবস্থায় রায়পুর আলীয়ার শিক্ষকগণ-ই ১৯৬৬ সালের রমজান মাসে রায়পুর বাজারের বড় মাসজিদের ব্যানারে মাসব্যাপী তাফসীরুল কুরআন মাহফিলের আয়োজন করে মাওলানাকে স্টেজে তুলে দিয়েছিলে তাফসির করার জন্য। মাওলানা ১ম বললেন আপনারা উস্তাজগণ থাকতে এটাতো বেয়াদবী যাবে ! অধ্যক্ষ কামাল উদ্দিন সাহেব ধমক দিয়ে বললেন, আমরা জেনে বুঝে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তুই আল্লাহপাকের নাম নিয়ে শুরু কর। রমজানের শেষদিন সেই তাফসির মাহফিলের পরিধি ছিল দৈর্ঘ্যে ২ কিলোমিটার। পুরো বাজার বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো মানুষের চাপে । সেই থেকেই মাওলানা মৃত্যু অবধি প্রায় ৬০ বছরের মতো আল কুরআনের খেদমেত নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। ■ কর্মজীবন: কামিল পাশ করার পরে শিক্ষকগণ মাওলানাকে রায়পুর আলীয়ায় হাদিস পড়ানোর জন্য মুহাদ্দিস হিসাবে নিয়োগ দিয়ে বলেন তুই যখন সময় পাবি এসে ক্লাস নিবি । পরবর্তীতে সাংগঠনিকভাবে মাওলানাকে কক্সবাজার জেলার টেকনাফে অবস্থিত (তৎকালীন) রঙ্গিখালী আলীয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব প্রদান করে । মাওলানা অল্প সময়ের মধ্যে সে প্রতিষ্ঠানকে সেরা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন । দায়ী ইলাল্লাহ হিসাবে মাওলানা আজীবন ইকামতে দ্বীনের খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। আমেরিকা, ইউরোপ, জাপান, ইউকে, কোরিয়াসহ প্রায় ৫০টি দেশে দ্বীন প্রচারের কাজে বিভিন্ন সেমিনার, সিম্পোজিয়ামে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ইধহশরহম ঝুংঃবস রিঃযড়ঁঃ ওহঃবৎবংঃ সুদবিহীন ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় মাওলানা অসামান্য অবদান রেখেছেন। পরবর্তীতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির শরীয়াহ বোর্ড এর সদস্য ছিলেন এবং ওইঞজঅ এর ট্রেইনার হিসাবে দীর্ঘদিন নিযুক্ত হন । মাওলানা সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসাবে ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালে লক্ষ্মীপুর ১ (রামগঞ্জ) আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এরাবিয়ান দাতা সংস্থা ওওজঙ এবং "হায়াতুল ইগাসাহ" এর কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন। আশির দশকে হারাম শরীফের খতীবের আমন্ত্রণে মাওলানা একটি টিমসহ সৌদী আরবের রয়্যাল গেস্ট হিসাবে সেখানে গমন করেন এবং পবিত্র কাবার ভেতরে প্রবেশের সৌভাগ্য লাভ করেন। মিরপুর সমাজ কল্যাণ মাসজিদের খতীব হিসাবেও দীর্ঘদিন দায়িত্বরত ছিলেন । সবশেষে মৃত্যু অবধি বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাচ্ছিরীন এর কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। ■ ইন্তেকাল মাওলানার শেষ মাহফিল ছিল ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালীর ছাতারপাইয়া নামক জায়গায়। পরের দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে মাওলানা ব্রেইন স্ট্রোক করেন এবং ধানমন্ডির ইবনে সিনা হসপিটালের স্ট্রোক আইসিউতে একটানা ১৯ দিন অচেতন অবস্থায় লাইফ সাপোর্টে থেকে ৩ মার্চ বেলা ২:৪৫ মিনিটে ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নাইলাহি রাজিউন । ■ জানাযা ও দাফন মাওলানাকে গোসল দেয়া হয়েছে ধানমন্ডির তাকওয়া মাসজিদে । ১ম জানাযা ৩ মার্চ বাদ এশা বায়তুল মোকাররম মাসজিদে অনুষ্ঠিত হয় । ২য় জানাজা ৪ মার্চ মাওলানার বাড়ীর পাশের গাজীপুর রাজ্জাকিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় । প্রায় লক্ষাধিক লোকজন উক্ত জানাজায় অংশগ্রহণ করে । ৩য় জানাজা নিজের প্রতিষ্ঠিত মাসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় । জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা মায়ের কবরের পাশে মাওলানাকে দাফন করা হয় । আল্লাহপাক মাওলানার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিন । মাওলানাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাক্বাম দান করুন। আমীন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
