ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ৬ মে ২০২৬ ২২ বৈশাখ ১৪৩৩
বরগুনায় স্বাস্থ্যখাতে অনিয়ম: লাইসেন্স না থাকা ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান
তামান্না জেনিফার,বরগুনা
প্রকাশ: Saturday, 21 June, 2025, 10:42 AM

বরগুনায় স্বাস্থ্যখাতে অনিয়ম: লাইসেন্স না থাকা ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

বরগুনায় স্বাস্থ্যখাতে অনিয়ম: লাইসেন্স না থাকা ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

বরগুনায় লাইসেন্সবিহীন এবং মানহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। একের পর এক অনিয়ম, ভুল রিপোর্ট এবং লাইসেন্স না থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ায় সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি উঠে আসার পরই জেলায় অভিযান শুরু হয়। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) দিনব্যাপী পরিচালিত অভিযানে চারটি প্রতিষ্ঠানকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা ও সতর্ক করা হয়েছে।

এর আগে ১৮ জুন  নতুন সময় এ “ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে ক্লিনিক, ভুল রিপোর্টে বিপাকে রোগীরা” শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে জনমনে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, জেলার একাধিক বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই রোগী সেবা চলছে। সেই সঙ্গে ভুল রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে বিভ্রান্তিকর রিপোর্ট, যা রোগীর চিকিৎসায় বিপর্যয় ডেকে আনছে।

স্বাস্থ্য সেবার নামে ভয়াবহ অনিয়ম
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি বরগুনায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় জেলার বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্লাটিলেট পরীক্ষার জন্য ভিড় বাড়ে। কিন্তু একাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রক্তের ভুল রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে, যা চিকিৎসকদের নজরে আসে। অনেক ক্ষেত্রে এক রোগীর প্লাটিলেট কাউন্ট কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একাধিকবার পরিবর্তিত হচ্ছে, যার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

একাধিক চিকিৎসক জানিয়েছেন, প্লাটিলেট কাউন্টে এই ধরনের বড় ধরনের ভিন্নতা মারাত্মক চিকিৎসা বিভ্রান্তির কারণ হতে পারে। সঠিক রিপোর্টের অভাবে রোগীর চিকিৎসা দেরি হচ্ছে, এমনকি ভুল ওষুধও ব্যবহৃত হচ্ছে।

লাইসেন্স নেই, মান নিয়ন্ত্রণও নেই
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য মতে, বরগুনা জেলায় বর্তমানে ১২২টি নিবন্ধিত বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ক্লিনিক সংখ্যা ৩১টি। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্সের জন্য ৭৫টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ২৬টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স হালনাগাদ করা হয়েছে— ২০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ৬টি ক্লিনিক।

বরগুনায় স্বাস্থ্যখাতে অনিয়ম: লাইসেন্স না থাকা ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

বরগুনায় স্বাস্থ্যখাতে অনিয়ম: লাইসেন্স না থাকা ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

পরিদর্শনের অপেক্ষায় রয়েছে আরও ৮টি প্রতিষ্ঠান, এবং লাইসেন্স পেতে অপেক্ষমাণ রয়েছে ১০টি। তবে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র এখনো অসম্পূর্ণ। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও ৭টি প্রতিষ্ঠানের নথি এখনো যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। শুধু অনলাইনে আবেদন করে রেখেছে আরও ২৪টি প্রতিষ্ঠান, যারা এখনো সরাসরি দপ্তরে যোগাযোগ করেনি।

জনগণের প্রত্যাশা: স্বচ্ছতা ও মানসম্মত সেবা
এদিকে, সাধারণ মানুষ এবং রোগীর স্বজনরা চাইছেন স্বাস্থ্যসেবা খাতের স্বচ্ছতা এবং সেবার মান নিশ্চিত হোক। অনেকে অভিযোগ করেছেন, রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষাগুলো সঠিক না হওয়ায় তারা চিকিৎসা নিতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে পাশ্ববর্তী জেলা বা রাজধানীতে গিয়ে পরীক্ষা করাচ্ছেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু লাইসেন্স থাকলেই চলবে না— সঠিক যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ান এবং নিয়মিত তদারকি না থাকলে স্বাস্থ্যখাতে বিশৃঙ্খলা বন্ধ করা সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সালেহ মাহমুদ সুমন বলেন, আমরা নিজেরাও চাই না কেউ ভুল রিপোর্ট দিক বা সেবা নিয়ে বিপদে পড়ুক। আমরা সিভিল সার্জনের কাছ থেকে এক মাস সময় নিয়েছি। এছাড়া আমি সব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিকের মালিকদের সঙ্গে কথা বলেছি।

সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান বলেন, আমরা চাই বরগুনার মানুষ যেন সঠিক ও মানসম্মত সেবা পায়। যেসব প্রতিষ্ঠানে ঘাটতি আছে, সেগুলোকে আমরা সহযোগিতা করছি উন্নতির জন্য এবং নার্স ও টেকনোলজিস্টদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

অভিযান চলাকালে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজওয়ানুর আলম বলেন, বাইরে থেকে ভুল রিপোর্ট রোগীর জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। এরমধ্যে আমরা কতগুলো ভুল রিপোর্ট পেয়েছি। তাই প্রাইভেট ডায়াগনস্টিকগুলোতে নিয়মিত তদারকি ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, বরগুনা ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। এখন বরগুনাতে ডেঙ্গু সংক্রমণ বেড়েছে। এরই মধ্যে তারা রোগীদের টেস্ট ভুল দিচ্ছে বলে শুনেছি। এছাড়া আমরা নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে থাকি। তারই ধারাবাহিকতায় আজকে বরগুনার বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালানো হয়েছে।তিনি আরও বলেন, আমি আমার সব উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নির্দেশনা দিয়েছি যাতে করে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status