ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ৫ জুন ২০২৬ ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ঢাকা-১৭ আসনটি কি অভিজাতদের, নাকি বস্তিবাসীদের আসন?
ইমতিয়াজ মাহমুদ
প্রকাশ: Saturday, 15 July, 2023, 1:25 PM

ঢাকা-১৭ আসনটি কি অভিজাতদের, নাকি বস্তিবাসীদের আসন?

ঢাকা-১৭ আসনটি কি অভিজাতদের, নাকি বস্তিবাসীদের আসন?

আমার নির্বাচনী এলাকা হচ্ছে জাতীয় সংসদের ১৯০ নম্বর আসন বা ঢাকা ১৭ নম্বর আসন। নায়ক ফারুক ছিলেন এই আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তার মৃত্যুতে এখানে উপ-নির্বাচন হচ্ছে। উপ-নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হবে এ মাসের ১৭ তারিখ, অর্থাৎ আগামী সোমবার। উপ-নির্বাচনে যিনি নির্বাচিত হবেন তিনি সংসদ সদস্য হিসাবে কাজ করবেন বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত। অর্থাৎ তিনি কম বেশি পাঁচ মাসের মতো সময় হয়তো পাবেন সংসদ সদস্য হিসাবে, তারপর আবার নির্বাচন। আমাদের এই আসনটিকে লোকে চিহ্নিত করে অভিজাত ও বিত্তবানদের সংসদীয় আসন হিসাবে। বনানী, গুলশান ও বারিধারা এই তিনটি এলাকা এই আসনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এবং সঙ্গে ক্যান্টনমেন্ট থানা যুক্ত হওয়ায় মানুষের মধ্যে এরকম ধারণা হয়। বাস্তব অবস্থা কি জানেন? এই আসনটি হচ্ছে বস্তিবাসীদের আসন। ঢাকার কয়েকটি বৃহৎ বস্তি এই আসনের অন্তর্গত, করাইল ও সাততলা বস্তি, ও ভাষানটেক বস্তি এগুলো অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও ছোট ছোট অনেকগুলো বস্তি আছে।


এই আসনের মোট ভোটার সংখ্যা কমবশি সোয়া তিন লাখের মতো, এর মধ্যে মোটামুটি পঞ্চাশ থেকে পঁচাত্তর হাজারের মতো হবে বিত্তবান বা স্বচ্ছল মধ্যবিত্ত ভোটার। বাকি সব হচ্ছে বস্তিবাসী, দরিদ্র ও হতদরিদ্র ভোটার। আবার বারিধারার কোনার দিকে একটা বড় এলাকা জুড়ে আছে গারো এবং অন্যান্য আদিবাসীদের বাসস্থান। তারা সবাই ঢাকার ভোটার নন, কিন্তু ঢাকার ভোটারের সংখ্যাও অনেক। এদের মধ্যে খৃস্টান গারোরাই বেশি, অল্পকিছু সাংসারিকও আছে হয়তো, আর আছে পাহাড়ের ও সমতলের অন্যান্য আদিবাসী জনগোষ্ঠীর লোকজন। এদের বেশির ভাগই ঢাকায় নানারকম কাজকর্ম করেন, খুব একটা স্বচ্ছল এরা নয়। কালচাঁদপুর ঠিক বস্তি নয়, তবে খুব স্বচ্ছল এলাকা নয়। ওখানে একটা চার্চ আছে। চার্চ একটা বনানীতেও আছে। মানে হচ্ছে ধর্মবিশ্বাসের দিক দিয়ে এই আসনে বেশ কিছু খৃস্ট ধর্মাবলম্বি মানুষ বাস করে।
এখানে যারা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন এরা জানেন এই সমীকরণটা। ফলে দেখা যাচ্ছে যে প্রার্থীরা প্রায় সকলেই বস্তিগুলোতে এবং অপেক্ষাকৃত অসচ্ছল এলাকাগুলোতে প্রচারণায় বেশির ভাগ সময় কাটাচ্ছেন। বারিধারা, গুলশান বা নবানির আবাসিক এলাকাগুলোতে খুব একটা শোরগোল পাওয়া যায় না। আমার বাসার আশেপাশে যেমন, আমি একদিন দেখেছি জাকের পার্টির প্রার্থী একটা মিশিল নিয়ে গোলাপ ফুলে ভোট চেয়ে গেছেন, অন্য প্রার্থীদের দেখিনি। অবশ্য এমন হতে পারে যে ওরা যখন এসেছে তখন আমি বাসায় ছিলাম না।


এমনিতে এই নির্বাচনে খুব একটা উত্তেজনা হবে বলে মনে হয় না। মানুষ ভোট দেওয়ার ব্যাপারে খুব একটা উৎসাহী নয়। নির্বাচনের ভাবসাব দেখে মনে হচ্ছে, আমার বন্ধু আরাফাত নৌকা মার্কা নিয়ে খুব সহজেই বিপুল ভোটে জিতে যাবেন। ওর জন্য চ্যালেঞ্জ কেবল একটাই, মানুষজনকে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া। যত মানুষ ভোট দিবে নৌকা মার্কা ততো বেশি ভোট পাবে। এখানে আওয়ামী লীগের সংগঠন বেশ ভালো, ওদের নিয়মিত ভোটারও অনেক। কিন্তু সব এলাকার মতো এই এলাকাটিতেও আওয়ামী লীগ বিরোধী প্রচুর ভোটার রয়েছে। আমার অনুমান হচ্ছে এইসব ভোটাররা ১৭ তারিখে ভোটকেন্দ্রে যেতেই আগ্রহী হবে না। কারণ হচ্ছে বিএনপি যেহেতু নির্বাচন বর্জন করছে পাঁড় বিএনপি সমর্থকরা তো ভোট দিতে যাবেই না। অন্য প্রার্থীদের চেষ্টা রয়েছে বিএনপি সমর্থক এবং সাধারণভাবে আওয়ামী লীগ বিরোধীদের ভোট নিজেদের পক্ষে টানবার। কিন্তু যারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বিএনপি ভোটাররা ওদেরকে আওয়ামী লীগের পক্ষের এবং ওদের চলমান আন্দোলনের বিরোধী হিসাবেই দেখবে। ফলে এন্টি আওয়ামী লীগ ভোটাররা এসে অন্যকে ভোট দিবে সেটা মনে হয় হবে না।

আমি এই নির্বাচনে ভোট দিচ্ছি না। মোহাম্মদ আলী আরাফাত আমার পরিচিত, বন্ধু মানুষ। আমাদের রাজনৈতিক মতামত যে ভিন্ন সেটা তো বলাই বাহুল্য। কিন্তু আরাফাতের প্রতি ব্যক্তিগত কোনো বৈরিতা আমি অনুভব করি না। অন্য প্রার্থীদের আমি চিনি না। কিন্তু বিষয়টা প্রার্থী নিয়ে নয়- নীতিগতভাবে এই নির্বাচনে আমি ভোটার হিসাবে অংশ নিবো না।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status