ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ১৯ মে ২০২৬ ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায় দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে দেশ
রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী
প্রকাশ: Tuesday, 19 May, 2026, 10:04 PM

প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায় দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে দেশ

প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায় দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে দেশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাধাসিধে জীবনযাপন দেশের সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছে। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ এখনো ৩ মাস পূর্ণ হয়নি। সরকার গঠনের আগে প্রধানমন্ত্রীর উচ্চারিত দুটি বাক্য দেশের মানুষকে ব্যাপক নাড়া দিয়েছে। সেই বাক্য দুটির যথার্থতা বর্তমানে দেখছে দেশের আপামর জনসাধারণ। প্রথমত, সবার আগে বাংলাদেশ- যে কথার মধ্যে গভীর দেশপ্রেম লুকিয়ে আছে। দ্বিতীয়ত, 'আই হ্যাভ এ প্ল্যান'। সরকার গঠনের পর কথাটি জনসম্মুখে ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। তাঁর দায়িত্বশীলতা, সহমর্মিতা, স্নেহপরায়ণ, শিষ্টাচারমূলক আচরণের কাজগুলো প্রশংসার যোগ্য নিঃসন্দেহে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দেখা গেছে, দেশের জনগণের ক্ষুদ্র একটি অংশের উগ্রতা, লজ্জাজনক, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলকে হেয়প্রতিপন্ন করার মতো হীন মানসিকতার কাজকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হয়েছিল। যেটা সভ্য সমাজের দৃষ্টিতে ছিল ন্যক্কারজনক। দেশ স্বাধীনের পর একদলীয় শাসন-ব্যবস্থা বাকশাল কায়েম তখন পুরোপুরি সফল না হলেও পরবর্তীতে একই দলের পরোক্ষভাবে বাকশাল কায়েমের কাজ লাগামহীন করে যাচ্ছিল!

গুম, খুন, হামলা, মামলা, গালিগালাজ, দাম্ভিকতা নিয়ে কথা বলা হয়ে উঠেছিল নিত্য নৈমিত্তিক। স্বাধীনভাবে সত্যের পক্ষে কথা বলার বাক-স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, যা ছিল দেশ ও জাতির অধঃপতনের জন্য যথেষ্ট। সে পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে দেখতে, শুনতে ও মানতে একপ্রকার অভ্যস্ত করে তোলা হয় দেশের সাধারণ মানুষকে। যার দৃশ্যপট অতি দ্রুতই বদলে দিয়েছেন বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাধারণ দৃষ্টিতে বর্তমান সরকারের কাজগুলো খুব সহজ মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে অতোটা সহজ নয়। নিজের সহধর্মিণীর হাত ধরে জনতার ভিড়ের মধ্যে পায়ে হেঁটে পথচলা, ছাতা মাথার উপরে দিয়ে সহধর্মিণীকে বৃষ্টি থেকে রক্ষা করা একজন দায়িত্বশীল মানুষের আচরণ। প্রধানমন্ত্রীর উদার ও সহনশীল আচরণ মনে রাখার মতো। এমনই ব্যতিক্রমধর্মী বিভিন্ন উদাহরণ উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যা দেশের সাধারণ মানুষের স্বপ্ন ছিলো। তাঁর প্রতিটি কাজেই অকৃত্রিম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তির উদারমনা এমন দৃষ্টান্ত ও আচরণ দেশ ও জাতির জন্য ইতিহাসে মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। মানুষ মাত্রই মানুষের কাছ থেকে ভালো আচরণ আশা করে। আর সেটা যখন সরকারপ্রধানের কাছ থেকে পায় তখন তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে আপামর জনসাধারণের মধ্যে। গঠনমূলক সমালোচনা হোক এবং সেটা অবশ্যই কাম্য। তবে ভালো কাজের প্রশংসা করতে কার্পণ্য থাকা উচিতও নয়। 'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে/ কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে'— বর্তমান সরকারের ইতিবাচক কাজ দেখে কবিতার পঙক্তি দুটি মনে পড়ে গেল। বর্তমান সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের ২১ দিনের মাথায় অর্থাৎ ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তাঁর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি পরিবারের জন্য পর্যায়ক্রমে 'ফ্যামিলি কার্ড' পৌঁছে দেওয়ার পাইলট প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু করেছেন যা দৃশ্যত চলমান। প্রতিটি কার্ডে মাসিক আড়াই হাজার নগদ টাকা সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হচ্ছে, যা নারীর অর্থনৈতিক, পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের আন্তর্জাতিক রোল মডেল। প্রথমে ১০ হাজার পরিবারকে দেওয়া হয়েছে এবং আগামী জুন মাসের মধ্যে ৪০ হাজার পরিবারকে দেওয়া হবে। যার মূল লক্ষ্য ব্যক্তি নয়, বরং পরিবারই উন্নয়নের মূল একক। পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এটি বর্তমান সরকারের একটি বড় সামাজিক নিরাপত্তা উদ্যোগ। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি পরিবারে পৌঁছে যাবে ফ্যামিল কার্ড। পরিতাপের বিষয়, দেশের একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা এটা নিয়ে অনেক বাঙ্গ- বিদ্রূপ করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আরেকটি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দেশের কৃষক, কৃষানির জন্য ১০টি সুবিধা ও নগদ অর্থায়ন সম্বলিত 'কৃষক কার্ড' প্রচলন। ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে ১০টি জেলার ২২ হাজারেরও বেশি প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষককে এই কার্ড প্রদানের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মৎসা, প্রাণিসম্পদ খাতে যারা যুক্ত এবং খামারিরাও এই সুবিধা পাচ্ছেন। প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ১০ হাজার টাকা

পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও দেশের আইনি কাঠামোর ধারাবাহিকতা রক্ষায় অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সরকার সংসদীয় গণতন্ত্রের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। এসব অধ্যাদেশের মাধ্যমে মানবাধিকার কমিশন গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশসহ ১৬টি অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাই-বাছাই করে আবার সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা চলছে ও চলবে। এগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে আরো পরামর্শ ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বিলেই উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারের এ উদ্যোগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। সারাদেশে বিশ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫৪ জেলায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজটি দৃশ্যমান ও দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতে ৩৫ মেগাওয়াট যুক্ত হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে। স্বীকার করতেই হবে, দ্রব্যমূল্য অন্যান্য বছরের তুলনায় কম। বিগত পবিত্র রমজানেও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ছিল। দেশের ৪৯০৮টি মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, মন্দিরের পুরোহিত ৯৯০টি, বৌদ্ধবিহারের ১৪৪টি অধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজক ও পালকরা সম্মানী পাচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে দেশের শতভাগ উপাসনালয়ে এটা বাস্তবায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এটি একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ইসলামিক স্কলার ও অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জাকাত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করে দারিদ্র্য বিমোচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঈদুল ফিতরের সময় অসহায় গরিবদেরকে ত্রাণ ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

হজযাত্রার খরচ টিকিটপ্রতি ১২ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। প্রথম বারের মতো দেশের মাটিতেই নুসুক হজ কার্ড দেওয়া হয়েছে। নুসুক হজ কার্ড হলো সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রবর্তিত স্মার্ট ডিজিটাল পরিচয়পত্র। এটি হজযাত্রীর ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য এবং আবাসন তথা ধারণ করে, যা মক্কা, মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফায় প্রবেশ ও যাতায়াত নিশ্চিত করতে পাস হিসেবে কাজ করে। শিগগিরই প্রবাসীদের জন্য 'প্রবাসী কার্ড' চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের সকল মন্ত্রণালয় মিলে সরকারি অফিসে শুন্যপদ ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি। শূন্যপদ পুরণের জন্য ৬ মাস, ১ বছর ও ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। বন্ধ শিল্প-কলকারখানা চালু করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে প্রাধান্য পাবে চিনিকল, রেশম ও পাটশিল্প। ইকোনোমিক জোনের ব্যবহৃত বিসিক এলাকা, ইপিজেড, হাই-টেক পার্ক ও ইন্ডাস্ট্রি তালিকা তৈরি করে সেখানে সম্ভাবনাময় স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যবসার সঙ্গে ইকোসিস্টেম শুরু করা হয়েছে। সহজীকরণের জন্য বিদেশি বিনিয়োগ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নকে প্রাধান্য দিয়ে এই নিয়োগের ক্ষেত্রে মোট নিয়োগের ৮০ শতাংশ নারীদের মধ্যে থেকে নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

পে-প্যাল ও অন্যান্য পেমেন্ট গেটওয়ে কার্যক্রম আমাদের দেশে শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশে- বিদেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করার জন্য বিদেশে অধিক সংখ্যক জনশক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের উত্তরবঙ্গে এগ্রো প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রির হাব বা প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন পর আবারও খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার। দু'দেশের অভূতপূর্ব যৌথ বিবৃতিতে উঠে এসেছে অভিবাসন বায় হ্রাস, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও প্রবাসীদের জনকল্যাণ। বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজতে ইউরোপের ৭টি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। দেশগুলো হলো- সার্বিয়া, গ্রীস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রুমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল ও রাশিয়া।

দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কোনো শ্রমিককে পাওনা আদায়ে বেগ পেতে হয়নি। শ্রমিক, মালিক, সরকার, অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ব্যাংকিং সহায়তা দিয়ে ঈদের আগেই বেতন, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধা পরিশোধ করা হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুনরায় ভর্তি ফি বাতিল অর্থাৎ পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ হওয়ার পর নতুন করে আর ভর্তি ফি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। লটারির পরিবর্তে আধুনিক ভর্তি পরীক্ষা, শিক্ষকদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সকল স্তরের শিক্ষাবৃত্তির অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়েছে। বিদেশে উচ্চ শিক্ষার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক প্রধানমন্ত্রী সহায়তায় সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক এবং শূন্যপদসমূহে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সঠিক ও গুণগত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে 'ই- হেলথ কার্ড চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশের সকল হাসপাতালে নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ শিশু কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় ৩ জন করে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। মহানগর পর্যায়ে উন্মুক্ত খেলার মাঠের সংস্থান করা হচ্ছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ৪র্থ শ্রেণি হতে শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবারও শুরু হয়েছে শিশু কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণের প্রতিযোগিতা 'নতুন কুঁড়ি'। এতে প্রথমবারের মতো সংযুক্ত হচ্ছে ক্রীড়া ও কোরআন তেলাওয়াত। জাতীয় সংসদের গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫০ আসন বরাদ্দ এবং দেশব্যাপী বইপড়াকে উৎসাহিত করার জন্য বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়নে স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্পোর্টস কার্ড ও স্পোর্টস এ্যালাউন্স কর্মসূচি চালু হয়েছে। ইতোমধ্যে যার মাধ্যমে শতাধিক ক্রীড়াবিদকে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও পাটের তৈরি ব্যাগ বিতরণের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্কুলে পর্যায়ক্রমে ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস, কারিগরি শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি যুক্ত করে শিক্ষাক্রমকে সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উপকূলীয় অঞ্চলে নদী ভাঙন রোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এমপি, মন্ত্রীদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ না করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যার ফলে রাজস্ব খরচ কমেছে। পাটজাত পণ্যে প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন সরকারি অফিস এবং বেসরকারি শিল্প খাতকে পাটজাত পণ্য ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এনটিআরসি'র মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ নিয়োগে মেধাভিত্তিক নিয়োগ হতে যাচ্ছে। বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশের সঙ্গে সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে। চলন্ত ট্রেনের যাত্রীদের সুবিধার জন্য ফ্রী ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ আধুনিকায়নে আগামী ৬ মাসের মধ্যে দেশের ২৩৩৬টি কারিগরি ও ৮২৩২টি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রী ওয়াইফাই চালু করা হবে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে শাহজালাল, শাহ্ আমানত ও এমএজে ওসমানী বিমানবন্দরে উন্নত দেশের মতো ফ্রী ইন্টারনেট ব্যবস্থার নির্দেশ ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে উদ্বোধন করা হয়েছে। আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বনায়ন সুজনের জন্য এরই মধ্যে ১ কোটি ৫০ লাখ বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর হামের টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটি সমন্বয়ে সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় ভবন যমুনা ব্যবহার না করে প্রধানমন্ত্রী গুলশানে নিজের বাড়ি ব্যবহার করছেন। নিজ খরচে তেল ব্যবহার করছেন, যা রাষ্ট্রীয় বায় হ্রাসের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রী শনিবারও অফিস করছেন, কর্মকর্তাদের সকাল ৯টার মধ্যে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করেছেন। ভিআইপি প্রটোকল না নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতি সাধারণ চলাফেরায় ট্রাফিক ব্যবস্থায় নজিরবিহীন পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরের সময় বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সীমিত করা হয়েছে।

ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের ও ভিন্নস্থানে ব্যবসা পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির সক্ষমতা বাড়াতে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে ২য় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। ২০২৯ সালে ২য় ইউনিটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালু করা হবে।
সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, একসময় কিছু মানুষ তারেক রহমান সম্পর্কে শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ, কটাক্ষ, আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলেছেন। কিন্তু তিনি সে সব আচরণের বিপরীতে সহনশীলতা, সহমর্মিতা, আত্মত্যাগ দিয়ে কিভাবে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করা যায়, সেটা একের পর এক সৌহার্দ্য প্রদর্শনের মাধ্যমে দেখিয়ে যাচ্ছেন। দেশের মানুষ দেখেনি কোনো প্রধানমন্ত্রী রোগীর অ্যাম্বুলেন্সকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিজের গাড়িবহর থামিয়ে দিয়েছেন। দেখেনি এ দেশের একজন প্রধানমন্ত্রী দুপুরের খাবার ও বিকেলের নাস্তা মিলিয়ে মাত্র ১৫০ টাকার বাজেটে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। আরো দেখেনি দেশের শীর্ষ স্থানীয় ইসলামি স্কলারদের নিজে ফোন করে এক টেবিলে ইফতার করানোর মতো দৃশ্য। ছুটির দিনে অফিস করতে দেখেনি কোনো প্রধানমন্ত্রীকে। তাও আবার সকাল ৯টার আগেই নিজ কর্মস্থলে হাজির। তিনি ভালোবাসা দিতে জানেন, ভালোবাসা আদায় করতে জানেন। তিনি ছিন্নমূল, বস্তিবাসী, অসহায় গরিবদের মাঝে ছুটে গেছেন। তাদের মতামত চাহিদার মুলা দিতে শিখিয়েছেন। প্রখর রোদে আবার বৃষ্টিতে ভিজে খাল খনন করে কৃষকদের উৎসাহ-উদ্দীপনা জুগিয়েছেন। মহলবিশেষ তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার, ভিত্তিহীন, বানোয়াট কথা বলে গেলেও ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কোনো অ্যাকশন না নিয়ে একের পর এক ইতিবাচক কাজ করে যাচ্ছেন। তারপরও মানুষের বাক-স্বাধীনতাকে করে রেখেছেন উন্মুক্ত। কেউ যদি হিংসুক মনোভাবের না হন তবে একবাক্যে স্বীকার করবেন যে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন আদর্শ বাবার আদর্শ সন্তান। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, সহযোগিতা আর আন্তরিকতার মাধ্যমে যে সাধারণ মানুষের হৃদয় স্পর্শ করা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার একটি উৎকৃষ্ট উপমা।

লেখক: রাজনীতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠক। সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, বিএনপি। সাবেক সভাপতি, জাসাস।  

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status