টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করতো চক্রটি
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Saturday, 25 December, 2021, 6:25 PM
টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করতো চক্রটি
নীলফামারী সদরের বড় বাজার ট্রাফিক মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি টয়োটা জীপ গাড়ির সিলিন্ডার থেকে অভিনব কায়দায় পাচারকালে ৯১ হাজার ৮৫পিস ইয়াবাসহ একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)।
গ্রেপ্তারকৃতের নাম-ইমরান হোসেন (৪২)। তার বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জের দাড়িপাতন গ্রামে। ইমরানের কাছ থেকে ইয়াবা ছাড়াও মাদক পাচারের কাজে ব্যবহৃত জীপ গাড়ি ও ৭ হাজার ২০০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে জব্দ করা ইয়াবার এটি অন্যতম বড় চালান বলে জানিয়েছে এটিইউ।
সরকারঘোষিত মাদক ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স পলিসি’র অংশ হিসেবে এটিরইউ’র পুলিশ সুপার (ইন্টেলিজেন্স) এস এম হাসানুল জাহিদের নেতৃত্বে একটি দল শুক্রবার রাতে এই অভিযান চালায়। নীলফামারী সদর থানা পুলিশ অভিযানে সহায়তা করে।
পুলিশ সুপার এস এম হাসানুল জাহিদ বলেন, উত্তরাঞ্চলের যুব সমাজে ইয়াবা সেবন ও ধ্বংসের পিছনে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বলে গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায়। এটিইউ চক্রটিকে শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে। এরই প্রেক্ষিতে টেকনাফ থেকে উত্তরাঞ্চলে মাদক পাচারকারী এই চক্রটির কার্যক্রম ধরা পরে।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ইমরান গত ২১ ডিসেম্বর টেকনাফের সাবরাং এলাকার জুবায়ের জুয়েলের (৩০) কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করতে যান। জোবায়ের সাবরাং এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা হয়ে নীলফামারীসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় তার ইয়াবা পাচারের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে।
বগুড়া সদরের ফুলবাড়ি এলাকার মো. বিপুল (৩৬) ও নীলফামারীর সুজন (৩৫) ও তাদের সহযোগীরা বগুড়াসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ইয়াবা পাচারের সাথে যুক্ত। তাদের নির্দেশে গ্রেপ্তার ইমরান ইয়াবার চালান কক্সবাজারের জুবায়ের জুয়েলের কাছ থেকে এনে তাদের সরবরাহ করতো।
জব্দ ইয়াবার চালানটি নিয়ে ইমরান শুক্রবার কক্সবাজার থেকে রওনা করে। মাদক ব্যবসায়ী জুবায়ের অভিনব কায়দায় গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডারের ভিতরে ইয়াবা প্যাকেট করে দেন। এভাবে ইতোপূর্বেও বেশ কয়েকটি ইয়াবা চালান টেকনাফ-চট্টগ্রাম-গাজীপুর-সিরাজগঞ্জ হয়ে বগুড়া ও নীলফামারীতে সুজন ও বিপুলের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন ইমরান।
এস এম হাসানুল জাহিদ বলেন, জুবায়ের, সুজন, বিপুল ও গ্রেপ্তার ইমরান ও তাদের অন্যান্য কয়েকজনের সহযোগীতায় দীর্ঘদিন ধরে একইভাবে টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে নীলফামারী, বগুড়া ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় পাচার করা হচ্ছিলো।
কক্সবাজারের টেকনাফের সাবরাং এলাকার জুবায়ের, বগুড়ার ফুলবাড়ি এলাকার বিপুল ও নীলফামারীর সুজন এরা প্রত্যেকেই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং একাধিক মাদক মামলার আসামী।
গ্রেপ্তার ইমরান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নীলফামারী সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।