কলমাকান্দা সরকারি কলেজে পুনঃভর্তির নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Wednesday, 23 December, 2020, 6:43 PM
কলমাকান্দা সরকারি কলেজে পুনঃভর্তির নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ
নেত্রকোনার কলমাকান্দা সরকারি কলেজে পুনঃভর্তির নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
করোনা পরিস্থিতিতে অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের ভর্তির টাকা জোগাড় করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, গত ১৮ নভেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
এতে উল্লেখ রয়েছে, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিফিন, পুনঃভর্তি, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার, ম্যাগাজিন, উন্নয়নের নামে কোন অর্থ আদায় করা যাবে না। কিন্তু সরকারের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে কলমাকান্দা সরকারি কলেজ থেকে নভেম্বরের ২০ ও ২১ তারিখ পুনঃভর্তির কথা শিক্ষার্থীদের জানানো হয়। পুনঃভর্তির জন্য টাকা নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৫৫০ টাকা।
পরে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিলে তা অনিবার্য কারণ দেখিয়ে গত ১৯ নভেম্বর পুনঃভর্তির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এর একমাস যেতে না যেতেই নতুন করে আবারও পুনঃভর্তির নামে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১ হাজার ৪০০ ও ব্যবস্থাপনা ফি বাবদ ১০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ১৪ নভেম্বর একাদশ-দ্বাদশ, ডিগ্রী পাস কোর্সের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে রশিদ ছাড়া এসাইনমেন্ট বাবদ ১০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানান, আমার বাবা একজন দিনমজুর। করোনা পরিস্থিতিতে খেয়ে না খেয়ে অতিকষ্টে দিনযাপন করছি। এরমধ্যে নতুন করে আবার কলেজে পুনঃভর্তির টাকা দেয়া আমাদের জন্য কষ্টসাধ্য।
অভিভাবক আবুল বাসার জানান, কলমাকান্দা সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণির ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় বর্ষে পুনঃভর্তি ও ডিগ্রি পাস কোর্স প্রথম বর্ষের ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় বর্ষে পুনঃভর্তির নামে অর্থ আদায়ের বিষয়টি সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করার শামিল।
এ ব্যাপারে কলমাকান্দা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সুকুমার চন্দ্র বণিকের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমরা সরকারি নির্দেশনার বাইরে কোনো টাকা নিচ্ছি না। আমরা নিচ্ছি অত্যাবশকীয় বেতন। নিয়মের মধ্যে থেকে যেটা নেয়া যাবে সেটাই নিয়েছি।
তবে আলাদা ১০০ টাকা নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন ৫০ টাকা নেয়ার নির্দেশ রয়েছে সেখানে ১০০ টাকা নিচ্ছি আমাদের এখানে যারা কাজ করেন তাদের জন্য একটা খরচ। তবে টিফিন ফি ও স্কাউট ফিসহ ৭টি ফির জন্য মন্ত্রণালয়ের নিষেধ থাকায় আমরা তা নিচ্ছি না।
কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সোহেল রানার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, নিউজ করে দেন এমন কিছু হলে।
এ ব্যাপারে প্রশাসনিক ভাবে কি ব্যবস্থা নেবেন জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার কাছে পরিপত্রটি নেই। আমাদের কাছে অভিযোগ আসলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।