ভূমি থেকে শ চারেক কিলোমিটার ওপর দিয়ে পৃথিবীকে বন বন করে ঘুরতে থাকা আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে (আইএসএস) দুজন নভোচারী পাঠিয়েছে নাসা। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটির জন্য এ নতুন কিছু নয়। কিন্তু নতুন এবং ঐতিহাসিক দুটো কারণে : এক. এবারই প্রথম কোনো বেসরকারি রকেটে নভোচারীরা মহাকাশ কেন্দ্রে উড়লেন, দুই. ৯ বছর পর আবার দেশটির মাটি থেকে ওই কেন্দ্রের উদ্দেশে কোনো নভোযান উড়ানো হলো।
করোনা ভাইরাসের প্রকোপে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হয়েও এমন সংকটকালে নভোচারী পাঠানোর ব্যাপারে দৃঢ়সংকল্পের কথা গত মার্চেই আমাদের সময়কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন নাসার মনুষ্য মহাকাশ অভিযানের মুখপাত্র স্টিফানি শিয়ারহজ। ডেমো-২ নামের এ অভিযানে আইএসএসে যাওয়া দুই নভোচারী হলেন বব বেনকান এবং ডগ হারলি। শনিবার ফ্লোরিডার কেনেডি মহাশূন্য কেন্দ্র থেকে তারা উড়ে যান।
এলন মাস্কের স্পেসএক্স কোম্পানির ফ্যালকন-৯ রকেটে করে শনিবার তাদের ড্রাগন যানটিকে উৎক্ষেপণ করা হয়। অবশ্য বব ও হারলি এই যানের নাম রেখেছেন ‘ক্যাপসুল এনডেভার’। এই দুই নভোচারী স্পেশ শাটলের যুগে একসঙ্গে এনডেভারে চড়ে আইএসএসে গিয়েছিলেন।
২০১১ সালে স্পেস শাটল বন্ধ করে দেয় নাসা। এরপর থেকে রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থার ওপর ভরসা করে আসছে নাসা। সয়ুজ নভোযানে একজন নভোচারীর জন্য অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রকে গুনতে হয় সাড়ে আট কোটি ডলার। দ্য গার্ডিয়ানের বিজ্ঞান বিভাগ বলছে, এখন হয়তো সেই চিত্র বদলাতে যাচ্ছে।
নাসার বিজ্ঞানীরা এই অভিযানকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স রকেট উৎক্ষেপণ দেখতে গিয়েছিলেন। গতকালই দুই নভোচারীর আইএসএসে পৌঁছে যাওয়ার কথা।
নাসা থেকে স্টিফানি শিয়ারহজ এই লেখককে বলেছিলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে কেন্দ্রীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধকেন্দ্রের দেওয়া সুপারিশগুলো সেই মার্চ থেকেই অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেন বব ও হারলি। তাদের সঙ্গে খুবই কম সংখ্যক কর্মীকে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়েছিল এ সময়টা।
এদিকে এলন মাস্ক জানিয়েছেন, তার মহাকাশযান যখন নভোচারীদের নিয়ে কক্ষপথে প্রবেশ করে তখন তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন।