ডায়াবিটিস বশে না থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। ফলে যে কোনও সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে যায়। বাড়ে কোভিডের আশঙ্কাও।
ডায়াবেটিকদের বেলায় কোভিড-১৯-এর ছোবল অন্যদের তুলনায় বেশি মারাত্মক বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। তাই বাঁচার উপায় বলতে, রসনায় তালা ঝুলিয়ে, আরাম-বিরামে ক্ষান্তি দিয়ে রোগটাকে বশে রাখার চেষ্টা করা উচিত। না হলে হার্ট থেকে শুরু করে কিডনি, চোখ, ত্বক, শিরা-ধমনী, সবার যেমন স্বাস্থ্য খারাপ হবে, বাড়বে সংক্রমণের আশঙ্কাও।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমীক্ষা অনুযায়ী, এই মুহূর্তে ভারতে ডায়াবিটিসে ভুগছেন প্রায় ৬ কোটি ৯০ লক্ষ মানুষ। একক দেশ হিসেবে সারা পৃথিবীতে ভারতেই ডায়াবিটিস সবচেয়ে বেশি। মহামারির মতো সে বাড়ছে নিঃশব্দে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ২০১৯ সালে সারা পৃথিবীতে ২৩ কোটি ২০ লক্ষ ডায়াবেটিক রয়েছেন। সেই হিসেবে যত্নের মান না বাড়লে ২০৩০-এ এই সংখ্যাটা হবে, ৩৬ কোটি ৬০ লক্ষ। সেখানেও ভারতে বৃদ্ধির হার সবচয়ে বেশি। তাই কোভিড-১৯ নিয়েও চিন্তাও আমাদের বেশি।
কেন এমন?
এন্ডোক্রিনোলজিস্ট সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের মতে, “ডায়াবিটিস বশে না থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। ফলে যে কোনও সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে যায়। বাড়ে কোভিডের আশঙ্কাও। ডায়াবেটিক কিটো অ্যাসিডোসিস বা ‘ডিকেএ’ নামের সমস্যা হলে কোভিডের দরুণ যে সব জটিল পরিস্থিতি হচ্ছে তা সামলানো খুব কঠিন হয়ে যায়। ডায়াবিটিসের ক্ষেত্রে একটা নতুন ওষুধ বাজারে এসেছে, সেই ওষুধে রক্তে শর্করার ভাগ স্বাভাবিক থেকে যায় বলে ‘ডিকেএ’ হলেও অনেক সময় তা চিকিৎসক বুঝতে পারেন না। কাজেই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ামাত্র ডায়াবিটিসের জন্য কী কী ওষুধ খাচ্ছেন তা চিকিৎসকদের জানিয়ে রাখুন।’’