ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩
ঘুম ভাঙার পরই স্ক্রিনে চোখ, কী প্রভাব পড়ে মনের উপর?
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Wednesday, 29 April, 2026, 5:45 PM

ঘুম ভাঙার পরই স্ক্রিনে চোখ, কী প্রভাব পড়ে মনের উপর?

ঘুম ভাঙার পরই স্ক্রিনে চোখ, কী প্রভাব পড়ে মনের উপর?

একটা সময় সকাল মানেই ছিল ধীর, স্থির এক শুরু—যেখানে দিনের প্রথম কয়েকটা মুহূর্ত থাকত সম্পূর্ণ নিজের জন্য। জানালার আলো, এক কাপ চা, কিংবা নিঃশব্দে নিজের চিন্তাগুলিকে গুছিয়ে নেওয়ার সময়। কিন্তু ডিজিটাল যুগে সেই অভ্যাস দ্রুত বদলেছে। এখন অনেকের দিন শুরু হয় অ্যালার্ম বন্ধ করার পরই ফোনের স্ক্রিনে চোখ রেখে। নোটিফিকেশন, ইমেল, খবর—সব মিলিয়ে ঘুম ভাঙার কয়েক মিনিটের মধ্যেই মস্তিষ্ক ঢুকে পড়ে তথ্যের চাপে।

এই প্রবণতাকে অনেকেই “6 AM phone rule” নামে চিহ্নিত করেন। যদিও এটি কোনও আনুষ্ঠানিক নিয়ম নয়, তবুও আধুনিক জীবনের এক অঘোষিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সাংবাদিক, চিকিৎসক বা জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে সকালে ফোন দেখা অনেক সময় প্রয়োজনীয়ও। কিন্তু অভ্যাস আর প্রয়োজনের সীমারেখা সবসময় স্পষ্ট থাকে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুম থেকে ওঠার পরের সময়টুকু মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই সময়েই আমাদের ব্রেন ধীরে ধীরে সক্রিয় হয় এবং দিনের মানসিক ছন্দ তৈরি করে। কিন্তু ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই ফোন স্ক্রলিং শুরু করলে সেই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। মস্তিষ্ক তখন নিজের ভাবনার জায়গা না পেয়ে বাইরের তথ্যের প্রতি দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করে। ফলে দিনটি শুরু হয় এক ধরনের তাড়াহুড়ো ও চাপের মধ্যে।

এই পরিবর্তনের প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা না গেলেও ধীরে ধীরে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অনেকেই জানান, সকালে ফোন না দেখলে অস্বস্তি লাগে—যেন কিছু মিস হয়ে যাচ্ছে। এই “ফিয়ার অফ মিসিং আউট” অনুভূতি মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। সময়ের সঙ্গে এর ফল হিসেবে দেখা দিতে পারে মনোযোগ কমে যাওয়া, অকারণ বিরক্তি, মানসিক ক্লান্তি এবং উদ্বেগ। এমনকি ঘুমের মানও খারাপ হতে পারে, কারণ মস্তিষ্ককে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম থেকে বঞ্চিত করা হয়।

তবে এই বিষয়ে একপাক্ষিক মত নেই। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, সকালে ফোন ব্যবহার করলে অনেকেই নিজেদের বেশি সংগঠিত ও প্রস্তুত মনে করেন। দিনের কাজের তালিকা, ক্যালেন্ডার, বা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেখে নেওয়া থাকলে সময় ব্যবস্থাপনা সহজ হয়। বিশেষ করে যাঁদের কাজ দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের জন্য এটি কার্যকর হতে পারে।

তবুও অধিকাংশ ডিজিটাল ওয়েলনেস বিশেষজ্ঞ একটি ভারসাম্যের কথা বলেন। তাঁদের পরামর্শ—ঘুম থেকে ওঠার পর অন্তত ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা ফোন ব্যবহার না করা। এই সময়টুকু নিজের শরীর ও মনের জন্য বরাদ্দ রাখা উচিত। হালকা ব্যায়াম, ধ্যান, কিংবা দিনের পরিকল্পনা—এসব অভ্যাস মস্তিষ্ককে স্বাভাবিকভাবে জেগে উঠতে সাহায্য করে এবং মনকে স্থির রাখে।

সকালের প্রথম মুহূর্তগুলো যদি নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে পুরো দিনটাই ভিন্নভাবে কাটতে পারে। ফোন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও, তার ব্যবহার কখন এবং কীভাবে করা হচ্ছে—সেই সিদ্ধান্তটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ছোট একটি পরিবর্তন, যেমন ঘুম থেকে উঠেই ফোন না দেখা, দীর্ঘমেয়াদে মানসিক স্বাস্থ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status