ছোট্ট দুই ভাই-বোন। তাদের চোখে-মুখে কান্নার আভাস। বাবার আদর আর বেকা খে-মুকে কোনোদিন পাবে না বিষয়টি তারা নিশ্চিত হয়ে গেছে। বাবা বদর খন্দকারকে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। তাই বাবার হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধনে এলাকাবাসীর সঙ্গে তারাও রাজপথে নেমেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ৯৫ নম্বর টিচর-কালনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন করে এলাকাবাসী। নিহত বদর একই ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ নেতা মো. আনোয়ার হোসেন, নিহতের ভাই বাবর খন্দকার, মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা, নিহতের স্ত্রী নাজনীন বেগম প্রমুখ।
বাবর খন্দকার জানান, ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় কালনা ঘাট এলাকায় নিজ ইটভাটা থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান বদর। পথে ৯৫ নম্বর টিচর-কালনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে একদল সন্ত্রাসী তার মোটরসাইকেল গতিরোধ করে। এ সময় তাদের হাতে থাকা রামদা, ছ্যান দাসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকেন। পরে তার চিৎকারে স্থানীয়রা ও পথচারীরা এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যান।
তিনি আরো জানান, বদর খন্দকারের ডান হাতের কবজি ও দুই পা বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। এছাড়া ধারালো অস্ত্রের কোপে বাম হাতের তিনটি আঙুল পড়ে যায়। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখান থেকে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপালে নেয়ার পথে মৃত্যু হয়।
এদিকে ঘটনার পরদিন ওই ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান শিকদার নজরুল ইসলাম, স্থানীয় প্রভাবশালী ফরিদ শেখ, আব্দুল্লাহ আল আজাদ সুজনসহ ১৬ জন ও অজ্ঞাত আরো তিন-চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন নিহতের স্ত্রী নাজনীন বেগম।
প্রধান আসামি বর্তমান চেয়ারম্যান শিকদার নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার না করায় এলাকাবাসী এ মানববন্ধন করে। এছাড়া বর্তমান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানান নিহতের ভাই বাবর।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিল্টন কুমার দেবদাস জানান, এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন মো. মতিউর রহমান ওরফে মুন্না মোল্যা, রুহল আমিন, রফিক মোল্যা, মো. আলী মিয়া মোল্যা, বাবু মোল্যা। এর মধ্যে মুন্না এজাহারভুক্ত আসামি।