|
৭ হাসপাতাল ঘুরেও হামে আক্রান্ত সাজিদকে বাঁচানো গেল না
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() ৭ হাসপাতাল ঘুরেও হামে আক্রান্ত সাজিদকে বাঁচানো গেল না তিন কন্যা সন্তানের পর ছেলে হওয়ায় পরিবারে আনন্দের সীমা ছিল না। তার নাম রাখা হয় সাজিদ আল নাহিয়ান। কিন্তু হাম কেড়ে নিয়েছে সাজিদের জীবন। বাবা-মা কুমিল্লা, ফেনী, ঢাকায় মিলিয়ে সাতটি হাসপাতালে দৌড়েছেন ছেলেকে সুস্থ করে তুলতে। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে রোববার সকালে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে মারা গেছে সাজিদ। পারভেজ আহমেদ সুমন ও সুলতানা আক্তার দম্পতির বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মুন্সিরহাটের সিংরাইশ গ্রামে। স্বজনরা বলেন, ১৪ এপ্রিল সাজিদ জ্বর, সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয়। তখন চৌদ্দগ্রাম বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেন তারা। চিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক দিলে সাজিদ কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু আবারও জ্বর, সর্দি-কাশি দেখা দেয় সাজিদের। অবস্থা খারাপ হলে তাকে ১২ মে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুদিন চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে ফেনীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় সাজিদকে ঢাকা শিশু হাসপাতাল, ঢাকা ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার হসপিটাল এবং সবশেষ তেজগাঁও ইনপালস্ হসপিটালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সাজিদ হামে আক্রান্ত হয়েছে চিকিৎসক জানান। দিন দিন অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু সেখান থেকে সাজিদ আর বাবা-মায়ের কোলে ফেরেনি। সাজিদের বাবা পারভেজ আহমেদ সুমন শুধু আফসোস করে কাঁদছিলেন, সাতটা হাসপাতালে নিয়েও আমি আমার মানিক, বুকের ধনকে হামের হাত থেকে বাঁচাতে পারলাম না। চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রশিদ আহমেদ তোফায়েল বলেন, সাজিদ হামের উপসর্গ নিয়ে এখানে ভর্তি হয়। অবস্থার অবনতি হলে আমরা পরিবারকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেই। শুনেছি আজ সকালে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গিয়েছে।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
