ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ১৬ মে ২০২৬ ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
এসি দেখে রেকি, দু-তিন দিন লাইট না জ্বললেই টার্গেট
রাজধানীতে দুই ভাইয়ের নেতৃত্বে চলছে চোর সিন্ডিকেট
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Saturday, 16 May, 2026, 8:23 PM

রাজধানীতে দুই ভাইয়ের নেতৃত্বে চলছে চোর সিন্ডিকেট

রাজধানীতে দুই ভাইয়ের নেতৃত্বে চলছে চোর সিন্ডিকেট

চাচা-ভাজিতা মিলে গড়ে তোলা হয়েছে ভয়ংকর এক চোর সিন্ডিকেট। যার নেতৃত্বে দুই ভাই হলেও তাদের অধীনে রয়েছে ১০/১২ জনের এক ভয়ঙ্কর দল।  যাদের টার্গেট রাজধানীর বিভিন্ন বাসা-বাড়ি। এই দলের সদস্যরা প্রথমত, কোন বাড়িতে এসি আছে তা দেখে রেকি শুরু করে, দু-তিন দিন লাইট না জ্বললেই সেই বাসা-বাড়িকে করা হয় টার্গেট এরপর সময় সুযোগ মত বড় ধরণের চুরি সংগঠিত করা। এভাবে রাজধানীতে একের পর এক চুরি করে আসছে এই দল। চুরি টাকা ভাগবাঁটোয়ারা করে তার মিলে মেতে উঠেন অনলাইন ক্যাসিনো জুয়া খেলায়। গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার সুমন মিয়া, তার ভাতিজা জুয়েল আরো জানান, এ দলের মূল হোতা পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার উত্তর হাগলা গ্রামের রফিক কবিরাজের দুই ছেলে রবিউল শরীফ ও আরিফ শরীফ।  

গোয়েন্দা পুলিশের সূত্র আরো জানায়, পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার উত্তর হাগলা গ্রামের কাজল হাওলাদারের ছেলে মো. সুমন হাওলাদার। একই গ্রামের মৃত হাসেম হাওলাদারের ছেলে জুয়েল হাওলাদার। সম্পর্কে তারা চাচা-ভাতিজা। অন্য দিকে, রবিউল শরীফ ও আরিফ শরীফ গ্রামের বাড়ি একই স্থানে। এই গ্রুপই অনলাইন জুয়া ক্যাসিনো খেলার নেশা। শুরুতে জমানো টাকা ও গ্রামের বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ধার নিয়ে অনলাইন জুয়া খেলতেন। একপর্যায়ে শুরু করেন সুদে টাকা নেওয়া। কিন্তু লাভের বদলে নিঃস্ব হয়ে যান। এরপর রবিউল শরীফ ও আরিফ শরীফ মাথায় আসে চোরচক্র গড়ে তোলার কথা। এরপর তারা সুমন হাওলাদারের জুয়েলকে নিয়ে গড়ে তোলে চোর চক্র। সেই শুরু তাদের কার্যক্রম। 

জুয়ার টাকা ফুরিয়ে গেলে আবারও নামতেন নতুন কোনো বাসায় চুরির মিশনে। শুধু এ চক্রই নয়, অনলাইন জুয়ার নেশায় পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে চুরিতে নাম লেখাচ্ছেন অনেকেই। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার অনেক চোরই অনলাইনে ক্যাসিনো খেলার আসক্তিতে চুরিতে জড়ানোর কথা স্বীকার করেছেন। সেলুনকর্মী থেকে হকার, দোকানি, মাছ বিক্রেতা, বাস ও লেগুনার চালক; গৃহকর্মী থেকে বাড়ির কেয়ারটেকার সবাই এখন জুয়ার গ্রাহক। পুলিশের সংশি¬ষ্ট ইউনিটগুলোর নজরদারি ঠেকাতে পারছে না জুয়ার এ আসক্তি।

গোয়েন্দা সূত্র জানান, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার একটি চুরি মামলার তদন্তে নেমে সুমন মিয়া, তার ভাতিজা জুয়েল এবং দুই স্বর্ণ ব্যবসায়ী সাব্বির হোসেন ও সুমন গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ চক্রে যশোরের অভয়নগর উপজেলার মওদুদ ও পিরোজপুরের কাউখালীর মানিক বাসা রেকির দায়িত্ব পালন করতেন। তারা দুজন এখনো পলাতক। তাদেরও রয়েছে অনলাইন জুয়ার আসক্তি। তাদের মধ্যে চক্রের হোতা সুমন ৪ মার্চ কদমতলীর মেরাজনগর থেকে গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত গত বছরের ডিসেম্বর থেকে মাত্র তিন মাসে অনলাইন ক্যাসিনো খেলে ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা খুইয়েছেন সুমন। 

একটি বেসরকারি ব্যাংকে তার অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্টেই এ টাকা খোয়ানোর বিষয়টি দেখা গেছে। তদন্ত সংশি¬ষ্ট সূত্র জানান, সুমন ও জুয়েল গ্রামের বাড়িতে প্রভাব দেখানোর চেষ্টা করতেন। সেখানকার কয়েকজন জনপ্রতিনিধি তাদের চুরির গল্প জেনে যাওয়ায় নিয়মিত ওইসব জনপ্রতিনিধিকে টাকা দিতেন তারা। এমনকি গ্রামে গেলে মানুষকে দুই হাতে দান করতেন। তারা চুরি ও জুয়ার  টাকায় গড়ে তুলেছেন আলিসান গাড়ি বাড়ি। একসময় তারা ফ্যাসিসদের দোসর থাকলেও সম্প্রতি তারা জামায়েত ইসলামের রাজনীতির সাথে জড়িত বলে দাবি করে। প্রভাব প্রতিপত্তি খাটায়।

বাসায় এসি ও লাইট বন্ধ দেখলে টার্গেট : রাজধানীর ডেমরা কোনাপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন চক্রের হোতা সুমন। আর যাত্রাবাড়ীর একটি বাসায় থাকতেন ওয়ার্কশপের কাজে দক্ষ জুয়েল। তাদের সহযোগী মওদুদ ও মানিক প্রতিদিন সন্ধ্যার দিকে বাসা রেকি করতে বের হতেন। প্রথমে দেখতেন কোন বাসায় এসি এবং সন্ধ্যার পর থেকে লাইট বন্ধ। কোনো এসি লাগানো বাসা দু-তিন দিন লাইট বন্ধ থাকলেই তারা ধরে নিতেন ওই বাসার বাসিন্দারা অন্য কোথাও গিয়েছেন। এর পরই শুরু হতো গ্রিল কেটে চুরির পরিকল্পনা। এভাবে চক্রটি আরও বেশ কয়েকটি ঘটনায় জড়িত বলে ধারণা করছে ডিবি। 

তবে যাত্রাবাড়ীর ঘটনা ছাড়া সুমনের বিরুদ্ধে একটি ও জুয়েলের বিরুদ্ধে দুটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। যাত্রাবাড়ীতে চুরির টাকাও অনলাইন জুয়ায় : তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, যাত্রাবাড়ীর বাসাটি থেকে ১ কোটি ১০ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ও নগদ ৪৫ লাখ টাকা চুরির পর নিজেদের ভাগের টাকা অনলাইন জুয়ায় খুইয়ে ফেলে চোরচক্র। ডায়মন্ড ও স্বর্ণালংকার বিক্রির পর ভাগবাঁটোয়ারা করে সুমন নেন ৬৫ লাখ, জুয়েল ৪০ লাখ ও অন্য দুই সহযোগী নেন ৩০ লাখ টাকা। কিন্তু সুমন ও জুয়েলের কাছে পাওয়া যায়নি কোনো টাকা। তারা যে ব্যবসায়ীদের কাছে অলংকার বিক্রি করেছিলেন, সেই দুই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৪১ ভরি সোনা।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status