সিনেমা জগতে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন অনেক নায়িকা। প্রথম থেকেই মডেলিং জগত হোক কিংবা অভিনয় জগত, বিভিন্ন সময় মেয়েদের সমস্যার সন্মুখীন হতে হয়েছে। অশ্লীল প্রস্তাব থেকে শুরু করে কটুক্তি, পরিস্থিতির চাপে পড়ে মুখ বন্ধই রেখেছিলেন অনেকে। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে কেউ এ নিয়ে মুখ খুলতে সাহস পাননি।
শেষপর্যন্ত মুখ খুলতে শুরু করেন অভিনেত্রীরা। হলিউড থেকে বলিউড সব জায়গায় চলে প্রতিবাদ। ভারতে মিটু মুভমেন্টের পর প্রায় কেটে গেছে দু বছর। এই সুদীর্ঘ সময়ে সত্যি কী বদলেছে বলিউড?
এই সময়ে কিছুটা বদল এসেছে বলিউডে। তেমনটিই মনে করছেন এক সময়ের জনপ্রিয় তারকা কাজল।
বললেন, ভারতে ‘মিটু’ মুভমেন্টের আগে যেমন অবস্থা ছিল, পরের অবস্থা অনেক আলাদা। তিনি বলেন, এখন ফিল্মের সেটে নারীদের সঙ্গে আচরণে অনেকটা পরিবর্তন এসেছে। এখন পুরুষরা নিজেদের ব্যবহার সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন এবং খারাপ কিছু করলে সেই ঘটনার ফল যে ভালো হবে না সেটা ভালোভাবেই জানা হয়ে গিয়েছে তাদের। হলিউডে শুরু হওয়া মিটু আন্দোলনের ঝড় ভারতে শুরু হয় ২০১৮ সালে। এম জে আকবর, অলোক নাথ, সাজিদ খান, বিকাশ বহেল, নানা পাটেকর, রজত কাপুরের মতো ফিল্মি দুনিয়ার পরিচিত নামেরা অভিযুক্ত হন এই ঘটনায়।
এদিন কাজল জানান, 'হ্যাঁ, এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে। আর সেটা শুধু ফিল্মের সেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সত্যি কথা বলতে, আজকে যদি তুমি যে কোনও পুরুষকে জিজ্ঞেস কর, মিটু মুভেমেন্টের জেরে যা ঘটেছে তার ফলস্বরূপ- তারা সকলেই স্বীকার করে নেবে, প্রত্যেকটা পুরুষ-যে ভাল বা খারাপ নির্বিশেষে সাত পা পিছিয়ে গেছে।
এই পরিবর্তনটা খুব জরুরি ছিল বলেই মনে করেন কাজল। এখন যা কিছু করা হয় সেটা অনেক ভেবেচিন্তে করা হয়-প্রত্যেকটা পদক্ষেপ নেওয়া হয় বুঝেশুনে। ভালো-খারাপটা বিচার্য নয় তবে ফিল্মের সেটে হোক বা অফিসে সর্বত্রই দৈনিক অনেক বেশি খেয়াল রাখা হচ্ছে প্রত্যেকের গতিবিধি সম্পর্কে।
বলিউডে প্রথম যৌন হেনস্তার অভিযোগ ওঠে নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে। অভিযোগ তোলেন তনুশ্রী দত্ত।
এরপর একে একে অলোক নাথ, বিকাশ বহেল, রজত কাপুর, সাজিদ খান, এম জে আকবরের বিরুদ্ধেও যৌন হেনস্তার অভিযোগ উঠতে থাকে। তনুশ্রী দত্তের পর অনেক অভিনেত্রী, চিত্রনাট্যকার অভিযোগ তোলেন তাদের সঙ্গেও অশালীন ব্যবহার করা হয়েছে। বলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতও জানান, ‘কুইন’ ছবির সময় বিকাশ বহেল তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। ওই ছবির এক জুনিয়র আর্টিস্টও বিকাশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তবে এই আন্দোলনের ফল যে সুদূরপ্রসারী, তা এখনও বুঝতে পারছেন সিনে দুনিয়ার সঙ্গে জড়িত নারীরা। সেই কথাই বলেন কাজল।