ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ৫ জুন ২০২৬ ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
আগে সিনেমার মানুষ তারপর ব্যবসায়ী বা নেতা
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Monday, 28 October, 2019, 4:26 PM

আগে সিনেমার মানুষ তারপর ব্যবসায়ী বা নেতা

আগে সিনেমার মানুষ তারপর ব্যবসায়ী বা নেতা

একেকবার একেকটা ঘটনা সামনে আসে সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সবাই বুক বাঁধে সিনেমার দিন ফিরবে। কিন্তু ঘটনা ঘটে গেলেও তার কোথাও কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। প্রত্যাশা ছিলো মিয়াভাই খ্যাত নায়ক ফারুক এমপি হলে সিনেমার পালে বসন্তের হাওয়া লাগবে।

‘মিয়াভাই’ তার বক্তব্যে বলতেন, ‘আমি আগে সিনেমার মানুষ তারপর ব্যবসায়ী বা নেতা।’ তার আবেগকে সমর্থন দিয়ে সিনেমার মানুষেরা এক হয়ে ফারুকের জন্য শ্রম দিলেন। তার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিলেন। তিনি পাশ করে সংসদেও গেলেন। সেখানে গিয়ে বললেন, আগে তিনি এলাকার মানুষের নেতা, এরপর সিনেমার ফারুক।

চলচ্চিত্রের অভিভাবক সংগঠন প্রযোজক সমিতির নির্বাচন হয় না কয়েক বছর। অবশেষে যখন সব ঝামেলা মিটিয়ে নির্বাচনের ঘোষণা এলো সবাই নড়েচড়ে বসলো প্রযোজকদের নতুন কমিটি হাল ধরবে চলচ্চিত্রের।

কিন্তু বাস্তবতা বলছে হতাশার কথাই। প্রযোজক সমিতির নতুন কমিটি দায়িত্ব নেয়ার কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়নি। সিনেমার ঘোষণা না দিয়ে প্রযোজকরা আলোচনায় থাকছেন নানা রকম মিটিং, অনুষ্ঠান আর নিয়ম-নীতি প্রণয়ন করে।

সদ্য শেষ হওয়া শিল্পী সমিতি নিয়ে তো কিছু আশা করাই বোকামো। কারণ, সিনেমা বাঁচানো বা সিনেমা বানোনার দায়িত্ব এই সমিতির নয়। তার উপর নানা অভিযোগ-অনিয়মে আক্রান্ত এই সমিতিটি। শিল্পীদের স্বার্থের চেয়ে এখানে নেতাদের ব্যক্তি স্বার্থই মুখ্য হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ অনেক সিনিয়র তারকাদের।

এর বাইরে ঢাকাই সিনেমার বর্তমান সময়ের সবেধন নীলমনি নায়ক শাকিব খানও নিজেকে নিয়ে দিন পার করছেন। তার মনযোগ বা ভাবনা তার ক্যারিয়ারকে কেন্দ্র করেই। ইন্ডাস্ট্রি চাঙ্গা করতে যে একটা সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন সেটা হয়তো তিনি উপলব্দি করেন না। বা করলেও ‘একক দায়ের কী ঠেকা পড়েছে’ ভাবনা থেকে হয়তো অন্য নায়ক বা তারকাদের উপর ইনভেস্ট করেন না তিনি।

কিন্তু পাশের দেশ ভারতের কলকাতা থেকে শুরু করে তামিল-তেলেগু ও বলিউড সিনেমায় চিত্রটা বেশ সুন্দর। অনেক নামি দামি তারকারা নিজের বাইরে গিয়ে সিনিয়র-জুনিয়র তারকাদের জন্য প্রযোজনা করছেন। সিনেমার চাকা সচল রাখছেন। আমাদের শাকিব খান একটু কৌশলী হলে, সার্বজনীন হলে একটা ইতিবাচক ফলাফল হয়তো পাওয়া যেত।

চাইলেই যে শাকিব নিজের ব্র্যান্ড ভ্যালুকে কাজে লাগিয়ে ইন্ডাস্ট্রির বড়ভাই হয়ে, ত্রাতা হয়ে সিনেমায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে সবাইকে নিয়ে কাজে মশগুল হতে পারতেন সেই তিনি গুটিয়ে রেখেছেন নিজেকে নিজের জন্যই। কিছু শখের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আসছে তাকে কেন্দ্র করে। তার তেল মাথাতে তেল দিয়ে আলোচনার মিছিলে রঙিন হয়ে সেসব প্রতিষ্ঠান হারিয়েও যাচ্ছে অকালে।

কবরী, সুচন্দা, ববিতা, ইলিয়াস কাঞ্চন, মৌসুমী, রিয়াজ, ফেরদৌস, পূর্ণিমারা অনেকদিন ধরেই চলচ্চিত্রে রয়েছেন। তাদের অনেকেই অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাও করে সফল হয়েছেন। কিন্তু এখন সিনেমার যখন দুর্দিন তা কাটিয়ে উঠতে কেউ সিনেমায় লগ্নি করছেন না। ইন্ডাস্ট্রির করুণ অবস্থার দোহাই দিয়ে কেউই প্রযোজনায় আসতে সাহস করছেন না। বিশেষ করে তারা আতংকিত সিনেমা হল মালিকদের সিন্ডিকেট নিয়ে।

তাহলে সিনেমার হাল ধরবে কে? কীসের ওপর ভর কাটবে এই শনির দশা? উত্তর জানা নেই কারো, হয়তো!

একদিকে বন্ধ হতে হতে ২ শ’র নিচে নামতে চলেছে সিনেমা হল। অন্যদিকে সিনেমার নির্মাণও কমে গেছে আশংকাজনকভাবে। সারা বছরে মুক্তি পাচ্ছে না ৫০ টি ছবিও। গত বছর দেশীয় ছবি মুক্তি পায় ৩৫ টি, আমদানি করা ছবি ৯টি ও যৌথ প্রযোজনার ২টি। মোট ৪৬টি!

সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালটিও শুরু হয় হতাশা দিয়ে। পুরো ৪ জানুয়ারি মাসে মাত্র একটি ছবি মুক্তি পায় ‘আই অ্যাম রাজ’ নামে। মাত্র চার-পাঁচটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিলো ছবিটি। সম্মানের সাথে ফ্লপও হতে পারেনি এ ছবি। ছিলো না কোনোরকম আলোচনাও।

এরপর ৮ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পায় ‘আমার প্রেম আমার প্রিয়া’ ছবিটি। শামীমুল ইসলাম শামীম পরিচালিত ছবিটি কিছুটা প্রশংসা পেলেও ভালো প্রচারণার অভাবে লাভের মুখ দেখতে পায়নি কায়েস আরজু ও পরীমনি জুটি।

এরপর সর্বশেষ মুক্তি পাওয়া ‘ডনগিরি’সহ হলে এসেছে আর মাত্র ২৩টি ছবি। যার মধ্যে একটি যৌথ প্রযোজনার। অর্থাৎ, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে এসে ঢাকাই সিনেমার ঝুলিতে জমা পড়েছে মাত্র ২৫টি সিনেমা! যা শিল্প ঘোষিত হওয়া এই বাণিজ্য খাতের জন্য লজ্জার ও হতাশার।

এসব ছবির মধ্যে ব্যবসা করেছে এমন তালিকা করতে গেলে সেই লজ্জা ও হতাশা আরও বাড়বে। ‘পাসওয়ার্ড’ ছাড়া আর কোনো ছবিই টাকা তুলতে সফল হওয়ার তালিকায় নেই। তবে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়ে প্রশংসিত হয়েছে ‘যদি একদিন’, ‘নোলক’, ‘ফাগুন হাওয়ায়’, ‘আবার বসন্ত’, ‘মায়াবতী’, ‘সাপলুুডু’, ‘ডনগিরি’ ছবিগুলো।

বছর শেষে সিনেমার সংখ্যার শেষটা কতোতে গিয়ে ঠেকে সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে আপাতত হিসেব বলছে সবমিলিয়ে আর ৫-৭টি সিনেমাই যোগ দেবে ২০১৯ সালের মিছিলে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status