ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ১৭ আগস্ট ২০২৬ ২ ভাদ্র ১৪৩৩
টেলিফোনে বিয়ে, স্বামীর চেহারা আর দেখা হলো না নববধূর
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Monday, 30 September, 2019, 10:41 PM

টেলিফোনে বিয়ে, স্বামীর চেহারা আর দেখা হলো না নববধূর

টেলিফোনে বিয়ে, স্বামীর চেহারা আর দেখা হলো না নববধূর

বিয়ের বয়স হওয়ার আগেই তার বাবা-মা স্কুলছাত্রী বৃষ্টিকে ছয় মাস আগে গোলাম হোসেন নামের কাতার প্রবাসী এক যুবকের সঙ্গে টেলিফোনের মাধ্যমে বিয়ে দিয়েছিলেন।

মেয়েকে বাল্যবিয়ে দিয়ে বাবার কাঁধের বোঝা কমাতে চেয়েছিল তার পরিবার। কিন্তু সেই বৃষ্টি আক্তার চিরবিদায় নিয়ে পরিবারকে মুক্তি দিয়ে গেল। স্বামীর সঙ্গেও দেখা হল না তার।

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে স্বামীর সঙ্গে দেখা করার আগেই বৃষ্টি আক্তার (১৫) নামের এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

সোমবার দুপুরে বাবার বাড়ি রাজনগর এলাকায় বৃষ্টি আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে পুলিশ বিকালে লাশ উদ্ধার করে।

গৃহবধূর বাবার নাম মোমেন মিয়া ডাব গাছ পরিষ্কার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। স্বামী গোলাম হোসেন পাশের ইউনিয়নের আগানগর গ্রামের এলাচ মিয়ার ছেলে। তিনি কাতার প্রবাসী।

জানা গেছে, বৃষ্টি আক্তার এলাকার রাজনগর উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। তারা ৪ ভাই ও এক বোন। দরিদ্র পরিবার ও অভাবের সংসারে তার জন্ম।

সুন্দরী মেয়ে বড় হলে বাবার জন্য বোঝা- এই মনে করে বিয়ের বয়স হওয়ার আগেই তার বাবা ভালো পাত্র পেয়ে পাশের গ্রামের প্রবাসী যুবক গোলাম হোসেনের সঙ্গে গত ছয় মাস আগে টেলিফোনে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেন। কথা ছিল তিন বছর পর স্বামী বিদেশ থেকে দেশে এসে নববধূকে ঘরে তুলে নিবে।

এই বিয়েতে রাজি ছিল না বৃষ্টি। ইচ্ছা ছিল সে আরও লেখাপড়া করে একটি চাকরি করবে। তার পরও তার বাবা-মা অনেকটা জোর করেই তাকে বিয়ে দেন।

বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা হলেও এখনও দেখা হয়নি তার। অনেক সময় বিদেশ থেকে স্বামী ফোন করলে সে রিসিভ করত না। রোববার রাতে এই নিয়ে ফোনে স্বামীর সঙ্গে কথাকাটি হয়।

পরিবারেও চাপ ছিল স্বামীর সঙ্গে সব সময় ফোনে যোগাযোগ রাখতে। এ সব নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে অভিমান করে সোমবার দুপুরে তার নিজ রুমে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

এলাকাবাসী জানান, ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেয়ায় বৃষ্টি আত্মহত্যা করেছে। বৃষ্টির ভাই মো. তোফায়েল আহমেদ জানান, অভাবের সংসারে আমার বাবা ছোটবেলায় বোনকে বিয়ে দিয়ে সংসারের বোঝা কমাতে চেয়েছিলেন। আমরা গরিব হলেও বোনটিকে অনেক আদর করতাম। ফোন রিসিভ করা নিয়ে মাঝে মধ্যে সে স্বামীর সঙ্গে কথাকাটাকাটি করত।

তিনি বলেন, অনেক সময় স্কুলে থাকলে সে মোবাইল ধরতে পারত না। তবে এ ঘটনাটি নিয়ে সে আত্মহত্যা করবে ভাবতেও পারেনি। ঠিক কি কারণে বৃষ্টি আত্মহত্যা করল আমরা নিজেরাও বুঝতে পারছি না।

ভৈরব থানার এসআই আমজাদ হোসেন জানান, আত্মহত্যার খবর শুনে বিকালে পুলিশ তার লাশ থানায় নিয়ে আসে। স্বামীর বাড়ির লোকজন খবর পেয়ে তাকে দেখতে এসে ব্যথিত হয়েছে।

তিনি জানান, মঙ্গলবার সকালে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status