ই-পেপার সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ● ৮ নভেম্বর ২০২৬ ● ২৩ কার্তিক ১৪৩৩
আসুন প্রিয়দেশবাসী, আমরা প্রার্থনা করি, মাশরাফি যেন দৌড়াতে পারেন
মাজেদুল হক তানভীর
প্রকাশ: Friday, 31 May, 2019, 1:26 AM

আসুন প্রিয়দেশবাসী, আমরা প্রার্থনা করি, মাশরাফি যেন দৌড়াতে পারেন

আসুন প্রিয়দেশবাসী, আমরা প্রার্থনা করি, মাশরাফি যেন দৌড়াতে পারেন

সম্প্রতি বাংলাদেশের এক সরকারি চিকিৎসক নিজের দায়িত্ব অবহেলা করায় মাশরাফি তাকে সতর্ক করেছেন। একজন জন প্রতিনিধি হিসেবে সে অধিকার তার রয়েছে। এরপরও চিকিৎসক সমাজের অনেকেই তার সমালোচনা করেছেন। অনেক ধরনের কটু কথাও শুনতে হয়েছে। এর উত্তরে মাশরাফি চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেছেন, ভুল হলে ক্ষমা করবেন! এই কথার মধ্য দিয়েই মাশরাফির মহত্ব ফুটে ওঠে।

আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে শচীন টেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলি, ধোনি, বিরাট কোহলিদের প্রায়শ দেবতাদের পাশাপাশি পূজা করেন অনেকেই! আবার কেউ কেউ মেসি-রোনালদোকেও দেবতাতুল্য ভাবেন। কিন্তু কেন? কারণ, দেবতারা যেমন পূজারিদের আনন্দ এনে দেন, খুশি এনে দেন, তৃপ্তি এনে দেন, চাওয়া-পাওয়া পূরণ করেন— এরাও অনেকটা তেমনই করেন। মাশরাফি-সাকিব-তামিমরা-মুশফিকরা আমাদের কাছে ভারতের টেন্ডুলকার-কোহলিদের মতোই পূজনীয়। এটাকে কেউ স্বীকার করবেন, কেউ করবেন না; কিন্তু মনের ভেতরে মানবেন সবাই। মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা সম্ভবত বাঙালির হৃদয়ে এইসবগুলো নামের অগ্রভাগে থাকবেন, আছেন।




মাশরাফির বিশেষত্ব কোথায়? এর উত্তর এক কথায় দেওয়া সম্ভব নয়। তবে এভাবে বলা যায়— মাশরাফির বিশেষত্বের অভাব কই? শুধু এদেশে নয়, সারা বিশ্বে মাশরাফি একজনই। যিনি সাতবার অস্ত্রোপচারের বিছানায় শুয়েছেন, হাঁটু কাঁটা-ছেড়া করেছেন; আবার মাঠে ফিরেছেন। ব্যথায় জর্জরিত হাঁটুতেই পট্টি বেঁধে খেলেছেন। বল করেছেন, উইকেট তুলেছেন আর দলকে জিতিয়েছেনও! একবার নয়, দু’বার নয়, অনেক বার।

মাশরাফি একটি নাম, যেটি দলের সঙ্গে ট্যাগ করা থাকলে আমরা অনেকটাই নিশ্চিত হই। বুঝি এবার কিছু একটা হবে! মাশরাফি থাকলে দলের সতীর্থরাও জয় নিয়ে দুচিন্তা করেন না। মাশরাফির সাহস তিনি নিজেই। তিনি ভাঙেন, মচকান, কিন্তু মাঠ ছেড়ে যান না কখনো; তিনি কখনো হেরে যান না।

২০১১ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ভারতের সঙ্গে যৌথ আয়োজক ছিল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠের সেই বিশ্বকাপে খেলতে পারেননি মাশরাফি। নিজ দেশের মাঠে বিশ্বকাপ খেলতে না পারা কতটা কষ্টের? কজন আছে সেই বেদনা সহ্য করে পুনরায় খেলায় ফিরতে পারেন? মাশরাফি ফিরেছেন, দুর্দান্ত ভাবে। এমন দৃঢ় প্রত্যয় নিয়েই ফিরেছেন যার প্রভাবে পরের দুই বিশ্বকাপে তার নেতৃত্বেই খেলছে বাংলাদেশ। তিনি জানেন, দুঃসময় কেটে গেলেই সুসময় আসবে।

দলের ক্রান্তি লগ্নে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া নেতার বড়গুণ। স্নায়ুক্ষয়ী উত্তেজনার ম্যাচে সঠিক সময়ে যথার্থ সিদ্ধান্তটি আসে ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিকের কাছ থেকে। প্রতিপক্ষের উইকেট পড়ছে না তো পড়ছেই না? হঠাৎ করে দেখবেন, মাশরাফিই দৌড়াচ্ছেন বল হাতে। কারণ মাশরাফি জানেন তখন তাকেই প্রয়োজন। আর তিনি পথটা দেখাতে পারলে বাকিরাও ঝাঁপিয়ে পড়বে বাঘের হিংস্রতা নিয়ে। যথাসময়ে যথা আঘাত করে প্রতিপক্ষকে চমকে দেন তিনি বারবার।

২০১৫ বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ ক্রিকেটদল কেমন ছিল, কী অবস্থায় ছিল— আমরা জানি। কিছু ম্যাচ আমরা জিততাম, বেশিরভাগ হারতাম। সেই বিশ্বকাপে এমন থাকা মাশরাফি আরেক বিশ্বকাপে কী করে ফেললেন? একটা ভঙ্গুর দলকে তিনি টেনে নিয়ে গেলেন কোয়ার্টার ফাইনালে! কী আশ্চর্য, দলের প্রত্যেকের মধ্যেই তখন টগবগ করছে আত্মবিশ্বাস। যে দল বিদেশের মাটিতে জয়েরই দেখা পায় না, সেই দলটাই তুলে নিল একের পর এক জয়। বিশ্ব অবাক তাকিয়ে দেখল লাল-সবুজের আশ্চর্য উত্থান! মাঠে মাশরাফি, গ্যালারিতে মাশরাফি, কমেন্ট্রিবক্সের আলোচনায়ও মাশরাফি।

মাশরাফি ক্রিকেটের নতুন নেতা- দেখল বিশ্ববাসী। সেই থেকে শুরু। তারপর দেশের মাটি হোক আর বিদেশের মাটি, এই কয়েক বছরে বাংলাদেশ ছাড় দেয়নি কোনো দলকে। ভারত-পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা এশিয়ার তিন বিশ্বচ্যাম্পিয়নকেই ঘুরে ঘুরে পরাজয়ের তেতো স্বাদ গিলিয়েছে মাশরাফির দল। হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড আর ওয়েস্টইন্ডিজকে। টানা পাচঁটি সিরিজ জেতার মতো ঘটনাও ঘটিয়েছেন মাশরাফি। সর্বশেষ তার নেতৃত্বেই আয়ারল্যান্ডের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে বাংলাদেশ কোনো আন্তর্জাতিক ট্রফি জেতে।

বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তরা কত সকাল আর কত বিকেল মুখিয়েছিল এমন একটি বাংলাদেশ দেখার জন্যে। আমাদের প্রিয় ম্যাশ সেই লড়াকু আর অপরাজেয় মানসিকতার বাংলাদেশ ভক্তদের উপহার দিয়েছে। বাংলাদেশ এখন খেলবে, লড়বে, জিতবে। একটি বিশ্বকাপ জিতুক আর না জিতুক তাতে মাশরাফি ক্ষয়ে যাবেন না। মাশরাফি বীর বাঙালি, তিনি লড়তে জানেন, জিততে জানেন। তাই মাশরাফির জন্য আমাদের প্রার্থনা চাই; সবার সম্মিলিত প্রার্থনা। হাঁটুর বেদনা মাশরাফিকে যেন কাবু করতে না পারে, মাশরাফি যেন সোজা হয়ে দাঁড়ায়। তিনি দাঁড়ালে বাংলাদেশ দাঁড়াবে।

বিশ্বকাপের মহারণের ঠিক আগে কী যেন সংবাদ বাতাসে ভেসে আসছিল গত দুদিন- মাশরাফি নাকি হাঁটুর ব্যথায় কাতরাচ্ছে! ইনজুরি নাকি তাকে মাঠ থেকে ছিটকে ফেলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত! আসুন প্রিয়দেশবাসী, আমরা সকলে প্রার্থনা করি, করুণাময় আল্লাহ যেন মাশরাফির হাঁটু ভালো রাখেন, তার হাঁটুতে যেন জোর দেন, তিনি যেন দৌড়াতে পারেন। তিনি যেন জয় এনে দিতে পারেন আমাদের। একটা বিশ্বকাপ না হোক, অন্তত অনেকগুলো জয় চাই আমরা। আল্লাহ যেন তাকে সেই শক্তি দেন, সেই সাহস দেন।

লেখক :সাংবাদিক, ই-মেইল : majadulhaque786@gmail.com

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status